somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুকে ঘিরে

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতের হস্পিটালে মৃত লাশ নিয়ে ট্রলিগুলো বয়ে বেড়ায় ঘড় ঘড় শব্দ করে উদ্দেশ্য এক তলা থেকে আরেক তলায়। বেশ সশব্দে এ্যাম্বুলেন্সগুলো লাশ বয়ে চলে।

মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের যেখানে কষ্ট হয় তাদের স্বজনদের মৃত্যুতে, হস্পিটালের আয়া-কর্মী, সিকিউরিটি গার্ড ও এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের, কাফনের সাদা কাপড় বিক্রেতা বরং মনে মনে যেনো আনন্দই পায় অবিরত। কেননা, কেউ মারা গেলে তবেই তাদের কিছু আয়-রোজগার হয়। এটা আসলে জীবনের একটা অদ্ভুত বাস্তবতা কিংবা নির্মমতা! এভাবেই স্রোতহীন নদীর মতো জীবন বয়ে চলে তার নিজস্ব পথে।

অভ্র, তার প্রিয়তমা অণুর বেডের পাশে বসে ভাবছে এসব কিছু। জীবন কতোই না বিচিত্র। অণু, যে কিনা ২ দিন আগেও অভ্রর সাথে বাজার নিয়ে ঝগড়া করেছে, সে কিনা আজ পিজি হস্পিটালের ২২৬ নম্বর বেডে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে!

ঘটনাটে ঘটেছে অভ্রর সাথে ঝগড়া হওয়ার পরের দিন। অণু, কাতলা মাছ পছন্দ করে না, তাও অভ্র কি ভেবে যেনো কাতলা মাছ নিয়ে এসেছিলো তাই নিয়েই তাদের সে কি ঝগড়া! সেদিন বোধহয় রবিবার ছিলো, অভ্র প্রতিদিনের মতো তাড়াহুড়ো করেই অফিসের দিকে রওনা দিলো। আর অণু তাদের অতি আদরের মেয়ে রিদবার টিফিন বক্স গুছানো শেষে, তাকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করলো।

রিদবা, ক্লাস টু তে পড়ে, সে বিজিবির আওতাধীন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ পাবলিক স্কুলে পড়ে। তারা ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের ছোট একটি বাসাতে থাকে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তারা রিকশা করেই স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করলো; কিন্তু প্রতিদিনের মতো ঠিকভাবে আর স্কুলে পৌছানো হয় নি। রিকশা ধানমন্ডি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি আসার আগেই পিছন থেকে সজোরে আঘাত করে ফাল্গুনী নামের ঘাতক বাসটি। সাথে সাথেই রোদে তপ্ত রাস্তা যেনো তার তৃষ্ণা মিটাতে শুষে নিতে শুরু করে লাল রক্তের বুদবুদ।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও ঠিক ১১ টার দিকে অণুর নম্বর থেকে অভ্রর ফোনে ফোন এসেছিলো ঠিকই। কিন্তু ওপাশ থেকে শুধু ভয়েসটা অপরিচিত ছিলো না; ছিলো শঙ্কিত। শুধু শুনতে পেলো অ্যাক্সিডেন্টের কথা; কে যেনো বার বার বলছে আপনি কি তাদের কিছু হন? যেনো মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু হারিয়ে গেলো।

তাদের অতি আদরের রিদবা ঠিকই আছে। মাথায় অল্প আঘাত আর ডান হাতটা ভেঙেছে। তাকে সর্ম্পূণ রেস্টে থাকতে বলা হয়েছে। তাই তাকে এখন তার নানুর কাছে বাসায় রাখা হয়েছে।

কিন্তু অণু! সে কাউকেই চিনতে পারছে না, মস্তিষ্কে প্রচন্ড আঘাতের কারণে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়ে যাচ্ছে। অপারেশন শেষ হওয়ার পরও সে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায় নি। তাইতো আস্তে আস্তে নির্মম বাস্তবতার দিকেই যেনো এগিয়ে যাচ্ছে সে। আর তার পাশে বসে অতি অপ্রিয় সে বাস্তবতার কথাই ভেবে চলেছে অভ্র।

অভ্র ভুলে যায় নি অণুকে খুজে পাওয়ার মুহূর্তটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয় কলা অনুষদের গেটে বৃষ্টিসিক্ত নীল রঙয়ের ছাতা মাথায় দাড়িয়ে ছিলো সহজ-সরল চেহারার একটি মেয়ে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছিলো; কি জানো খুজে চলেছে । এতোটা মায়া জড়িয়ে ছিলো সে চেহারার যে, প্রথম দেখেই অভ্রর ভেতরে কেমন একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে সেটা বলে বোঝানো যাবে না ।

বি. দ্র. : ১ম প্যারাটি সংগৃহীত।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×