নাস্তিক প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেই তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কি সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন?"
একজন ছাত্র বেশ আত্নবিশ্বাসের সাথেই উত্তর দিলো, জ্বী স্যার। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন।
"তাই নাকি! ছাত্রটির উত্তর শুনে মুচকি হাসেন প্রফেসর। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই সবকিছু তৈরি করেছেন? তুমি ভেবে বলছো?"
ছাত্রটি আগের মতো আত্নবিশ্বাসের সাথে হ্যা বোধক উত্তর দিতেই প্রফেসর আবারও প্রশ্ন করেন, "সৃষ্টিকর্তাই যদি সবকিছু তৈরি করে থাকেন তাহলে উনি তো খারাপকেও সৃষ্টি করেছেন। তোমার উত্তর অনুযায়ী যেহেতু খারাপের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা কি সেটা আমাদের কাজের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই খারাপ। কারণ আমাদের ভালো-মন্দ সব গুণ উনি তৈরি করেছেন।"
প্রফেসরের এমন কথা শুনে সব ছাত্র চুপ হয়ে গেলো। কেউ কিছু বলছে না।
ছাত্রদের চুপ হয়ে যাওয়া দেখে প্রফেসর নিজের উপর বেশ সন্তুষ্ট হলেন।
কিছুক্ষণ পর আরেকজন ছাত্র উঠে দাঁড়ালো। প্রফেসর আমুদে ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করেন, কিছু বলতে চাও? ছাত্রটি হাসি মুখে প্রফেসরের কাছে জানতে চায়, "আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি স্যার?"
অবশ্যই করতে পারো। প্রফেসর অনুমতি দিতেই ছাত্রটি জিজ্ঞাসা করে- "স্যার, ঠাণ্ডা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে কি?"???
…
…
…
প্রশ্ন শুনে প্রফেসরের চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে। "কি গাধার মতো প্রশ্ন করো! ঠাণ্ডার অস্তিত্ব থাকবেনা কেনো? অবশ্যই ঠাণ্ডা অস্তিত্ব আছে। তোমার কি কখনও ঠাণ্ডা লাগেনি?"
এবার ছাত্রটি মুচকি হেসে উত্তর দেয়, সত্যি বলতে কি স্যার, ঠাণ্ডার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমরা যেটাকে ঠাণ্ডা বলি, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় সেটা আসলে তাপের অনুপস্থিতি। আমরা এই "ঠাণ্ডা' শব্দটিকে জাস্ট কম তাপ কিংবা তাপের অনুপস্থিতিকে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করি।
কিছুক্ষণ পর ছাত্রটি আবারো প্রশ্ন করে, "স্যার অন্ধকার বলে কিছু কি পৃথিবীতে আছে?"
প্রফেসর উত্তর দেন, কেনো থাকবে না! অবশ্যই অন্ধকারের অস্তিত্ব আছে।
ছাত্রটি সহাস্যে উত্তর দেয়, আপনার ধারণা ভুল স্যার। অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা আলোকে নিয়ে রিসার্চ করতে পারি, আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ মাপতে পারি, আলোর গতি বের করতে পারি। কিন্তু অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই বলেই আমরা অন্ধকার নিয়ে কোনো কিছুই করতে পারি না। সামান্য একটা আলোকরশ্মি অন্ধকার দূর করতে যথেষ্ঠ, কিন্তু অন্ধকার কখনও আলোকে গ্রাস করতে পারে না। কারণ অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি।
ছাত্রটি আবারও প্রশ্ন করে বসে। "স্যার, এবার বলেন খারাপের কি অস্তিত্ব আছে?"
প্রফেসর বেশ ক্রুদ্ধস্বরে উত্তর দেন, অবশ্যই আছে। প্রতিদিন কতো মানুষ খুন হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, এগুলো খারাপ না?"
ছাত্রটি বেশ জোরের সাথে উত্তর দেয়, "না স্যার। খারাপের কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা হচ্ছে ভালোর অনুপস্থিতি। এটা সেই ঠাণ্ডা এবং অন্ধকারের মতোই, মানুষের অন্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসার অনুপস্থিতিই এই খারাপ বা মন্দের অবস্থা তৈরি করে।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


