somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ জিদান খান (অয়ন)
মোঃ জিদান খান, ছাত্র, ইংলিশ ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাক্তন ছাত্র, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ। পরিচয় দেওয়ার মতো আর বিশেষ কিছু নেই।

অতঃপর হিমু

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিজের মেসে ঝিমোচ্ছিল হিমু আর চিন্তা করছিলো কেনো সে হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরে বেড়ায়? অন্য রঙের পাঞ্জাবি পড়লে ক্ষতি কি? নীল,সাদা,কালো বা অন্য রঙের পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরে দেখতে হবে ; মাঝেমধ্যে এক্সপেরিমেন্ট করা দরকার।

কিন্তু হঠাৎ তার চিন্তা আরো গাঢ় হয়ে উঠলো যখন মনে পড়লো; তার কেবল একটা পাঞ্জাবি আর সেটার রঙ হলুদ। না আজই মাজেদা খালার কাছ থেকে ১০০০ টাকার একটা নোট ধার করে একটা সাদা রঙের পাঞ্জাবি কিনে আনতে হবে।

নিউমার্কেটের আজিজ পাঞ্জাবি থেকে কেনা যেতে পারে। দোকানের ভদ্রলোক আজিজ সাহেব খুবই ভালো মানুষ; দেখা হলেই এক প্রশস্ত হাসি দিয়েই বলে বসুন ; আর সাথে সাথে দোকানের আজাদ নামের পিচ্চি ছেলেটা এক পেয়ালা চা নিয়ে হাজির হয়ে যায়। আহা! সে চা নগণ্য হলেও ; হিমুর কাছে তা অতুলনীয়।

হিমুর চিন্তার মাঝে বাধা হয়ে বসলো দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। এমনি দরজা-জানালা সব খোলাই থাকে। কিন্তু আজ ঘুম দিবস তাই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে ঘুমের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু ঘুম বাবাজি আজ ধরা-ছোয়ার বাহিরে।

হিমু চিন্তায় পড়ে গেলো এ সময় কে আসেব? এসময় তো কারো আসার কথা না! এসব চিন্তা করেই কাথা মুরি দিয়ে পড়ে থাকে। দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হয়ে যাচ্ছে সেদিকে কর্ণপাত নেই হিমুর।আওয়াজটা খারাপ লাগছে না।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর ঘরে নড়া-চড়ার আওয়াজ শুনে ভরকে উঠে হিমু। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে বুঝার চেষ্টা করে কে হতে পারে। আর ঘরেই বা ঢুকলো কি করে! পুরো ঘর জুড়ে একটা মিষ্টি সুগন্ধ আবৃত হয়ে গেছে। এতো মিষ্টি গন্ধ তো কেবল মেয়েদের পারফিউমেই থাকার কথা।

অপরিচিতা কোন মেয়ে তার মেসে কি করছে! একটু ভাবার চেষ্টা করে। মেয়েটি কতক্ষণ হলো এসেছে? কি চায় তার কাছে? মেয়েটি কি পড়ে আছে? শাড়ি না সেলোয়ার কামিজ? নাকি প্যান্ট-শার্ট? তার বিছানার পাশের চেয়ারে যে মেয়েটি বসে আছে, তাকে মেয়ে ভাবছে কেন হিমু! মহিলাও তো হতে পারে।

'হিমু সাহেব, আপনি কতক্ষণ এভাবে চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে থাকবেন?' মেয়েটি হঠাৎ কথা বলে উঠলো।

চমকে উঠে হিমু। সে ঘুমিয়ে থাকার ভান করছে তা বুঝলো কি করে মেয়েটি! চমকে উঠলেও মনে মনে একটু নিশ্চিন্ত হয় যে একটা মেয়েই তার সাথে কথা বলছে, কোন মহিলা নয়। এমন চীকন আর মোলায়েম সুর কোন মহিলার হওয়ার কথা না। আর এ কন্ঠ তার অতি পরিচিত; কাছের কারো!

ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায় হিমু। এবারে শুধু চমকে যাওয়া নয়, বলা যায় বিষম খেলো। চেয়ারে বসে আছে আর কেউ না রূপা।

- একি তুমি এখানে তোমার হাতে ওটা কি? আর তুমি ভিতরে এলেই বা কিভাবে।
- আমি তো যেখানে ইচ্ছা যেতে পারি। হি হি হি। তোমার জন্মদিনের গিফট নিয়ে এসেছি। হ্যাপী বার্থডে টু ইউ।
- হিমুদের জন্মদিন নেই তুমি জানো না। তবুও ভদ্রতার খাতিরে ধন্যবাদ দিলাম।
- তোমার ধন্যবাদ গ্রহণ করলাম। এই নেও দেখো গিফট পছন্দ হয় কিনা।

- হিমু প্যাকেটটা হাতে নিয়ে খুলতে শুরু করলো। পাঞ্জাবি টাইপ কিছু একটা মনে হচ্ছে! একি এইতো সেই সাদা পাঞ্জাবি। যা কিনতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলো হিমু। না হিমুর পরিকল্পনার ১২ টা বাজিয়ে দিলো রূপা। মাজেদা খালার কাছে আর টাকা চাইতে যেতে হবে না।

রমনার পার্কের বটতলায় বসে আছে তারা দু'জন নীল শাড়ি পরিহিতা রূপা আর সাদা পাঞ্জাবি পড়ে হিমু। হিমু কিছুটা উদাস ভঙ্গিতে দূরে বসে আছে; ভাবছে সাদা পাঞ্জাবি না পড়ে হলুদ পাঞ্জাবি পড়াই ভালো ছিলো। নিজের কাছেই নিজেকে এখন অচেনা লাগছে।

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বি. দ্র : একজন হিমু ভক্ত হিসেবে লেখাটি কল্পনা ব্যতীত কিছুই না। স্যারের চরিত্র নিয়ে লেখার যোগ্যতা আমার নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:২৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×