(ক্ষনিকের ডায়েরীর পাশাপাশি ইন-শা-আল্লাহ আরও একটা ধারাবাহিক শুরু করতে যাচ্ছি। সবার কাছে দো'আ প্রার্থী। আর আজকের লেখাটার ব্যাপারে ভুলত্রুটি হলে ক্ষমাপ্রার্থী)
.
বার্ধক্য এসে গেলে শরীরের প্রত্যেকটা স্নায়ুর কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সিনাপ্সের সংযোগ অত্যন্ত ধীর গতি সম্পন্ন হয়ে যায়। প্রত্যেকটা স্নায়ুর উজ্জীবিত হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে যায়। শ্রবন শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, চলন শক্তি সব কমে যায়। কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। হঠাৎ করে কথাগুলো চিন্তা করছিলাম আর ভাবছিলাম আজকে আমার বাহুতে সামান্য জোর আছে বলে যে বয়স্ক বাবার বয়সী লোকটাকে আঘাত করলাম একসময় আমার অবস্থাওতো সেরকম পর্যায়ে পৌঁছাবে। তখন আমার অনুভূতিটা কেমন হবে? প্রশ্নটা আমাকে মুন্নি সাহা করে নি। নিজেকেই নিজে করলাম। আসলে ভেতরটা শিঁউড়ে উঠল। কারণ আমরা এমন একটা সমাজ তৈরী করছি যেখানে শুরু এবং শেষ কথা হয়তো বাহুবল নয়তো অর্থবল। বাহুবলতো টুকরো টুকরো হবেই শেষ বয়সে প্রত্যেকের। হয়তো কিছু মানুষ অর্থবলে বেঁচেও যাবে কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কি হবে?
.
এই প্রশ্নে আমি যখন আতংকিত তখন
ইসলাম আমাকে বলল " আমর ইবনে শুআইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি (শুআইব) তাঁর (আমরের) দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে আমার দলভুক্ত নয়, যে ব্যাক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান জানে না। " আবু দাঊদের এক বর্ণনায় আছেঃ আমাদের বড়দের অধিকার জানে না।"
[১]
.
আমার রাসূল (সাঃ) আমাকে তাঁর দল থেকে বহিস্কৃত করার কথা বলে দিয়েছেন। যদি আমি আমার ছোটদের স্নেহ এবং আমার চেয়ে বড়দের অধিকার বা সম্মান সম্পর্কে সচেতন না হই। চিন্তা করা যায়! সম্পূর্ণ দলের বাহিরে চলে যেতে হবে। অর্থাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে ইসলামের বাইরে বলা চলে। হয়তো অনেকেই বলবেন মানবিকতার দিক বিবেচনা করে হলেও আমাদের উচিৎ বয়সে বড়দের সম্মান জানানো। কিন্তু ইসলাম আমাকে কোন বিবেচনার দিক দিয়েও যাওয়ার সুযোগ দেয় নি, সরাসরি সম্মান করতে নির্দেশ দিয়েছে। এবং ইসলাম আমাকে এই ব্যাপারে কোন ছাড় দিবে না।
.
[১] তিরমিযি ১৯২০, আহমদ ৬৬৯৪, ৬৮৯৬, ৭০৩৩
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৮ রাত ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



