somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু শিক্ষার হালচাল

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিশু শিক্ষার হালচাল
------------------------------------

''সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি''

অথবা,
''পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইলো,
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিলো''

আমার শিক্ষা জীবনের শুরুটা ''আদর্শ লিপি'' নামক লাল মলাট ওয়ালা কয়েকটি পাতার বইয়ের এসব ছড়া মুখস্ত করেই হয়েছিলো।শুধু আমার একার না অনেকেই আদর্শ লিপি বইয়ের এসব ছড়া পড়েছেন কমবেশি।সকাল সকাল উঠে বারান্দায় অথবা উঠানে পাটি বিছিয়ে আমার মা এসব পড়াতেন।পড়া না পারলে সাথে পিটুনি ছিলো উপুরি পাওনা।
পড়া শেষ হলেই কেবল সকালের খাবার জুটতো কপালে।পড়া শেষে গোসল দিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো।সে সময়
স্থানীয় পযায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া এতো এতো কেজি বা বেসরকারি স্কুল ছিলো না বললেই চলে।আমার স্কুলের বই বলতে তখন ছিলো শুধু ঐ আদর্শ লিপি।দুপুর পর্যন্ত স্কুলে থেকে বাড়ি।আর বিকালে খেলা আর সন্ধ্যার পর হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসা।অবশ্য যখন একটু বড় ক্লাসে উঠেছিলাম তখন প্রাইভেট শিক্ষকের জন্য আলাদা একটু সময় বরাদ্দ রাখতে হয়েছিলো।আবার বড় ক্লাসে উঠার সাথে সাথে খেলাধুলা আর স্কুলে যাওয়া আসার সময়ের সাথে কিছুটা তারতম্য হয়েছিলো যদিও, তারপরেও খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসা আর সন্ধ্যার পর হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসা ,এই নিয়মটা ক্লাস টেন অবধি চালিয়ে যেতে হয়েছে।নিয়মের ব্যতয় ঘটলেই উপুড়ি পাওনা।মানে মায়ের হাতে বেতের বাড়ি।

সে যাই হোক ,এতো গেলো আমার ছোটবেলার পড়ার চিত্রপট।এখন আসি বর্তমান শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রতে।যদিও আমার শৈশব সময় থেকে বর্তমান ছেলে মেয়েদের শৈশব সময়ের ব্যবধান খুব যে বেশি তা কিন্তু নয়।তবুও একটা সুষ্পষ্ট সু-দীর্ঘ পার্থক্য বিদ্যামান।অনেকে হয়তো বলবেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে।তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই আমরা কি যুগ কে এগিয়ে নিচ্ছি নাকি যুগই আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে? এতো আমার দৃষ্টিতে লেজ কুকুরকে নাড়ানোর মতো ব্যপার।আমি যুগের বা সময়ের সাথে অবশ্যই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি।কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার নামে নিজেদের নীতি,নৈতিকতা,শৃষ্টাচার ,সৌজন্যবোধ হারানোর পক্ষে নই।থাক সেসব।আজকাল ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের আর সেই সকালে উঠে মুখ ধুয়ে পড়তে দেখি না।মায়েদের সকাল সকাল ঘুম থেকে ছেলেমেয়েকে জাগিয়ে পড়তে বসানোর পরিবর্তে ভোর ৬টার সময় স্কুলে পাঠানোর দৃশ্যটি চোখে পড়ে।আরো অবাক করার মতো ব্যপার হচ্ছে ঐ ৪ বছরের শিশুটির পিঠে ৫ কেজি ওজনের একটি ব্যগ থাকে এবং ব্যগের সাইজ ও ঐ শিশুটির সাইজের থেকে কয়েক গুন বড়।শিশুটি পিঠে ব্যগটি বহন করতে পারে না বিধায় অগত্যা সাথে তার মা কেও স্কুলে যেতে হয়।বলি কি দরকার এসবের? তারপর স্কুলে গিয়ে তো এক অসম প্রতিযোগীতা ।এ প্রতিযোগীতায় অবশ্য শিশুদের অংশ নিতে হয়না।বরং যার যার মায়ের দায়িত্বটাই থাকে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার।যে শিশুটি ঠিকমতো অ,আ,ক,খ উচ্চারনটি ও ঠিকমতো করতে পাচ্ছে না, বা তার কষ্ট হচ্ছে (কেননা ৪বছর বয়সে ওটা আমরাও পারিনি,কিন্তু আমার শিশুটিকে সেটা মুখস্ত করতেই হবে) সেখানে তাকে মুখস্ত করতে বাধ্য করছি ''Twinkel twinkel lettle star''।আবার শিশুটি ক্লাসে ১ নম্বর অন্য শিশুটির থেকে কম পেয়েছে দেখে লজ্জায় তো মাথা হেট।বাসায় এসে আচ্ছামতো বকুনি।ঐ ১ নম্বর অর্জনের জন্য শিশুটিকে আরো একটি প্রাইভেট টিওটর ।শিশুটিকে যে প্রত্যাক টি বিষয়ে ১০০করে নম্বর পেতেই হবে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:০৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×