প্রথমেই শোক জানাচ্ছি।

*** নিম্নের ধাপগুলি অবলম্বন করলে গুলশান এটাকের প্রাথমিক পর্বেই সফল সমাপ্তি টানা যেতো অন্তত সম্ভাবনা ছিলো?
প্রথম ধাপঃ নিঃশব্দে "হোলী আর্টিজান বেকারী" ঘেরাও করা।

!!! করা হয়েছিল, তবে সশব্দে!!!!! লাইট ক্যামেরা একশন!! জানান দিয়ে? মিডিয়া নিয়ে? আলো জালিয়ে? মহা হুলুস্থুল শব্দ করে!! সাঁজোয়া বহর নিয়ে!!


** দ্বিতীয় ধাপঃ সুদক্ষ স্নাইপার দিয়ে লং রেঞ্জ স্নাইপিং রাইফেল ব্যবহার করে দূর থেকে অর্থাৎ উঁচু কোন দালান যা হোটেলটির খুব নিকটেই রয়েছে ওখান থেকে।

** তৃতীয় ধাপঃ প্যারাড্রপ করে কমান্ডো দিয়ে সাঁড়াশী আক্রমণ।

** চতুর্থ ধাপঃ পাওয়ার ডাউন করে কমান্ডো প্রেরণ এবং সাথে সাথে পূর্বে থেকে ঘটনাস্থলের নিকটে রাখা ফায়ার সার্ভিসের হোস পাইপ ব্যবহার করে গরম জল নিক্ষেপ করে জঙ্গীদের ছত্রখান করা।
১।।

২।।


৪।।

** পঞ্চম ধাপঃ হোশ পাইপ দিয়ে গরম পানি নিক্ষেপ করার পর অবশ্যই ভেতরে থাকা সবাই ছত্রখান হবে এর পর ভিতরে কাঁদানে গ্যাস বা নার্ভ গ্যাস ছুড়ে সবাইকে অচল করে দেয়া যেতো। অতঃপর, নাইট ভিশন গগলস পরা কমান্ডোরা অতর্কিতে ঝটিকা আক্রমণ করতে পারলে নিমেষেই সবকাটাকে ধরাশায়ী করা সম্ভব হতো। নিশ্চয়ই সামান্য কয়টা অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষিত বাহিনীদের সাথে ওরা এঁটে উঠতোনা।
**ষষ্ঠ ধাপঃ বিভিন্ন ধরণের ডাইভার্সন সৃষ্টি করে এই ৭/৮জন সন্ত্রাসীদের আটক করা ছিলো গেলে প্রাণহানি কম ঘটত।

তাছাড়া, আমাদের দেশের বাহিনীর এতোগুলো চৌকশ লোক থাকতে সারারাত ভর জল্পনা-কল্পনা আর প্ল্যান-প্রোগ্রাম করে করে রাত শেষ করে সবশেষ এটাক এবং ৪৫ মিনিটেই অভিযান ফিনিশ!!
** ফলাফল?? সবাই জানে। মিডিয়াতো আপডেট দিচ্ছেই।
(১) রাতভর জিম্মি উদ্ধারের প্রস্তুতি। সকালে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযান। ছয় জঙ্গির মৃত্যু। নিয়ন্ত্রণে পুরো রেস্তোরাঁ। কিন্তু এরপরের দৃশ্য ভয়ংকর। একে একে মিলল ২০ জিম্মির লাশ। হতভম্ব অপেক্ষারত স্বজন। স্তম্ভিত বাংলাদেশ।
(২) শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে সাঁজোয়া যান নিয়ে দেয়াল গুঁড়িয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে পড়েন সেনা কমান্ডোরা। শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। প্রচণ্ড গোলাগুলিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গুলশান এলাকা। ১৩ মিনিটের মধ্যে সাত সন্ত্রাসীকে কাবু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন কমান্ডোরা। জীবিত উদ্ধার করেন ১৩ জিম্মিকে। ৫০ মিনিট পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
(৩) সরকারি ভাষ্যমতে, রাজধানী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামের রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে জাপান সরকার তাদের সাত নাগরিকের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। ইতালির নাগরিক নিহত হয়েছেন নয়জন। একজন ভারতীয় নাগরিক। শুক্রবার রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে মারা গেছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আর গতকাল শনিবার সকালে অভিযানে মারা গেছে ছয় সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তার হয়েছে একজন। অভিযানে একজন জাপানি, দুজন শ্রীলঙ্কানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
(৪)ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত পিস্তল, পয়েন্ট ২২ রাইফেল, হাতে তৈরি গ্রেনেড (আইইডি), ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো অনেক দেশীয় অস্ত্র। অপারেশন থান্ডারবোল্ট অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কেউ হতাহত হননি।
*** অনেক জীবনের বিনিময়ে এই জিম্মি মুক্তি বোধহয় কেউ চায়নি। অবশেষে যেই কয়জন উদ্ধার পেয়েছে সেই জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তারপরও কথা থেকে যায় আমরা এই মানুষরূপী ম্যানিয়াকগুলোর হাত হতে এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য তৃতীয় শক্তিকে প্রতিরোধ করতে দরকার জাতীয় ঐক্যের। তা না করে আমরা পরস্পর কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে এ দেশ, মা, মাটি শান্তি সমৃদ্ধি রক্ষা করা যাবেনা। আল্লাহ সবাইকে সুমতি দান করুক।
** খুনি আইএসাইএস হোক জামাতুল মুজাহিদিন হোক বা অন্য কোন খুনি হোক যেই হোক এর জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঘৃণা জানাচ্ছি। এদের মুলুৎপাটন করতে যদি আমরা এখনই একত্রিত না হই তাহলে পরে আর কিছুই করার থাকবেনা।
পরিশেষে নিরীহ বিদেশী ও সাধারণ পাবলিক যারা নিহত হয়েছে তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে নিহতদের পরিবারের সবাইকে আল্লাহ দুঃখ ও শোক বইবার ক্ষমতা দান করুন।
এই শোক শক্তিতে পরিণত হোক।
এই শোক জাতীয় ঐক্য আনুক।
এই শোক সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে আনুক এবং একিসাথে কাজ করার শক্তি দিক। এই শুভকামনা প্রত্যাশা রইলো।
বিঃদ্রঃ দৈনিক প্রথম আলো হতে কিছু কোট করেছি। ধন্যবাদ প্রথম আলো পত্রিকাকে।
ছবিঃ ইন্টারনেট।
পুনশ্চঃ এই ভাবনা ও পরিকল্পনা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত। এতে কাউকে ছোট করার কোন উদ্দেশ্য নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


