সকাল থেকে অধরার মনটা খারাপ-ভালোর মাঝামাঝি অবস্থায় আছে। আজ খুব তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসে যাবে। আজ ও ঠিক করেছে সেজেগুজে যাবে এর শুভ্রর দেওয়া pink colour ড্রেসটা পড়ে যাবে। শুভ্রর সাথেওর পরিচয় fb তে। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, দেখা, ভালো লাগা এবং সবশেষে ভালোবাসা। ওদের সম্পর্কের বয়স মাত্র ১৪ মাস। কিন্তু মনে হয় এই তো সেই দিন। আজকের দিনটা ওদের জন্য একটা বিশেষ দিন।গোসল শেষে ও তৈরি হয়ে আয়নার সামনে নিজেকে দেখল। নাহ, ওখানে এখন মন খারাপের কোনো ছাপ নেই। তারপর রওনা হয়ে গেল ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসে ঢুকে দেখল শুভ্র ওর জন্য ওয়েট করছে। আজ শুভ্র কে খুভ স্মার্ট দেখাচ্ছে সাদা টি-শার্টে। গতরাতে ওরা ঠিক করে রেখেছে আজ ওরা ৪ মিনিটের সর্বশেষ প্রেম করবে। অর্থাৎ আজ ওরা ওদেরseparation celebrate করবে। কারন আজকের পর থেকে ওদের মাঝে কোন সম্পর্ক থাকবে না বলে ওরা Family কে কথা দিয়েছে ,কেউ চায় না তাদের এই সম্পর্কটা। তাই ওদের এই কথা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া।
ওরা চলে গেল ক্যাম্পাসের একটা প্রিয় জায়গায়। কিন্তু আজ আর আগের মত উচ্ছাস কারো মাঝে নেই। অধরা কিছু না বলেই অঝোর কেঁদেই যাচ্ছে। আর শুভ্র তাকিয়ে রইলো। এই প্রথম খেয়াল করল অধরা কান্না করলে ওকে বাচ্চাদের মত লাগে।আজ ওকে খুব বাচ্চা বাচ্চা লাগছে।সব সময় সে শুভ্রর উপর খবরদারি করত কিন্তু শুভ্র জানে এটাই অধরার ভালোবাসা ও কেয়ার।
শুভ্র ঠিক করল আজ সে অধরার সামনে মন খারাপ করবে না। অধরার চোখের জল মুছে দিয়ে শুভ্র অধরাকে কাছে টেনে নিলো । কখন যে ৪ মিনিট পার হয়ে ৪৪ মিনিট হয়ে গেল টা কেউ টের পেল না,কি কাকতালীয় ব্যাপার!!! শুভ্রর প্রিয় সংখ্যা ৪,১৪এবং ৪৪,আর তাদের সর্বশেষ প্রেম ও ৪৪ মিনিট। দু জনেই হেসে দিলো। আজ দুজন দুজনকে যেন কিছুতেই ছাড়তে চায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ছাড়তে হবে। তারপর অধরার সেই ভুবন ভুলানো হাসি নিয়ে শুভ্র বিদায় নিলো। অধরা চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শুভ্রর চলে যাওয়া দেখল।
হঠাত মনে হল কে যেন ডাকছে তাকে। একটা ধাক্কা খেল। সাথে সাথেই ওর ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। নাহ! এটা দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না!!!
গতরাতে নীলার কাছ থেকে ওর আর অভ্রর separation celebrate করার কাহিনী শোনার পর থেকেই এটা অধরার মাথায় ঘুরছিল। তাই সে এটা স্বপ্নে দেখেছে। অধরা তার মনকে বোঝালো, “স্বপ্ন তো স্বপ্নই,এটা কখনো সত্যি হয় না। আর শুভ্র তার আছে,তার থাকবে চিরদিন”।বিছানা থেকে নেমেই অধরা শুভ্রকে call দিল আর তখনি অপর পাশে থেকে welcome tune শুনতে পেল, “আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে, আছো্ তুমি হৃদয় জুড়ে। “

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


