somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেরেস্তাগনের কিয়াম : দিবা -রাত্রি ২৪ ঘন্টা ।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লাহর ৭০ হাজার ফেরেস্তা সর্বদা হুজুরের রওজা মোবারক দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে নুরের পাখা রওজা মোবারকে সামিয়ানার মত বিস্তার করে দুরূদ ও সালাম পেশ করে থাকেন । অথচ আমরা ফেরেস্তাদের অনুকরনে ৫/১০ মিনিট দাড়িয়ে দুরূদ ও সালাম পেশ করলে বেদআত হয়ে যায় - বলে এক শ্রেনীর আলেম ও নাম ধারীরা ফতোয়া দিয় বসে । ফেরেস্তারাও কি তাহলে বেদআতে লিপ্ত ? হাদিস খানা নিম্ন রূপ ।

"হযরত নোবাইহাতা ইবনে ওহাব (র হ ) তাবেয়ী হতে বর্নিত ; একদিন হযরত কা'ব আহবার ( তাবেযী ) হযরত আয়েশা (রাঃ) -এর খেদমতে উপস্থিত হলেন । অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম তথা নবীয়ে করিম ( দঃ)-এর শানে-মানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে লাগলেন । হযরত কা'ব বললেন : এমন কোন দিন উদয় হয়না- যে দিনে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হয়ে রাসুলুল্লাহ (দাঃ) -এর রওজা মোবারাক বেষ্টন করে তাঁদের নুরের পাখা বিস্তার করে সন্ধা পর্যন্ত নবী করিম ( দ ) -এর উপর দুরুদ ও সালাম পাঠ না করেন । অতঃপর যখন সন্ধা হয়ে আসে তখন তাঁরা আকাশে আরোহন করেন এবং তাদের অনুরূপ সংখ্যায় (৭০ হাজার ) ফেরেস্তা দ্বারা অবতরন করে তাদের মতই দুরুদ ও সালাম পাঠ করতে থাকেন । আবার কেয়ামতের দিন যখন জমিন (রওজা মোবারক) বিদীর্ন হয়ে যাবে , তখন তিনি ৭০ হাজার ফেরেস্তা দ্বারা বেস্টিত হয়ে প্রেমাস্পদের রুপ ধারন করে আসল প্রেমিকের সাথে শীঘ্র মিলিত হবেন ।"
-( দারমী ও মিশকাত _ বাবুল কারামত হাশিয়াহ ) ।

উল্লেখিত হাদিসে নিম্নোক্ত বিষয়ঘুলো খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও প্রণিধানযোগ্য :
১। কা'ব আহবার (রা) নবী করীম (দ) -এর রওজা মোবারকে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হতে নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন । এটি তার কারামতের প্রমান ( লোমআত )
হযরত আয়েশার উপস্থিতিতে কা'ব এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ।
৩। রওজা মোবারাকে দিনে ৭০ হাজার এবং রাত্রে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হয় এবং তাদের ডিউটি হলো : রওজা মোবারক বেষ্টন করে নুরের পাখা রওজা মোবারকে সামিয়ানা স্বরূপ বিছিয়ে দাঁড়ি্যে দাঁড়িয়ে দুরুদ ও সালাম পাঠ করা ।
ইহাই মিলাদ ও কিয়ামের সারাংশ ।
মুসলমানগন ফেরেস্তাদের অনুকরনে কেয়াম সহকারে দরূদ ও সালাম পড়ে থাকেন ।
( আনওয়ারে আফতাবে সাদাকাত )

৪। হাদিসে উল্লেখিত " মিসলাহুম" শব্দ দ্বারা প্রমানিত হলো যে সব সময় নিত্য নতুন অন্য একদল ফেরেস্তা আসেন । জীবনে একবারই তাঁরা এ সুযোগ পেয়ে থাকেন ।
৫। উক্ত ফেরেস্তারা অন্য কোন আমল না করে কেয়াম অবস্থায় শুধু দরূদ ও সালাম পড়েন ।
৬। রওজা মোবারকে পলা ক্রমে দিন রাত ২৪ ঘন্টাই মিলাদ ও কেয়াম হয় ।
৭। মিলাদ মাহফিলে উত্তম ভাবে আলোক সজ্জা করা ও সামিয়ানা টাঙ্গানো বৈধ ।
৮। নবী করিম (দ) কে সম্মান প্রদর্শনার্থে দাঁড়ানোর জন্য চোখের সামনে উপস্থিত থাকা শর্ত নহে ।
কেননা , ফেরেস্তাদের চোখের সামনে শুধু রওজা মোবারাক পরিদৃষ্ট ছিল ।

৯ । কেয়ামতের দিবসে পর্যন্ত কেয়াম সহ দুরুদ ও ষালামের এই ধারা অব্যাহত থাকবে । দুশমনেরা তা বন্ধ করতে পারবে না ।

ইমামে আহলে সুন্নত মাওলানা আহমেদ রেজা (রহঃ) লিখেছেন :
"আমরা মিলাদুন্নবীর মাহফিল জীবন ভর করে যাবো ।
হে নজদীগন ( আব্দুল ওয়াহাব নজদীর অনুশারীগন ) ! তোমরা জ্বলতে থাক ।
জ্বলে মরাই তোমাদের কাজ "।
( আলা হযরত )

১০। কেয়ামতের দিবসে রওজা মোবারক অক্ষত থাকবে - ধ্বংস হবে না ।
১১। রোজ হাশরে ৭০ হাজার ফেরেস্তা হুজুর (সা) কে পরিবেস্টন করে ও জুলুছ করে খোদার দরবারে নিয়ে যাবে । নবীজির জুলুছ করা ফেরেস্তাগনের ই সুন্নত ।
১২। সে দিন খোদা হবেন হাবীব এবং নবী (সা) হবেন মাহবূব । হাদিসে উল্লেখিত " ইয়ারকাউনা " শব্দেটি বাবে নাছারা হতে উৎপন্ন ক্রিয়া পদ । মুল ধাতু " ঝিফাফুন " অর্থ মিলন । খোদার সাথে সে দিন প্রিয় মাহবুবের মিলন হবে ।
_ লোমআত ।


javascript:void(1);
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫৩
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×