somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মেঘলার জন্মদিন

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-: হ্যালো, আকাশ কোথায় তুমি?
-: জ্যাম এ পড়ে আছি বেবি। আর ৫
মিনিট ওয়েট করো প্লিজ।
-: এক ঘন্টা যাবত বসে আছি আর কতো
ওয়েট করবো?
-: আর একটু ওয়েট করো প্লিজ।
:- হ্যা, আমি তো ওয়েট করবই। সব
ঠ্যাকা তো আমার একার পরছে
তাইনা?
-: প্লিজ বেবি রাগ করেনা। জ্যাম
থাকলে আমি কি করবো বলো!!!
-: তোমার কিচ্ছু করা লাগবে না।
যা করার আজ আমিই করবো ,তুমি আজ
এসেই দেখো। বাই ।
..টুট টুট...

...আধা ঘন্টা পর আকাশ গন্তব্য
স্থানে এসে পৌছলো। মনে মনে
ভাবতেছে আজ না জানি কতো কথা
শুনতে হয়। তা আর নতুন কি, এসব তো
আকাশের প্রতিদিন এর রুটিন হয়ে
গেছে। ৬ মাসের রিলেশন আকাশ এবং
মেঘলার। এর মধ্যে যেদিন ই
দেখা করতে যাওয়ার
কথা সেদিন ই আকাশ পৌছতে দেরি
করবেই। যাই হোক সে তার গন্তব্য
স্থানে এসে মেঘলা কে পেছন
থেকে দেখতে পেল। মেঘলা
আকাশের পছন্দের নীল রঙের শাড়ি
পরে সেই
বকুল গাছের নিচে বসে প্রহর গুনছে।
আকাশ হঠাত পিছন থেকে
মেঘলার চোখ ধরলো । সাথে সাথেই
হাত টা কে এক ঝারি দিয়ে আকাশ
কে এক প্রকার টেনে হিচড়েই সামনে
নিয়ে আসলো মেঘলা এবং বললো:-
-: এই তোমার ৫ মিনিট?
-: সরি বেবি রাস্তায় প্রচুর জ্যাম
ছিলো।
-: সব জ্যাম তো তোমার একার ই।
-: আচ্ছা সরি তো। এই কান ধরলাম আর
হবেনা এমন।
-: মনে থাকে যেনো।
-: জো হুকুম মহারানী।
-: হুহ। আসছে আমার মাথামোটা
মহারাজা।
-: কি? আমি মাথামোটা?
-: আজ্ঞে হ্যা। হিহিহি
...হঠাত একটা শিশু ছেলের ডাকে
আকাশ
কল্পনার
রাজ্য থেকে ফিরে আসলো বাস্তব
জীবনে। একটি শিশু হাতে কয়েকটা
লাল গোলাপ নিয়ে বলতে লাগলো:-
-: ভাইজান, ফুল নিবেন? ফুল?
আকাশ কিছুক্ষণ ছেলেটার দিকে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে পরে
মাথা নেড়ে 'না' উত্তর দিলো।
ছেলেটা চলে গেলো এবং আকাশ
মনে মনে ভাবতে লাগলো ফুল নিয়ে
কি করবে সে? কার জন্যই বা নিবে?
ভাবতে
ভাবতেই আবার কল্পনার জগতে
হারিয়ে গেল...

