আমরা মদিনার সনদে দেশ চালাবো। দেশে ইসলাম থাকবে!! তবে, মসজিদ মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেব!কারণ, মসজিদ মাদরাসাগুলি জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা। অবশ্য কিছু কিছু মাদরাসা মসজিদ থাকবে যেগুলো "লা ইয়া মুতু ওয়ালা ইয়াহ্ইয়া!" সেই সাথে দেশে ধর্ম চর্চার জন্য আরো বেশি বেশি মাজার তৈরি করা হবে! আমরা এই এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি,যেমন-
(ক) শিক্ষা ব্যবস্থাঃ আস্তে আস্তে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা হতে ধর্মীয় বিষয়াদী সরিয়ে দিচ্ছি। সেই সাথে যৌনতার পসরা দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ দিয়ে দিচ্ছি।
(খ) দেশে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যম হিসেবে স্মার্টফোন সস্তা করে দিয়েছি। ইন্টারনেট স্পীড থ্রীজি থেকে ক্রমেই ফোরজীতে উন্নীত করছি। থ্রী এক্স বা ব্লু ফিল্মের চাহিদা যাতে পূরণ হয় তার জন্য বিভিন্ন ধরণের ভিডিও সাইট সহজ লভ্য করে দিয়েছি। চটি গল্প, হট ভিডিও, হট পিকচার, হট কনটেন্ট, হট মিউজিক ভিডিও সব আইটেমই যাতে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে দেখতে পারে তাঁর সুব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই জন্য কিছু ইসলামিক চ্যানেল ও বন্ধ করে দিয়েছি।কারণ, ইসলামিক চ্যানেলে অনুষ্ঠান দেখে আবার এই রসাল জিনিস দেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আমাদের বুদ্ধুজীবিরা মতব্যক্ত করেছেন।
(গ) ইসলামিক শিক্ষাকে একহাত নিয়েছি দেশে ১৯০টি কলেজ জাতীয়করণ করেছি এবং ৩১৫টি মডেল স্কুলকে জাতীয়করণ করে পরবর্তিতে আরো অনেক মাধ্যমিক স্কুল জাতীয়করণ করার ঘোষণা দিয়েছি কিন্তু ৯৩০০ মাদরাসার মধ্যে কোন একটিকেও জাতীয়করণের আওতায় আনিনি। দেশে শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভুমিকা ও ইসলামিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় শতবর্ষী বা তারচেয়ে বেশী প্রাচীন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে শিক্ষায় দীক্ষায় ফলাফলে সবদিক বিবেচনায় বহু স্কুল কলেজ থেকে উন্নত তাদেরকেও গণায় ধরিনি।
(ঘ) দাখিল পাস করার পর যাতে ছাত্ররা কলেজ মুখী হয় তারজন্য আমরা ঘোষণা দিয়েছি সরকারী চাকুরীতে বিশেষকরে পুলিশ, আর্মি বা অন্যান্য বাহিনীতে মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্রদের নেয়া হবেনা। চাকুরী পাওয়ার আশায় এখন উল্লেখযোগ্য হারে ছাত্র-ছাত্রী এবার থেকেই বিপুল পরিমাণে কলেজে ভর্তি হয়েছে।আমরা সুফল পেতে শুরু করেছি।
(ঙ) দেশের অভ্যন্তরে যেকোন ঘটনা দূর্ঘটনার দায়ভার মাদরাসা ছাত্রদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছি। এতে লাভ হচ্ছে সামনের প্রজন্মকে আর মাদরাসায় বা মসজিদে না যেতে মানা করা লাগবেনা। নিজের উদ্যেগেই সকলে মাদরাসা এবং মসজিদে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
(চ) নবী (সাঃ) এর উম্মত কমে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। আর, এজন্য আমরা কিছু উগ্র কলম জঙ্গি নিয়োগ করেছি। যাদের কলমের ঘায়ে অনেক মুসুমান তাদের ঈমান বিক্রি করে দিয়ে এথিস্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু থাকবে"গরু খাওয়া মুসুমা!
(ছ) দেশে মদ জুয়া চরস আফিম ভাং হিরোইন মারিজুয়ানা হুইস্কি রাম ভদকা বিলাতি ওয়াইন এসবের বন্যার সাথে ইয়াবা আর গঞ্জিকার ধোঁয়া দিয়ে এমন আবহ তৈরি করে দিচ্ছি যার থেকে আস্তিকদের আর ফিরবার পথ থাকবেনা। এসব চেখে চুখে আমাদের সোনার প্রজন্মরা জঙ্গিবাদের দিকে ঝোঁকার সময়ও পাবেনা।
(জ) কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে ৭৩ দলে বিভক্ত করে দেয়ার ফন্দিটা শয়তান বাবা ইবলিশের কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল। খুব কাজে দিয়েছে আলেম ওলামারা নিজেদের মধ্যে এখন মারামারিতে ব্যস্ত। যারফল আমরা পাচ্ছি। মাঝখান থেকে ফায়দা নিচ্ছি খুব কায়দা করে। কিন্তু, তারা বুঝবেওনা।শুধু মাঝে মাঝে একটু উসকানি দিলেই ল্যাটা চুকে যাচ্ছে।খেলা জমেছে বেশ! কড়া সুন্নী ভার্সাস মিঢা সুন্নী, ওয়াহাবী ভার্সাস মওদুদীবাদী, করা সুন্নী ভার্সাস মওদুদীবাদী, মাজার পূজারী ভার্সাস পাজার বিরোধী পার্টি, আহমদিয়া আরো যত ইয়া আছে সবাই ব্যস্ত খামছাখামছিতে! এসব চলমান থাকলে আর চিন্তা করতে হবেনা। এমনিতেই সব ফ্রীজ হয়ে যাবে।
(ঝ) চলমান এই ফিকির যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশ জঙ্গিমুক্ত হয়ে যাবে।নাউজুবিল্লাহ!!
(ঞ) দেশে শুধুমাত্র একজাতীয় ধ্যান ধারণাকে অর্থাৎ নাস্তিকতাকে পৃষ্টপোষকতা করা হবে যাতে দেশের সবাই নাস্তিক হয়ে গিয়ে ধর্মকর্ম ছেড়ে দেয়। এতে আমাদের এজেন্ডা পুরোই বাস্তবায়িত হবে। দেশ জঙ্গিমুক্ত হবে?? তবে, বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাস থাকবে। বিভিন্ন টেররিস্ট সংগঠন থাকবে, বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠনও থাকবে। দেশে সন্ত্রাস থাকবে তবে জঙ্গি থাকবেনা। যাইহোক, তারপরও জঙ্গিবাদ নিপাত যাক! ধর্ম ও ধার্মিকদের নিন্দাবাদ! নাস্তিক্যবাদ জিন্দাবাদ??
লেখাটি হেঁয়ালি করে লেখা। ভালো করে খেয়াল করবেন না। খেয়াল করলে ইঙ্গিতগুলো ধরে ফেলবেন আর আমাকে ভুল বুঝতে পারবেন না!! তা যেন না হয়, তাই না??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

