somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মামুন রেজওয়ান
আরব্য উপন্যাসের সেই মরুচারী যে সত্যান্বেষণে জীবন উৎসর্গ করে। সেই উপন্যাসের চরিত্র নিজের ভিতরে লালন পালন ও প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এই পথচলা।

"উন্নয়নের মূলমন্ত্র চেতনা...................."

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত ১১:৪৫ বাজার সাথে সাথেই বিশাল একটা ফুলের তোড়া নিয়ে বেরিয়েছিলাম শহীদ মিনারে দিব বলে। আজকের দিনে একজন চেতনাধারী সুনাগরিক হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব। আজকে আমি হিন্দিতে যতই মাত করতে পারি না কেন উর্দু আমার জন্য রাজাকারের সিল। তাই উর্দুদে জুনায়েদ জামশেদের গান মনের ভিতর বেজে উঠলেও মনকে টিপে ধরতে হয়েছে। কারণ আমি চেতনার ধারক বাহক। একইসাথে চেতনা ফেরী করা আর উর্দুতে গান আমার জন্য নিষিদ্ধ।
.
যাইহোক রাস্তায় যেতে যেতে পাশের একটা হোটেল থেকে শেখ মুজিবর রহমানের ৭ঈ মার্চের ভাষন শুনতে পাচ্ছি। যদিও মনে হঠাৎ উঁকি দিয়েছিল ৭ই মার্চের সাথে ৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারির কি সম্পর্ক। কিন্তু আবার মনকে টিপে দিয়েছি কারণ আমি যে চেতনার পোশাক পড়ি সেটা আমার নিজের না। আরেকজনের দেওয়া চেতনার পোশাক পরে আর যাই হোক নিজের ভাবনা বাস্তবায়ন করার সুযোগ থাকে না।
ও বলতে ভুলে গেছি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষনের সাথে সাথে হিন্দিতে কি একটা ডিজে গান চলছে। হিন্দিতে ডিজে গান আর বাংলায় রক্ত উত্তপ্ত করা ভাষনের কম্বিনেশন খুব একটা খারাপ নয়।
কেমন একটা তাল খুঁজে পাচ্ছিলাম গানের সাথে ভাষনের। হয়তো শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন আমরা তার চেতনাকে এতটা প্রবলভাবে আঁকড়ে ধরতে পারব।
.
হোটেল থেকে এক কাপ চা পান করে আরও কিছুটা পথ যেতে হবে। হাতে ধরা ফুলের তোড়ার কয়েকটা গাঁদা ফুল কেমন কালো কালো হয়ে গেছে। চিন্তা করছি এতে ভাষা শহীদরা আবার মাইন্ড করবে নাতো? ফুলগুলো কি পরিবর্তন করব? মনে হয় পরিবর্তন করার কোন দরকার নেই কারন এক ঘন্টা পরেই এই ফুলের তোড়াটা ছুড়ে ফেলা হবে ডাস্টবিনে। এই এক ঘন্টার জন্য ভাষা শহীদরা কিছু মনে করবে না।
ফুলের চিন্তা বাদ দিয়ে আর-রহমানের কম্পোজ করা "জ্যায় হো" গানটা গুনগুন করে গাইতে গাইতে মিনারের নিকট পৌঁছে গেলাম।
.
এবার ফুল দেওয়ার পালা। শ্রদ্ধা, এবং চেতনার ভারে ঘাঁড়টাকে নুইয়ে রাখতে হবে এখন। নয়তো যথাযথ সম্মান জানানো হয় না ভাষা শহীদদের। ভুল করে চপ্পল পড়ে উঠে গিয়েছিলাম মিনারের সিঁড়িতে। পরক্ষনেই জিভে কামড় দিলাম। ইশ! কি করলাম ভাষা শহীদদের এভাবে অসম্মান! হঠাৎ মনে পড়ল আরে গতকালকেতো আমার দুই বন্ধুকে এখানে জুতা পড়ে সিগারেট খেতে দেখেছিলাম। হয়তো এবারও ভাষা শহীদদের রক্তচক্ষুতে ভষ্ম হতে হবে না আমায়। জুতা পড়েই পোজ দিলাম ছবি তোলার। কারণ আমি চেতনা ফেরী করি। আর চেতনা ফেরী করার প্রথম শর্ত হল চেতনা আপনার পাশের মানুষকে দেখাতে হবে। সেটা যেভাবেই হোক। নয়তো নিশ্চিত আপনি রাজাকার ট্যাগ খাবেন।
.
ফিরে আসছি গুনগুন করতে করতে সেই "জ্যায় হো" গলার ভিতর নিয়ে। সেই আগের হোটেলের সামনে আবার আসলাম। এখন শুধু হিন্দি গানই বাজছে। ভাষনটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। হয়তো ভাষনটা ১২:০১ থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত বাজানোর নিয়ম। ও এসব নিয়ম কানুন আবার আমাদের জন্য না। আমরা যারা চেতনা ফেরী করি তাদের কাজ শুধু ঘাঁড় নিচু করে ফুল দেওয়া। আর হিন্দিতে "ভারাত হামারি দোস্ত হ্যায়" জপ করা। এটাও চেতনার একটা অংশ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বরাজনীতি চলে স্বার্থের হিসেবে, আমরা চলি অন্ধ আবেগে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২২


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হলো বিশ্লেষণ। চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম নিয়ে যতই হাহাকার থাকুক, ভূরাজনীতি নিয়ে জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। চায়ের দোকানে বসে যিনি নিজের বাসার গ্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×