somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিথাগোরাসের উরু

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অর্ধবৃত্তের বক্র অংশের ধার ঘেঁষে ইতোমধ্যেই সমবেত হয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী। ভ্রাতৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শাখা ম্যাথমেটিকোইর অন্তর্ভুক্ত তারা, অর্জন করেছে স্বচক্ষে গুরুকে দেখা ও তাঁর ভাষণ শোনার বিরল কৃতিত্ব। এর আগে তারা ছিল ভ্রাতৃগোষ্ঠীর আরেকটি শাখা অ্যাকৌজমেটিকোইর সদস্য, পাঁচ বছর তীব্র কৌতূহলে শুধু গুরুর ভাষণই শুনে গিয়েছিল, পর্দার আড়ালের মানুষটিকে দেখতে পায়নি কখনো, পারেনি কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে, কারণ তার জন্য আগে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।

অবশ্য গুরুর দর্শনলাভ করা, তাঁর কাছে বিদ্যাশিক্ষার করার জন্য পাঁচ বছর ক্ষুদ্র সময়, ভাবে তারা। জীবন্ত কিংবদন্তি গুরু তাদের, সূর্যদেবের অবতার, মর্ত্যধামে ধারণ করে আছেন মানবদেহ। আর এ বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে যখন অ্যাপোলোর সন্ন্যাসী অ্যাবারিস, যিনি জাতিতে ছিলেন শক, যিনি বাস করতেন উত্তুরে হাওয়ার আরও উত্তরে, তাঁর জন্মভূমি উদঞ্চ বা উদচ দেশে, যার ফলে তিনি পরিচিত ছিলেন উদীচী অ্যাবারিস নামে, সাক্ষাত করে গিয়েছিলেন গুরুর সঙ্গে। লোমহর্ষক সেই ঘটনাটি ছিল এরূপ—

উদচদেশে স্থাপিত অ্যাপোলোর মন্দিরের জন্য অর্ঘ্য হিসেবে স্বর্ণখণ্ড গ্রহণ করতে সেসময় গ্রিসের নগর‑রাষ্ট্রসমূহ ভ্রমণ করছিলেন অ্যাবারিস, ফেরার পথে ক্রোতোনায় যাত্রাবিরতি করেন তিনি, কারণ গুরুর নানাবিধ অলৌকিক কাহিনি তাঁর কর্ণগোচর হয়েছিল। ক্রোতোনায় পৌঁছে গুরুর চারপাশে পরমপবিত্রসব সংসর্গ অবলোকন করে এবং পূর্ব থেকে সেসব বিষয় তিনি অবগত ছিলেন, তার উপর ভিত্তি করে বয়স্য অ্যাবারিস হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন নিমেষে, গুরু হচ্ছেন সাক্ষাত অ্যাপোলো, যার সন্ন্যাসী অ্যাবারিস নিজে। অর্ঘ্য হিসেবে অ্যাবারিস তখন গুরুকে নিবেদন করেন তাঁর পবিত্র সেই শর, যা তিনি নিয়ে এসেছিলেন উদচদেশ থেকে, সুদীর্ঘ যাত্রাপথে প্রতিরক্ষা হিসেবে, যার উপর ভর দিয়ে অ্যাবারিস পাড়ি দিতেন নদী, হ্রদ, জলাভূমি কিংবা গিরিপর্বতের মতো অগম্য সকল এলাকা, যার দ্বারা সম্পন্ন করতেন তিনি আত্মার শুদ্ধিকরণ, বিতাড়িত করতেন নগর থেকে অশুভ বায়ু, মারী ও মড়ক।

আলোকসামান্য সেই উপহার গুরু গ্রহণ করেন অপরিসীম নির্লিপ্ততায়, শরের অভিনবত্বে একবিন্দু বিস্ময় প্রকাশ না করে, উপহার প্রদানের কারণ বিষয়ে ধূলিকণা পরিমাণ কৌতূহল প্রদর্শন না করে, কারণ তিনি তো প্রকৃতই দেবমানব। কেবল অ্যাবারিসকে আড়ালে আহ্বান করে নিজের পায়ের কাপড় উত্তোলন করে গুরু প্রদর্শন করেছিলেন তাঁর অলৌকিক সেই স্বর্ণ উরু, যা নিয়েই তিনি লাভ করেছিলেন মানবজন্ম। অবশ্য অ্যাবারিস ব্যতীত সাধারণ মানুষও পরে গুরুর স্বর্ণ উরু দেখার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছিল একবার, যখন একদা সবাই ব্যস্ত ছিল অলিম্পিক উদযাপনে, আর সেসময় ভূমি থেকে গাত্রোত্থান করার সময় গুরুর উরু প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল ক্ষণিকের তরে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিংবা সাধারণ মানুষের পক্ষে শোভন নয় অন্য কাউকে নিজের উরু প্রদর্শন করা, তবে উপরোক্ত ঘটনা দুটি ছিল অ্যাবারিস ও সাধারণ মানুষের প্রতি নিছক দৈব অনুগ্রহ।

(সংকলিত / টিজার)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১:৫৭
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×