
এদেশের বাচ্চারা শুধু ফিডার খায়না, কেবল আঙ্গুল চোষেনা, আন্দোলনও করতে জানে এবং সেই আন্দোলনে দেশকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। এদেশের জন্ম ইতিহাসে রয়েছে আন্দোলন । তাই বলা যায় আমাদের রক্তে রয়েছে আন্দোলনের বীজ।
অধিকার আদায়ে যুগে যুগে দেশে দেশে আন্দেলন হয়েছে। আমাদের রয়েছে ৫২, ৬৯, ৭১ এর মত গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস বিখ্যাত আন্দোলন ও যুদ্ধ। বেশ কিছুদিন আগেও হয়েছে কোটা নিয়ে আন্দোলন তার রেশ কাটতে না কাটতে এবাং শুরু হয়েছে নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন খাত নিয়ে আন্দোলন।
এদেশের ইতিহাসে এর আগে এত কম বয়সীদের আন্দোলন এর কথা নেই। সেদিক থেকে এটি নতুন ইতিহাস বুঝিবা পৃথিবীর ইতিহাসেও এরকম আন্দেলনের দেখা পাওয়া ভার।
একটি দেশের পরিবহন খাত কতটা বেপরোয়া, অথর্ব, শৃংঙ্খলাহীন ও রসাতলে গেলে স্কুলের বাচ্চারা সোচ্ছার হয়ে আন্দলোনে নামতে পারে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাদের ছেলে মেয়েরা।
কোটা আন্দোলনে ব্লগাররা সবাই ছিলেন একাট্টা কিন্তু চলমান আন্দোলনে দেখা দিয়েছে ব্লগারদের মাঝেও কিছুটা বিভক্তি। কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানার, প্লেকার্ডে, সাইনবোর্ডে অশ্লীল কিছু শব্দ ও বাক্যের প্রয়োগ। আর এখানেই লাগছে খটকা।
ব্লগাররা দু’রকম মত দিচ্ছেন-
১। অশ্লীল শব্দসহ আন্দোলনে সমর্থন।
২। আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন কিন্তু অশ্লীল শব্দ ও বাক্যে আপত্তি।
এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টগুলো পড়লেই তা স্পষ্ট বুঝা যায়-
০১/০৮/১৮ইং তারিখের ব্লগার বিচার মানি তালগাছ আমার পোস্ট
০২/০৮/১৮ তারিখের ব্লগার ফিরোজ খানের পোস্ট
০৩/০৮/১৮ইং তারিখেরব্লগার কথার ফুলঝুরির! পোস্ট
০৪/০৮/১৮ইং তারিকের ব্লগার আরণ্যক রাখালের পোস্ট
কেউ কেউ আবার নিজের মতামতই সেরা বলে অন্যদের মতামত হেয় করছেন । যত মত তত পথ। এক জনের সাথে আরেক জনের মতের মিল থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে অরের যু্ক্তি ও মতকে অসম্মান করার কোন মানে নেই।
কোমলমতী এসব শিশুরা যদি ভুল করে থাকে ভাষা ব্যবহারে তবে তা সংশোধনের দায়িত্ব সকলের। তাই বলে অশ্লীল ও কুৎসিত, কদর্যকে সমর্থন করা যাবেনা। কারন হাজারটা অশ্লীল শব্দের শক্তি একটি শ্লীল বাক্যে রূপান্তরিত হয়না।
আজকে যদি আপনার নিজের সন্তান এসব অশ্লীল পোস্টার বহন করতো এবং তারা যদি বাসায় এমন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করতো আপনি কি তাকে কিছু না বলে থাকতে পারতেন। তবে অন্যের শিশুর বেলায় কেন এমন বৈষম্যমূলক আচরণ।
বাচ্চাদের এ আন্দোলন পূর্ণ সমর্থন করি আমি, আমরা কিন্তু শব্দের ব্যবহারে হতে হবে সচেতন। এসব শব্দ বাদ দিয়েও আরও সুন্দর, সাহসী, জ্বলাময়ী শব্দের ব্যবহার আন্দোলনকে দিত বেগ, জেগে উঠতো বিবেক।
ছাত্রীলগ এর একটা অংশ যা করছে তা মোটেও কাম্য নয়, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্ন বিদ্ধ ? সরকার এটা-কে সুযোগ মনে করে সুন্দর একটি আইন করে নিরাপদে বাচ্চাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেত পারতো তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে এবং দেশ ও জাতীকে সুন্দর পরিবহন খাত উপহার দিতে পারতো।
কিন্তু দমন, নিপীড়ন মোটেও সমাধন নয়। হোক সুন্দর সমাধান এটাই সকলের প্রত্যাশা।
ছবি : নিজের আঁকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


