মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত মা, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংগঠক এই মহীয়সী নারী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বেই গত শতকের নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে করা সেই আন্দোলনই আজ এগিয়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। চলছে মানবতাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ। ইতোমধ্যে এই ঘৃণ্য অপরাধীদের অনেকেরই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে।
মুখে ক্যানসার নিয়েই লড়লেন একজন জাহানারা ইমাম। সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক হাসপাতালে কর্কট ব্যাধির সঙ্গে চূড়ান্ত বোঝাপড়া করার ক্ষণেও তিনি বিস্মৃত হলেন না স্বীয় কর্তব্য। এই সুন্দর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়ার অব্যবহিত আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রার্থী এ দেশের জনতার উদ্দেশ্যে কম্পিত হাতে লিখলেন তাঁর শেষবার্তা। পরম আস্থার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার দিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন গণমানুষের ওপর। দৃঢ়তার সঙ্গে শেষ বাক্যে লিখলেন, ‘জয় আমাদের হবেই’।
এটি তো জনগণের প্রতি শুধু একজন লেখক বা শহীদমাতা জাহানারা ইমামের বার্তা নয়, এটি ছিলো ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র আহ্বায়ক জাহানারা ইমামের শেষ নির্দেশ।
তিনি সব কূপমণ্ডূকতা, সংকীর্ণতা জয় করে নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘আলোর পথযাত্রীদের’ এবং তাঁর এই আন্দোলনের যোগ্যতম সমান্তরাল রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ইস্পাত-দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঐতিহাসিক ঘটনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। আজ জাহানারা ইমামের জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছি...

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



