somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান,আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং আমি আওয়ামীলীগার কিন্তু আমি অন্যায়ের বিপক্ষে -

২০ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার বাবা আওয়ামীলীগের স্থানীয় (বিয়ানীবাজার,সিলেট) অন্যতম নেতা ছিলেন।বঙ্গবন্ধুর অন্ধ অনুসারী ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সরাসরি যুদ্ধ করেছিলেন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জাতিয় চার নেতা নিহত হওয়ার পর জাতিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে স্বেচ্ছায় প্রায় গৃহবন্ধি জীবন কাটিয়ে মারাযান।বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার,যুদ্ধাপরাধের বিচার এই বিষয় গুলো নিয়ে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তাঁরও আফসুস ছিলো কিন্তু দেখে যেতে পারেননি।আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের অযোগ্যতা ও নেতৃত্বশুন্যতা তাঁকে নিরাশ করেছিলো কিন্তু কিছু বলতেন না বা বলার প্রয়োজন মনে করতেন না।আমি সেই বাপের ছেলে,কেমন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহিরে অন্য কিছু চিন্থা করবো;তবে আমার বাবা মনে-প্রাণে ঈমানদার মোসলমান ছিলেন,নামাজ-রোজা করে, কলিমা পড়ে মারা গেছেন।সেই বাপের ছেলে কেমন করে নাস্তিক হই বা নাস্তিকদের সঙ্গ ধরি সেই হিসেবও মিলাতে পারিনা।তাছাড়া আমার বাবার আরেকটি পরিচয় হলো,তৎকালিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ‘পাকিস্তান রক্ষার’ যুদ্ধ করেছিলেন।এখন আমার নিজের প্রতি নিজের প্রশ্ন যদিও প্রশ্নটি সবার মনের এবং বহুবার বহুভাবে উত্থাপিত তা হলো- আমাদের বাবারা যে দেশ আমাদের জন্য যুদ্ধ করে স্বাধীন করে গেলেন সে’ দেশ কি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন,অর্থাৎ যে কারণে তাঁরা পাকিস্তান থেকে আমাদেরকে মুক্ত করে রেখে গেলেন সে কারণ গুলো কি দূর হয়েছে? বলতে পারেন কী কারণ? অজস্র কারণের মধ্যে সব চেয়ে প্রধান প্রধান কারণ ছিলো- পাকিস্তানিরা আমাদের প্রতি সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করতো।আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ছিলোনা,সকল বিষয়ে ছিলো তাদের নিয়ন্ত্রন।এক কথায় আমরা ছিলাম নিজ দেশে পরবাসী।তাই আমাদের নেতারা আমাদের বাবাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হলেন, প্রাণ দিয়ে হলেও দেশ স্বাধীন করতে হবে।যে দেশে আমরা আমাদের পছন্দের নেতা নির্বাচিত করতে পারবো,আমাদের স্বজাতির সরকার হবে যে আমাদের সকল দুঃখ-কষ্ট বুঝবে এবং সকল চাহিদা ও সকল সমস্যার সমাধান করবে,আমাদের দেশে কোনো জুলুম-অত্যাচার থাকবেনা – থাকবেইবা কেমন করে?কারণ আমরাতো আর অন্য জাতির কেউ না সকলেই একই জাতির,একই মায়ের সন্তান। ভাই ভাইয়ের উপর কি জুলুম করতে পারে?জনগনের এই বোধ,এই প্রত্যাশা ও এই স্বপ্নের নাম নেতারা এবং বুদ্ধিজীবীরা দিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’।আর সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এই চেতনায় একজন নেতার একটি মন্ত্রের মত নির্দেশ “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” মেনে একটি পতাকা ঊর্ধ্বে উড়ানোর লক্ষ্যে, “একটি শিশুর হাসির জন্য”যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি মুষ্টিবদ্ধ শক্তিতে গর্জে উঠলো “জয় বাংলা” এবং ছিনিয়ে আনলো ‘বাংলার জয়’। কিন্তু স্বাধীনতার চেতনা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংজ্ঞা এখন পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে, হয়ে গেছে গণতন্ত্রের বদলে ‘পরিবার বা দলিয় তন্ত্র’ ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতা’ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিবর্তিত হয়ে (এই বিবর্তন ‘ইউ টার্ন’ পদ্ধতিতে) বিকশিত হয়েছে ‘জংলী জাতীয়তাবাদে’।আর আমার এই বক্তব্যের প্রমাণ – (আগামী অংশে)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৪৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমার গল্পঃ মেঘের অনেক রং - যে মেয়েটিকে মেঘ বানিয়ে দেওয়া হলো

লিখেছেন রাজসোহান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭



সিনেমা শুরু হয় সবুজ দিয়ে। ওয়াইড ফ্রেমে পাহাড়, গা বেয়ে নেমে যাওয়া রাস্তা, আর রাস্তায় ছোট্ট একটা গাড়ি। ক্যামেরা কাটে গাড়ির ভেতরে। দুইজন মানুষ কথা বলছেন, নিতান্ত সাধারণ কথা। আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×