somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বিশ্ব

১৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনারা কি জানেন যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা কত?বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জন সংখ্যা ৬ কোটি ৭০ লক্ষ প্রায়।সামাজিক অর্থনৈতিক সব অবস্থানের দিক দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের শুরুর কাতারে।যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা সিস্টেম কে বলা হয় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস।এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোটাই সরকারি এবং সকল নাগরিক হেলথ ইন্সুইরেন্সের আওতাধীন। এত উন্নত যে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেখানে কর্মরত আছে প্রায় ৩ লক্ষ ডাক্তার।

অপরদিকে বাংলাদেশে এযাবত কালে ডাক্তার তৈরি হয়েছে সর্বসাকুল্যে ১ লক্ষের কিছু বেশি।এর মাঝে অনেকেই মারা গেছেন অনেকে বিদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন আবার অনেকে চিকিৎসক হিসেবে অবসর ও নিয়েছেন।সব কিছু বাদ দিয়ে হিসেব করলে দেখা যাবে প্রায় সত্তর হাজারের মত ডাক্তার কর্মরত আছেন।

এই ৭০ হাজারের মধ্যে আবার ২০ হাজার একেবারেই তরুন ও নবীন যাদের বাংলাদেশের মানুষ কোনো ভাবেই চিকিৎসক হিসেবে মনে করে না।অপরদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। এই সতের কোটি জনগণের জন্য ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।আরো যদি সুনির্দিষ্ট হিসেব করে বলি তাহলে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছে প্রায় ২০ হাজারের মত চিকিৎসক। তার মানে দাড়ায় ১৭ কোটির জন্য সরকারি চিকিৎসক ২০ হাজার জন মাত্র।

এখন আপনারই বলুন এই সামাজিক প্রেক্ষাপটে অবস্থান করে ইংল্যান্ডের চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে নিজেদের অবস্থান তুলনা করা কতটা যৌক্তিক?

ইউকের হিসেব মতে তাদের চিকিৎসক সংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় সাত লক্ষ। তাহলে হিসেব করেন আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে কত জন চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন?আর শুধু প্রয়োজন হলেই হবে না সেই পরিমাণ চিকিৎসক তৈরি করতে কত বছর সময় লাগবে?

একটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধুমাত্র চিকিৎসক নির্ভর নয়।নার্স,ওয়ার্ডবয়,আয়া,সুইপার সকলে নিজ নিজ অবস্থান হতে সমান গুরুত্ব বহন করে।চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর সেবায় প্রত্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স থাকার কথা বাংলাদেশে আছে ০.৪ জন।একটি স্যান্ডার্ড স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য যে জনবল প্রয়োজন তার কত পার্সেন্ট বাংলাদেশের আছে তা অনুমান করতে হয়তো কস্ট হওয়ার কথা নয়।

যদি স্বাস্থ্য বাজেটের দিকে তাকাই তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মোট জিডিপির (বাজেট নয় জিডিপি) নূন্যতম আবার বলছি নূন্যতম ৫% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া উচিত।যেখানে বাংলাদেশের ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট স্বাস্থ্য বাজেট ছিলো ২৯,৪৬৪ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ১.০২ শতাংশ যা শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারত,পাকিস্তান, সুদান সহ আরও অনেক দেশের চেয় কম।

একদিক দিয়ে জনবল অপ্রতুলতা অপরদিকে অর্থনৈতিক স্বল্পতা আর লাগামহীন দুর্নীতি আমাদের স্বাস্থ্যখাত ভংগুর করে তুলেছে।আগামী ১০ বছর পর আমাদের জনসংখ্যা কেমন হবে সেই তুলনায় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত সে ব্যপারে নাই কোনো দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। নীতি নির্ধারক পার্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত ব্যক্তির পরিবর্তে আমলাদের পদ দখল এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কে আরও অনেক পথ পিছিয়ে দিয়েছে।

দুর্নীতি যে কোনো জাতির উন্নতির অন্তরায়।সীমিত সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে দুর্নীতি আমাদের সীমিত সম্পদ কে আরও সীমিত করে তুলেছে।ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হচ্ছে জন মনে অসন্তোষ আর এই দুস্ট চক্রের সর্বোচ্চ ভুক্তভোগী বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ।

এমন একটি সমাজে বসবাস করে অন্য উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে নিজেদের তুলনা করা চিকিৎসক দের উপর চাপ বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই না।যতদিন এই জাতির মুল্যবোধের উন্নয়ন না হবে,দূর্নীতি যতদিন এই জাতির আষ্ঠ-পৃষ্ঠ হতে দুর না হবে ততদিন যতই চিৎকার করেন না কেন কোনো প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।তারপরেও এত নাই নাই এর ভেতরে যারা আপনার স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে নূন্যতম সম্মানের তারা দাবিদার। যত কসাই বলে গালি দিন না কেন এমডিজি গোল কিন্তু তারাই সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।প্রায় সব দিক দিয়ে ভারতের থেকে পিছিয়ে থাকলেও গড় আয়ু,মাতৃ মৃত্যু হার শিশু মৃত্যু হার সহ স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যার পিছনে অবদান আপনাদের নাম দেয়া কসাই দের ই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:৫৪
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×