অর্ধবৃত্তের বক্র অংশের ধার ঘেঁষে ইতোমধ্যেই সমবেত হয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী। ভ্রাতৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শাখা ম্যাথমেটিকোইর অন্তর্ভুক্ত তারা, অর্জন করেছে স্বচক্ষে গুরুকে দেখা ও তাঁর ভাষণ শোনার বিরল কৃতিত্ব। এর আগে তারা ছিল ভ্রাতৃগোষ্ঠীর আরেকটি শাখা অ্যাকৌজমেটিকোইর সদস্য, পাঁচ বছর তীব্র কৌতূহলে শুধু গুরুর ভাষণই শুনে গিয়েছিল, পর্দার আড়ালের মানুষটিকে দেখতে পায়নি কখনো, পারেনি কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে, কারণ তার জন্য আগে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
অবশ্য গুরুর দর্শনলাভ করা, তাঁর কাছে বিদ্যাশিক্ষার করার জন্য পাঁচ বছর ক্ষুদ্র সময়, ভাবে তারা। জীবন্ত কিংবদন্তি গুরু তাদের, সূর্যদেবের অবতার, মর্ত্যধামে ধারণ করে আছেন মানবদেহ। আর এ বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে যখন অ্যাপোলোর সন্ন্যাসী অ্যাবারিস, যিনি জাতিতে ছিলেন শক, যিনি বাস করতেন উত্তুরে হাওয়ার আরও উত্তরে, তাঁর জন্মভূমি উদঞ্চ বা উদচ দেশে, যার ফলে তিনি পরিচিত ছিলেন উদীচী অ্যাবারিস নামে, সাক্ষাত করে গিয়েছিলেন গুরুর সঙ্গে। লোমহর্ষক সেই ঘটনাটি ছিল এরূপ—
উদচদেশে স্থাপিত অ্যাপোলোর মন্দিরের জন্য অর্ঘ্য হিসেবে স্বর্ণখণ্ড গ্রহণ করতে সেসময় গ্রিসের নগর‑রাষ্ট্রসমূহ ভ্রমণ করছিলেন অ্যাবারিস, ফেরার পথে ক্রোতোনায় যাত্রাবিরতি করেন তিনি, কারণ গুরুর নানাবিধ অলৌকিক কাহিনি তাঁর কর্ণগোচর হয়েছিল। ক্রোতোনায় পৌঁছে গুরুর চারপাশে পরমপবিত্রসব সংসর্গ অবলোকন করে এবং পূর্ব থেকে সেসব বিষয় তিনি অবগত ছিলেন, তার উপর ভিত্তি করে বয়স্য অ্যাবারিস হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন নিমেষে, গুরু হচ্ছেন সাক্ষাত অ্যাপোলো, যার সন্ন্যাসী অ্যাবারিস নিজে। অর্ঘ্য হিসেবে অ্যাবারিস তখন গুরুকে নিবেদন করেন তাঁর পবিত্র সেই শর, যা তিনি নিয়ে এসেছিলেন উদচদেশ থেকে, সুদীর্ঘ যাত্রাপথে প্রতিরক্ষা হিসেবে, যার উপর ভর দিয়ে অ্যাবারিস পাড়ি দিতেন নদী, হ্রদ, জলাভূমি কিংবা গিরিপর্বতের মতো অগম্য সকল এলাকা, যার দ্বারা সম্পন্ন করতেন তিনি আত্মার শুদ্ধিকরণ, বিতাড়িত করতেন নগর থেকে অশুভ বায়ু, মারী ও মড়ক।
আলোকসামান্য সেই উপহার গুরু গ্রহণ করেন অপরিসীম নির্লিপ্ততায়, শরের অভিনবত্বে একবিন্দু বিস্ময় প্রকাশ না করে, উপহার প্রদানের কারণ বিষয়ে ধূলিকণা পরিমাণ কৌতূহল প্রদর্শন না করে, কারণ তিনি তো প্রকৃতই দেবমানব। কেবল অ্যাবারিসকে আড়ালে আহ্বান করে নিজের পায়ের কাপড় উত্তোলন করে গুরু প্রদর্শন করেছিলেন তাঁর অলৌকিক সেই স্বর্ণ উরু, যা নিয়েই তিনি লাভ করেছিলেন মানবজন্ম। অবশ্য অ্যাবারিস ব্যতীত সাধারণ মানুষও পরে গুরুর স্বর্ণ উরু দেখার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছিল একবার, যখন একদা সবাই ব্যস্ত ছিল অলিম্পিক উদযাপনে, আর সেসময় ভূমি থেকে গাত্রোত্থান করার সময় গুরুর উরু প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল ক্ষণিকের তরে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিংবা সাধারণ মানুষের পক্ষে শোভন নয় অন্য কাউকে নিজের উরু প্রদর্শন করা, তবে উপরোক্ত ঘটনা দুটি ছিল অ্যাবারিস ও সাধারণ মানুষের প্রতি নিছক দৈব অনুগ্রহ।
(সংকলিত / টিজার)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


