somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুকের ভিতর ব্যাথা

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাহিরে দু'একটা কাঠাল পাতা ঝড়িয়া পড়তেছে, সেদিকে হামিদা বানুর দেখিবার অবকাশ নেই। সে এক মনে বই পড়ছে। পড়তে তার ভাল লাগে। আজ একটা উপন্যাস নিয়া বসেছে, কাহিনিটা দারুণ। শরতের এই অপরাহ্নে তার তাড়া আছে। বিকাল ০৫.০০ টায় টিউশনিতে হাজির হতে হবে। যথা সময়ের ছাত্রীর বাসায় না গেলে, ছাত্রীর মায়ের মুখের যেন শ্রাবনের আকাশ হয়ে উঠে। সহসা তাকানো যায় না।
উঠি উঠি করেও তার উঠা হচ্ছিলনা। শেষ পর্যন্ত বই রেখে তাড়াহুড়া করে বেড়িয়ে যেতে হল।
হামিদা বেড়িয়ে যাবার পর তার মা-বাবা দু'জনে বসে আলাপ করছেন-
মা- মেয়েটা সংসারের জন্য এত খাটে, নিজের শরীরের যত্নই নিতারেনা। জানিনা মাইয়াডার কপালে কী আছে ?
বাবা-যতগুলান বিয়ার কাজ আইছে, সবগুলাই একটা একটা কইরা পাশ কাইটা গেল। কি নাই আমার মাইয়ার-লেহায়, পড়ায়, কামে কাইজে তিরোন্তাজ।
মা- মাইনষে কান ভাঙ্গানি দেয়, খুছি কয়। কেমনে বিয়া অইবো।
বাবা- অর ছাত্রী পড়ান খেমা দিতে অইব। নানান জনে নানান কথা কয়।
মা- ছাত্রী না পড়াইলে সংসারঠা চলব কেমনে ? আপনে-আমি দু'জনেই অসুইক্কা মানুষ। খরচের নাই আহাল।ছোড মাইয়াডা কলেজে ভর্তি হইছে, হের খরচ। চিন্তা ভাবনায় জীবনডা শেষ হইয়া গেল।
ফারহানা বানু তার বাপ-মার কথা আড়াল থেকে সবই শুনেছে।
সে সামনে এসে বলল-তোমগো দুইজনের আর খাইয়া কাম নাই, খালি যহন তহন বুবুর বিয়ার কথা তুইলা বও আর মন মড়া হইয়া থাহ।
ভাল লাগেনা আর।
আমার বান্ধবী একটা বিয়ার কাজ আনছে, পোলা বিদেশ থাহে, বিদেশেরতেনে আইছে এহন বিয়া করবো। বিয়ার পরে আবার বিদেশ চইলা যাইবো। ভবিষ্যতে যদি সুযোগ-সুবিধা করতারে তয় বউরেও বিদেশ লইয়া যাইবো। তোমরা ভাইবা চিন্তা কও আমি বান্ধবিরে জানাই। দেহি এইবার ভাগ্যে কি আছে ?
হামাদার বাবা-মা শলা পরামর্শ কইরা জানাল তারা রাজি। রাজি না হইয়া উপায় আছে মা্ইয়ার বয়স বাইরা যাইতাছে, মানুষের মন্দ কথা আর শুনতে মন চায়না।
ফারহানা তার বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে সব জানালো। তারা রাজি। ছেলে পক্ষের লোকজন আইসা হামিদারে দেইখা গেল।
হামিদার বাপও ছেলের বাড়ি গিয়ে সব দেখে শুনে এলো। বিয়ার দিন-ক্ষণ ঠিক হলো।
এদিকে আবিদের কাছে হামিদার চেয়ে ফারহানারে বেশি ভাললাগে। সে একদিন ফারহানার বান্ধবীকে দিয়ে খবর পাঠিয়ে ফারহানার সাথে কথা বলেছে।
আবিদ-ফারহানা আমি তোমারেই ১ম দেখেছি, তোমার বড় বইনরে দেখছি পরে। তোমারেই আমার মনে ধরছে। তুমি যদি রাজি থাহ তোমার বড় বইনের বিয়া অইলে আমি তোমারে বিয়া করমু।
ফারহানা- আবিদ ভাই, জান থাকতে আমার বইনের আগে আমি বিয়া বমু না। আমার সোনার প্রতীমা বইন সংসারের লইগা সারাডা জীবন খাটা খাটনী করছে। হের লাইগা বাপ-মার ঘুম নাই। আপনে হেরে বিয়া করলে সুখী হইবেন।
আবিদ- তুমি যদি রাজি না হও তাইলে আর করার কিছু নাই, কথা যখন হইছে তয় হামিদারেই বিয়া করুম।
সেদিনের পর থেকে ফারহানার মনেও কেন যেন বার বার আবিদের মুখ খানা উকি দেয়। তার কোন কাজে মন বসেনা। সে এর কারণ বুঝতে পারেনা। এক রাতে স্বপ্নেও আবিদ এসে হাজির, আচমকা ঘুম ভেঙ্গে গেল ফারহানার। এস কি হচ্ছে ? মনে মনে বলল সে।

আবিদ আর হামিদার বিয়ে হয়ে গেল। সুখেই দিন যেতে লাগলো কিন্তু আবিদের সাথে ফারহানার দেখা হলেই সে কেমন যেন হয়ে যায়। দিন দিন আবিদেরে আরো কাছ থেকে দেখে তার প্রতি ফারহানা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু সে তা প্রকাশ করেনা। এভাবেতো দিন চলতে পারেনা। আবিদ বিদেশ যাবে আরো ৬ মাস পড়ে। এতদিন কেমনে সে থাকবে, যদি বুবু জেনে যায় তবে সে আত্মঘাতী হবে নির্ঘাত।

এক রাতে ছোট্ট একটা চিঠি লিখে ফারহানা ঘড় থেকে বেড়িয়ে গেল। হামিদা সকালে তার বিছানা গুছাতে গিয়ে বালিশের নীচে পেল এই চিঠি।

প্রিয় বুবু,
আমাগো লাইগা তুই সারাটা জীবন কষ্ট করছস। এখন তোর সুখের দিন আইছে। তোর এই সুখ চিরকার থাক। মানুষের জীবনে হঠাত কইরা কি ঘইটা যায় বলা যায়না। আমার মনের ভিতর কি হইতাছে তা আমি কাউরে বলতে পারুমনা। তুই ভাল থাকিস। বাপ মারে দেইখা রাখিস। আমারে খুজিসনা, চিরদিনের লইগা দূরে চইলা গেলাম।

ইতি
ফারহানা।

হামিদা চিঠি পইড়া কাইন্দা বুক ভাসা্ইলো। তার বাপ মা ছোট মাইয়ার শোকে পাগলের মত হইয়া গেল। এর পর থাইকা যতবারই ফারহানার কথা তার মনে পড়ে বুকের ভিতর ব্যাথাটা মোচড় দিয়া উঠে।







সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:২৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৪



আমাদের এলাকার এক কসাই একটা উট এনেছে।
উট নিয়ে তার লাফালাফির শেষ নেই। খলিল কসাইয়ের চেয়ে বেশি লাফালাফি করছে ইউটুবাররা। ইউটুবাররা নিজেদের সাংবাদিক ভাবতে শুরু করেছে। প্রচন্ড ছেচড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×