somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ মঈনুদ্দিন
সত্য আর মিথ্যাকে এক করি না। যারা অসত্য দিয়ে সত্যকে ঢাকতে চায়; তাদের সঙ্গ ধরি না। নতুন যে কোন কিছু শিখতে ভালো লাগে। কেউ কিছু শিখতে চাইলে সম্ভব সাধ্যমতো চেষ্ঠা করি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক জ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করতে চাই।

কমান্ডো অভিযানের রিক্যাপঃ যদি অভিযানটি এভাবে হতো!! হয়তো এত্তোগুলো প্রাণ অকালে ঝরতোনা---

০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এতো গুলো মহামূল্যবান জীবনের দায় কে নেবে? আমি? আপনি? সে? তারা? সরকার? না, সবাই? [/su
প্রথমেই শোক জানাচ্ছি।



*** নিম্নের ধাপগুলি অবলম্বন করলে গুলশান এটাকের প্রাথমিক পর্বেই সফল সমাপ্তি টানা যেতো অন্তত সম্ভাবনা ছিলো?
প্রথম ধাপঃ নিঃশব্দে "হোলী আর্টিজান বেকারী" ঘেরাও করা।



!!! করা হয়েছিল, তবে সশব্দে!!!!! লাইট ক্যামেরা একশন!! জানান দিয়ে? মিডিয়া নিয়ে? আলো জালিয়ে? মহা হুলুস্থুল শব্দ করে!! সাঁজোয়া বহর নিয়ে!!



** দ্বিতীয় ধাপঃ সুদক্ষ স্নাইপার দিয়ে লং রেঞ্জ স্নাইপিং রাইফেল ব্যবহার করে দূর থেকে অর্থাৎ উঁচু কোন দালান যা হোটেলটির খুব নিকটেই রয়েছে ওখান থেকে।


** তৃতীয় ধাপঃ প্যারাড্রপ করে কমান্ডো দিয়ে সাঁড়াশী আক্রমণ।



** চতুর্থ ধাপঃ পাওয়ার ডাউন করে কমান্ডো প্রেরণ এবং সাথে সাথে পূর্বে থেকে ঘটনাস্থলের নিকটে রাখা ফায়ার সার্ভিসের হোস পাইপ ব্যবহার করে গরম জল নিক্ষেপ করে জঙ্গীদের ছত্রখান করা।
১।।


২।।

৩।।


৪।।



** পঞ্চম ধাপঃ হোশ পাইপ দিয়ে গরম পানি নিক্ষেপ করার পর অবশ্যই ভেতরে থাকা সবাই ছত্রখান হবে এর পর ভিতরে কাঁদানে গ্যাস বা নার্ভ গ্যাস ছুড়ে সবাইকে অচল করে দেয়া যেতো। অতঃপর, নাইট ভিশন গগলস পরা কমান্ডোরা অতর্কিতে ঝটিকা আক্রমণ করতে পারলে নিমেষেই সবকাটাকে ধরাশায়ী করা সম্ভব হতো। নিশ্চয়ই সামান্য কয়টা অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষিত বাহিনীদের সাথে ওরা এঁটে উঠতোনা।
**ষষ্ঠ ধাপঃ বিভিন্ন ধরণের ডাইভার্সন সৃষ্টি করে এই ৭/৮জন সন্ত্রাসীদের আটক করা ছিলো গেলে প্রাণহানি কম ঘটত।


তাছাড়া, আমাদের দেশের বাহিনীর এতোগুলো চৌকশ লোক থাকতে সারারাত ভর জল্পনা-কল্পনা আর প্ল্যান-প্রোগ্রাম করে করে রাত শেষ করে সবশেষ এটাক এবং ৪৫ মিনিটেই অভিযান ফিনিশ!!
** ফলাফল?? সবাই জানে। মিডিয়াতো আপডেট দিচ্ছেই।

(১) রাতভর জিম্মি উদ্ধারের প্রস্তুতি। সকালে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযান। ছয় জঙ্গির মৃত্যু। নিয়ন্ত্রণে পুরো রেস্তোরাঁ। কিন্তু এরপরের দৃশ্য ভয়ংকর। একে একে মিলল ২০ জিম্মির লাশ। হতভম্ব অপেক্ষারত স্বজন। স্তম্ভিত বাংলাদেশ।

(২) শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে সাঁজোয়া যান নিয়ে দেয়াল গুঁড়িয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে পড়েন সেনা কমান্ডোরা। শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। প্রচণ্ড গোলাগুলিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গুলশান এলাকা। ১৩ মিনিটের মধ্যে সাত সন্ত্রাসীকে কাবু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন কমান্ডোরা। জীবিত উদ্ধার করেন ১৩ জিম্মিকে। ৫০ মিনিট পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

(৩) সরকারি ভাষ্যমতে, রাজধানী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামের রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে জাপান সরকার তাদের সাত নাগরিকের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। ইতালির নাগরিক নিহত হয়েছেন নয়জন। একজন ভারতীয় নাগরিক। শুক্রবার রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে মারা গেছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আর গতকাল শনিবার সকালে অভিযানে মারা গেছে ছয় সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তার হয়েছে একজন। অভিযানে একজন জাপানি, দুজন শ্রীলঙ্কানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

(৪)ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত পিস্তল, পয়েন্ট ২২ রাইফেল, হাতে তৈরি গ্রেনেড (আইইডি), ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো অনেক দেশীয় অস্ত্র। অপারেশন থান্ডারবোল্ট অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কেউ হতাহত হননি।
*** অনেক জীবনের বিনিময়ে এই জিম্মি মুক্তি বোধহয় কেউ চায়নি। অবশেষে যেই কয়জন উদ্ধার পেয়েছে সেই জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তারপরও কথা থেকে যায় আমরা এই মানুষরূপী ম্যানিয়াকগুলোর হাত হতে এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য তৃতীয় শক্তিকে প্রতিরোধ করতে দরকার জাতীয় ঐক্যের। তা না করে আমরা পরস্পর কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে এ দেশ, মা, মাটি শান্তি সমৃদ্ধি রক্ষা করা যাবেনা। আল্লাহ সবাইকে সুমতি দান করুক।
** খুনি আইএসাইএস হোক জামাতুল মুজাহিদিন হোক বা অন্য কোন খুনি হোক যেই হোক এর জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঘৃণা জানাচ্ছি। এদের মুলুৎপাটন করতে যদি আমরা এখনই একত্রিত না হই তাহলে পরে আর কিছুই করার থাকবেনা।

পরিশেষে নিরীহ বিদেশী ও সাধারণ পাবলিক যারা নিহত হয়েছে তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে নিহতদের পরিবারের সবাইকে আল্লাহ দুঃখ ও শোক বইবার ক্ষমতা দান করুন।
এই শোক শক্তিতে পরিণত হোক।
এই শোক জাতীয় ঐক্য আনুক।
এই শোক সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে আনুক এবং একিসাথে কাজ করার শক্তি দিক। এই শুভকামনা প্রত্যাশা রইলো।

বিঃদ্রঃ দৈনিক প্রথম আলো হতে কিছু কোট করেছি। ধন্যবাদ প্রথম আলো পত্রিকাকে।
ছবিঃ ইন্টারনেট।
পুনশ্চঃ এই ভাবনা ও পরিকল্পনা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত। এতে কাউকে ছোট করার কোন উদ্দেশ্য নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×