সাম্প্রতিকালে এদেশে প্রমাণিত হয়েছে স্বয়ং মায়ের কোলও একজন শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। যাকে আপনি বিশ্বাস করে আশ্রয় হিসেবে চিন্তা করেছেন, সেই-ই আপনার ঘাতক কিংবা ধর্ষক, তা কি করে বুঝবেন? একজন ছাত্র বা ছাত্রী তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো বাবা-মা অথবা পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষকই একজন ছাত্রছাত্রীর জন্য যে কতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা পত্রিকার পাতা উল্টালেই পাওয়া যায়। শিক্ষক কতৃক ছাত্রী ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ এদেশেই সংঘটিত হচ্ছে। শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর বিপদজনক অবস্থায় আত্মহত্যার দুর্বিসহ ঘটনাও এদেশে অহরহ ঘটছে। এভাবে সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক- প্রত্যেক অঙ্গনে নিরাপত্তার অভাব সাংঘাতিকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যে দেশে অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুরা মসজিদেও নিরাপদ নয়, সে দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু উদ্বিগ্ন নয়-চরম আশংকায় ভুগছে তাদের অভিভাবকরা।
দারুল ক্বেরাত মজিদিয়া ফুলতলি ট্রাস্টের উদ্যোগে পরিচালিত ক্বোরআন শিক্ষা কেন্দ্র মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলার কমর্ধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারে ৮ বছরের পিতৃহীন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন প্রতিষ্ঠানের ক্বারী মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে তার সহপাঠিরা এগিয়ে গেলে সটকে পড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোনো সুরাহা না করে ওই ক্বারীকে মসজিদ থেকে বিদায় করে দেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভুক্তভোগীর পরিবার অসহায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতেও পারছে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুল ক্বেরাত কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারসহ একাধিক সূত্র জানায়, গত ১১ জুন সকালে পূর্ব ফটিগুলী মসজিদ সেন্টারে পড়তে যায় পিতৃহীন এক ছাত্রী (৮)। এ সময় ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি কম থাকায় নিজকক্ষে নিয়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান প্রধান ক্বারী ও ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গেলে সটকে পড়েন মোজাম্মেল। পরে বিষয়টি অন্যান্য ক্বারীদের জানালে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোনো সুরাহা না করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিকেলে ওই ছাত্রী তার মাকে গিয়ে ঘটনাটি জানালে লোকলজ্জায় মা বিষয়টি গোপন রাখেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভুক্তভোগীর পরিবার অসহায় হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার জুমআর নামাজের পর কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর চাচাকে ডেকে নিয়ে জানান যে, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবারের দিকে বিষয়টি দেখে দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে দারুল ক্বেরাত ফুলতলি ট্রাস্টের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারের নাজিম দিলু মিয়া ও ক্বারী নুরুল ইসলাম শেফুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা তাৎক্ষণিক ক্বারী মোজাম্মেলকে সেন্টার থেকে বহিস্কার করেছি। এমনকি তার সনদ বাতিল করার জন্য ক্বারী সোসাইটিতে সুপারিশ করেছি। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর চাচা জানান, মসজিদ বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্রতম জায়গা। সেখানে গিয়েও যদি ছাত্রীরা নিরাপদ না থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়? প্রশ্ন রাখেন তিনি। একজন ইমাম ও ক্বারী যদি মসজিদের ভেতর রোজা রেখে এ ধরণের অনৈতিক ঘটনা ঘটান তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে? আমরা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া জানান, বিষয়টি আমি জানি না। দারুল ক্বেরাত ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে আজ সেখানে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন কিন্তু আমি যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
সূত্র : http://www.barlekhanews24.com (কুলাউড়া উপজেলা অপশন)
নিচে নিউজের লিংক : http://www.barlekhanews24.com/2017/06/16/কুলাউড়ার-কর্মধায়-দারুল-ক/

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




