somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ফিলিস্তিনি বন্ধুর বর্ণনায় সেই দিনের আল-আকসা

১৩ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৭ রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্য পূর্ণ দিন।মূলত রমজানের শেষ দশকে বিজড় রাত্রিতে শবে কদর হলেও ২৭ রমজানের রাত্রিতে তা হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।সেই দিন আমার বন্ধুর জন্মদিন ছিলো তাই তার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে দিনটি বিশেষ ছিলো।

শবে কদরের গুরুত্ব আর আল-আকসায় নামাজ পড়ার ফজিলতের হিসাব করলে জন্মদিনটি আল আকসা মসজিদে কাটানোর চেয় উত্তম হতে পারে না।বলে রাখা ভালো তার জন্ম স্থান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে। তার বাসা থেকে আল-আকসা শহর বেশ দূরে।সবচেয় বড় কথা চাইলেও আর সেখানে ইচ্ছামত যাওয়া যায় না।

শেষ যে বার গিয়েছিলো তা প্রায় বছর পাচেক আগে।তখন রমজানে আল-আকসায় যাওয়ার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হতো না।এখন আল-আকসা শহর পুরোটাই ইসরাইলী দের নিয়ন্ত্রণে। মূলত যে সকল মুসলমানদের জন্ম ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে তাদের জন্য বিশেষ ইসরায়েলি আইডি কার্ড আছে যা দেখিয়ে তারা সহজে যাতায়াত করতে পারে।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে তার জন্ম ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলের বাইরে তাই তার কোনো কার্ড নেই।

কিন্তু আল- আকসা মসজিদের জন্য তার হৃদয়ে এক অপ্রকাশিত ভালবাসা আছে।তার চাচা জন্মদিনের উপহার স্বরুপ তাকে আল- আকসা মসজিদে যাওয়ার দায়িত্ব নিলেন।যদিও তাতে ঝুঁকি আছে। তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এমন ট্যাক্সি ঠিক করলেন যার ড্রাইভারের ইসরায়েলি আইডি আছে।কিন্তু ভয় একটা আছে যদি চেক পোস্টে তাদের আইডি চায় তাহলে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

যাই হোক সন্ধ্যার আগে আগে তারা রওনা হলেন আল-আকসার দিকে।আযান দিয়ে দেয়ায় গাড়িতেই তারা ইফতার করে নিলেন।অতঃপর এবার ইসরায়েলি অংশে প্রবেশের পালা। সামনে চেকপোস্টে গাড়ি থামানো হলো।ড্রাইভারের কাছে আইডি চাওয়া হলো।তাদের বুক দুরু দুরু। এর পরেই যদি তাদের আইডি চায়।কিন্তু ইসরায়েলি আর কারও আইডি চেক না করে গাড়ি ছেড়ে দিলো।

অবশেষে মসজিদুল আল- আকসার পথে।অবশেষে ট্যাক্সি তাদের বাব আলখলিলে নামিয়ে দিলো যা পুরাতন জেরুজালেমের অংশ।সেখন হতে হেটে তারা আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করলো। কিন্তু পাচ বছর আগে দেখা আল- আকসার পথঘাট আর এখন এক নয়।অসংখ্য ইসরায়েলি বাহিনী সাথে অসংখ্য দখলদার জুইশ। শেষবার যেখানে হাতেগোনা কিছু লোক দেখেছিলেন সেইখানে আজ সেটেলারদারা লোকে লোকারণ্য।

অবশেষে আল-আকসায় আসতে পেরে তার মন প্রফুল্ল। মসজিদে প্রবেশ করেই নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো।কিন্তু সেই প্রফুল্লতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।হঠাৎ চার পাশে বিকট শব্দ।ধোয়ায় চারদিকে ছেয়ে যাচ্ছে।গ্রেনেডের তীব্র শব্দ, মানুষের গগনবিদারী চিৎকার আল-আকসার ধোয়াটে আকাশ সব কিছু মিলে মিশে এককার। দখলদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার শুরু করেছে।ড্রেনের নোংরা পানি মসজিদের ফ্লোরে ঢেলে দিচ্ছে। তারা জানে অপবিত্রার মাঝে নামাজ হয় না।

অবস্থা বিপদজনক দেখে চাচা তাকে নিয়ে দ্রুত বাব আলকাতানিন এর দিকে অগ্রসর হয়।মূলত যে দিক হতে আক্রমণ করেছে তার বিপরীত দিক এটি।সেখান হতে তারা দ্রুত ট্যাক্সি নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিলো নিচের পিতৃভূমিতে নিজেরাই আজ পরবাসী। এই আল-আকসা তো শুধু ফিলিস্তিনিদের না সমগ্র মুসলমানদের তার পরেও আরব নেতারা আজ নিরব।এর কারন তার জানা নেই তবে এটা সে জানে একদিন এই আল-আকসা তাদেরই হবে।উপরে একজন আছেন যিনি সব দেখেন তিনি ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৪
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফতোয়া যখন আইসক্রিম: ক্ষমতার গরমে গলে, মার্কিন বাতাসে জুড়ায়!

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩




মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×