somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মেয়েদের অসহায়ত্ব, কষ্ট কি এরকম থাকে না???"

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"There are only three things to be done with a woman. You can love her, suffer for her, or turn her into literature."
----Henry Miller
।
আজ মেয়েটার এই বাড়িতে শেষ রাত। কাল থেকে সে আর তার নিজের কাপে চা খেতে পারবে না, পারবে না মায়ের সাথে রাগ করে সারা রাত ছাদে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কিংবা পারবে না বাবাকে আর লিপস্টিক কিনে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে।
।
মেয়েটার ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যাবে চিরদিনের মত। তাকে কাল থেকেই তার নামের সাথে আরও একটা নামের অংশ যুক্ত করতে হবে। হয়তোবা সেটা হাসান, উদ্দিন, খালেদ যেকোন কিছু হতে পারে। নামটা কি সে মন থেকে যুক্ত করতে পারবে নাকি চিরজীবন নামটা কাগজে কলমেই থেকে যাবে?
।
ছাদে বসে কথাগুলো চিন্তা করতে করতে কখন যে চোখের দু'কোন ভিজে গেছে মেয়েটা খেয়ালই করে নি। পূর্বের আকাশও ফিকে হতে শুরু করেছে। নিচে তাকিয়ে দেখল প্যান্ডেলের লোকজন এসে গেছে। বাচ্চারা এখনও ঘুম থেকে ওঠে নি তাই বাড়িটা এখনও নিরব।
।
সুর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে কেমন যেন লজ্জা করতে লাগল মেয়েটার। মা, বাবা ভাই বোনের সামনে যেতে কেমন যেন লজ্জা করছে। মাকে খুব ব্যস্তভাবে ছোট কিশোরীর মত ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষন পর মেয়েটাকে তার বান্ধবীরা জোর করে বউ সাজাতে নিচের ঘরে নিয়ে গেল।
।
অনেকক্ষন ধরে মেয়েটা বউ সেজে বসে আছে একা একা। খুব বিরক্ত
লাগছে বসে বসে। মাথাটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এতক্ষন কত হইচই হচ্ছিল হঠাৎ কে যেন বর এসেছে বর এসেছে বলে চিৎকার শুরু করল আর সব সেদিকে দৌড় দিল।
।
মেয়েটার কাছ থেকে কবুল শোনার জন্য কাজী সাহেব বসে আছেন। কবুল বলতে হবে চিন্তা করেই মেয়েটার গলা শুকিয়ে গেল। মনে হল কে যেন গলা টিপে ধরেছে। বুকটা খালি হয়ে গেল নিমেশে। চোখ ফেঁটে পানি বের হওয়ার আপ্রান চেষ্টা করতে লাগল। এই একটা শব্দ যে তাকে একটা পরিবার থেকে সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিবে। সে যে তার পরিচিত সব আদর থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।
।
গাড়িতে ওঠার সাথে সাথে তার স্বামী তার হাতে আলতো করে মৃদু চাপ দিল। সে কান্নায় লেপ্টে যাওয়া কাজল কালো চোখে তার স্বামীর দিকে তাকাল। স্বামী মৃদু হাসি দিয়ে বোঝালো এত কান্না কিসের আমি আছি না??
মুহূর্তে মেয়েটার সকল দু:খ দূর হয়ে গেল। তাইতো আমার উনি আছে না?
।
বাসর ঘরে মেয়েটা বধূ সেজে বসে আছে। ননদটা এত দুষ্টু যে বলার কথা নয়। হঠাৎ দরজায় নক করার শব্দ হল খুব মৃদুভাবে। দরজা খোলা তারপরেও কে নক করছে চিন্তা করতে করতে দেখল পাগড়ী পড়া অবস্থায় তার স্বামী ঘরে ঢুকছে। একটু লজ্জা পেয়ে মেয়েটা মুখ আরও নিচু করে ফেলল। স্বামী এসেই তাকে সালাম দিল। সে আরও অবাক দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকল। সালামের জবাব দিতেও ভুলে গেল।
।
মেয়েটা সেদিন প্রথম তাহাজ্জুদ নামায পড়ল তার স্বামীর সাথে। মোনাজাতে দু'চোখের অশ্রু ঝড়াল। এরকম স্বামী পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাল সৃষ্টিকর্তাকে। সেদিন থেকে মেয়েটার সকাল হয় স্বামীর ডাকে ফজরের নামায পড়ার মাধ্যমে। মেয়েটাকে শত ব্যবস্তার মাঝেও প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে স্বামীর ফোন রিসিভ করে বলতে হয় যে তার নামায পড়া হয়েছে।
।
হয়তোবা সৃষ্টিকর্তা মেয়েটাকে বিভিন্ন পরীক্ষার মাঝে ফেলবেন। অনেক কষ্টকর পরীক্ষাও হয়তোবা মেয়েটাকে দিতে হতে পারে। তবুও মেয়েটা বুকে সাহস পাবে পাশে তার স্বামী আছে। পাশে তার সাহস, তার শক্তি তার নিরাপত্তা সব কিছুই আছে আর সেটা হল তার স্বামী।
।
হয়তোবা এরচেয়েও তীব্র ভালবাসার বাধন ছিড়ে সব মেয়েকে শশুর বাড়িতে আসতে হয়। হয়তোবা কোন কোন মেয়েকে এরচেয়েও বেশী ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে বাপের বাড়ি ছাড়তে হয়।
কিন্তু খুব কষ্ট হয় যখন শুনি নব বধু স্বামীর প্রহারে নিহত, কিংবা যৌতুকের দায়ে নব বধুকে পুড়িয়ে হত্যা। কিংবা স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে নতুন বধুর আত্মহনন।
।
আমার কিছু প্রশ্ন। আপনি কি জানেন আপনার স্ত্রী কতটা কষ্ট বুকে চেপে রেখে আপনার সংসার করছে? আপনি কি জানেন শুধুমাত্র আপনার হাতটা ধরে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারলেই মেয়েটার সব কষ্ট দুর হয়ে যাবে? আপনার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরনের আগে একবার চিন্তা করবেন আপনার বোনকেও পরের বাড়িতে পাঠাতে হবে। ভবিষ্যতে আপনার মেয়েকেও পরের বাড়ি পাঠাতে হবে।
।
যে মেয়েটা শুধু আপনার হাত সারাজীবন তার হাতের সাথে যুক্ত পাবে এই ভরসায় সব সম্পর্ক ছিন্ন করে এক কাপড়ে বেড়িয়ে আসল, যে আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে সকল কষ্ট ভুলার জন্য আপনার হাতটা শক্ত করে ধরল আপনি কি পারেন না তার হাতটা শক্ত করে ধরে বলতে এত কান্না কিসের আমি আছি না???


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×