৩ মাস আগের কথা::-

...আজ আকাশের জন্মদিন। আগের
থেকেই
প্লান ছিলো আজ মেঘলা এবং আকাশ
সেই বকুল গাছের নিচে দেখা করবে।
আজ দেরি করলে চলবে না এই ভেবেই
আকাশ বিকেল এ বেরিয়ে পরলো
বাসা থেকে। সে গন্তব্য স্থানে
গিয়ে কিছুটা আশ্চর্য হলো কারণ
আজ মেঘলা নেই। মনে মনে ভাবলো
আজ মেঘলা কে চমকে দেয়া যাবে
কারণ এই প্রথম সে মেঘলার আগে
এসে পৌছতে পেরেছে।
মনে এক অন্যরকম খুশি নিয়ে বসে
আছে মেঘলার অপেক্ষায়। কিন্তু
নাহ মেঘলা আজ বড্ড বেশি দেরি
করে ফেলছে, এ ভেবেই মেঘলা কে কল
করে। বাট আশ্চর্য ফোন টা
সুইচ অফ। অনেকবার চেষ্টা করার
পরেও
সেই সুইচ অফ। এদিকে সন্ধ্যা ও
গড়িয়ে
এলো। তাই
হতাশ মনে একা একা বাসার দিকে
হাটতে শুরু
করলো...

...এমন সময় হঠাত একটি অপরিচিত
নাম্বার
থেকে কল আসলো আকাশ এর
মোবাইলে। নাম্বার টি ভালভাবে
দেখার পর বুঝতে পারলো নাম্বার
টা আসলে অপরিচিত না। এতো
মেঘলার
ফ্রেন্ড বৃষ্টির নাম্বার।
অনেকবার এই নাম্বার দিয়ে কল ও
করেছে মেঘলা। আর কিছু না ভেবে
কল টা রিসিভ করতেই যা শুনলো
তারপর আর আকাশ নিজ পায়ের উপর ভর
করে দাড়িয়ে থাকতে পারলো না।
হাটু গেড়ে বসে পরলো মাটিতে।
তার
মাথার উপর যেন পুরো আকাশ টাই
ভেঙে পড়লো। নিজের কান কে
বিশ্বাস করতে
পারছিল না। আর সে কিভাবে
মন কে বিশ্বাস করাবে যে মেঘলা
আজ
একটি সড়ক দূর্ঘটনায় পৃথিবীর মায়া
ছেড়ে চলে গেছে অনেক দূরে। চলে
গেছে না ফেরার দেশে...

...ভাবতে ভাবতেই আবার বাস্তব
জীবনে
ফিরে এলো আকাশ। চোখের এক
কোণায়
কয়েক ফোটা জলের অস্তিত্ব
লক্ষ্য
করতে পারলো সে।
নাহ প্রতিদিন এর মতো আজ আর
ভালো লাগছে না বসে থাকতে এই
বকুল গাছ তলায়। ভালো লাগবেই বা
কেন , প্রতিদিন এর মতো সাধারণ
একটি দিন তো আজ না। হ্যা, আজ
# মেঘলার_জন্মদিন । কেন যেনো আজ
আকাশের ইচ্ছে করছে কোনো এক দূর
অজানায় হারিয়ে যেতে। সেই
উদ্দেশ্যেই উঠে দাঁড়ালো এবং
আপন মনে গোধূলিময় বিকেলে
হাটতে লাগলো। হঠাত নীল আকাশের
বুক চিরে বৃষ্টি নেমে বোধয়
তাকে
বাধা দেয়ার চেষ্টাই
হচ্ছিলো। তাই তো হঠাত থমকে
দাঁড়ালো আকাশ এবং চোখ বুজে
দুহাত
মেলে বৃষ্টি কে উপলব্ধি করতে
লাগলো। হঠাত আকাশ তার
হাতে কারো নরম স্নিগ্ধ স্পর্শ
অনুভব করতে পারলো। স্পর্শ টা
অনেক চেনা মনে হতেই সে চোখ
মেলে তাকালো
সেই মানুষ টির দিকে। হ্যা, সে আর
কেউ নয় , সে আকাশের স্বপ্নের
রাজ্যের রাণী "মেঘলা"। হয়তো
আকাশের এই বৃষ্টি ভেজা
বিকেলের পথ চলার সাথী হিসেবে
মেঘলার কল্পনা তার হাত ধরেছে।
আর সেই হাতে হাত রেখেই আকাশ
বাকি পথ টুকু চলতে শুরু করলো...
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×