somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ শিকল ভাঙ্গবে কবে?

১৮ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ শিকল ভাঙ্গবে কবে?
--------------------------------------------------

ক্ষমতার লোভে,অহংকারে জ্বালানো অশান্তির আগুন জ্বালিয়েছে দুনিয়াটাকে গোলাম করা বিশ্ব-বর্বরতার প্রতিনিধি,ধারক-পোষক আর নায়ক সেই শক্তিশালী বিশাল দানব । দাউ দাউ করে জ্বলছে সেই অগ্নি চর্তুদিকে—
দরজা-জানালা ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছে । অন্যায়ের বিরুদ্ধে , ধ্বংসের বিরুদ্ধে, বে-লাগাম অসভ্যতার বিরুদ্ধে, রক্তক্ষয়ী স্থায়ী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সমাজের সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ ঝিমিয়ে পড়েছে । রাজনীতির এ দল, সে দল যারা “আমরা-ওরা”য় বিভক্ত – তাদের নিজেদের গায়ে আচড় পড়লে মারমুখী মিছিল বের করে । কিন্তু সমাজ “সাইলেন্ট মেজরিটির” ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় । অবাক হয়ে ধ্বংসাত্বক কান্ড দেখেও না দেখার ভান নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে । অথবা কেউ কেউ বড়জোর রকে,চায়ের দোকানে,আড্ডায় কিছুক্ষণ মেতে ওঠে । তারপর নিঃশব্দের অভ্যাসে হেলান দিয়ে দৈনন্দিনতায় ভাসতে থাকে । পরিস্থিতি এরকম হবার কথা নয় । বছর কয়েক আগেও বিবেক আর তারুণ্য কোথাও কোন অঘটন ঘটলেই মাঠে ময়দানে ঝড় তুলতো,জড়ো হয়ে কন্ঠে ধ্বিক্কারের ধ্বনি জুড়ে দিতো । উদাহরন হিসেবে বলতেই পারি রাজাকার আলবদরদের ফাসির দাবিতে উত্তাল শাহবাগের কথা । আজ যেভাবে দেশে-বিদেশে ধর্মের নামে,রাজনীতির নামে,ক্ষমতা দখলের নামে নিরন্তন সভ্যতার গায়ে অসভ্যতার থাবা পড়ছে আর এসব অন্যায়কে বৃহত্তর সমাজ তাদের ক্ষোভ আর আক্রোশ কে অনায়াসেই হজম করছে । নিকটত্ম অতীতেও কখনো এরকম দেখা যায় নি । এই নিস্তেজ ,এই গড়িমসির কারন কি?
হতাশ, চিন্তার অবসাদ?
নাকি সংঘবদ্ধ হিংসায় আক্রান্ত হবার ভয় ।
আসলেই আমাদের ভয়টা কোথায়?
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার নাকি ন্যায়ের পক্ষে মাথা তুলে দাড়াবার । নাকি ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মুখে কুলুপ এঁটে অন্যায় কে প্রশ্রয় দেয়ার রীতিকে । যে রীতি আদিকাল হতে আমাদের ঘাড়ে বসে আছে সমাজপতিদের সাজানো নিয়ম হয়ে । কবে মুক্ত হবো আমরা সেই মিথ্যার আর অসত্য নিয়মের বেড়াজাল থেকে ।
আমরা কবে বলতে শিখবো ?
শত অন্যায় হজম করতে করতে আজ আমরা একটি বোবা জাতিতে পরিনত হচ্ছি । আমাদের মুখের ভাষা ফিরিয়ে আনতে হবে । যা অন্যায় ,অসত্য তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে । আপনি ভাবছেন আপনি একা বললেই সব সমাধান হয়ে যাবে নাকি?
আসলে তা নয় ,শুধু আপনি একা বললেই সব সমাধান হবে না বা সমাধান আসবে না । তবে আপনার বলার কারনে আরো দশজন কথা বলার ,আপনার পাশে দাড়াবার ,অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তোলবার সাহস পাবে, আর সেই স্বঞ্চারিত সাহস আর কন্ঠের শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে আসবে ।
কবে জেগে উঠবে আমাদের বিবেক ,চিন্তা-চেতনা,মনুষ্যত্ব । সমাজপতিদের চাপিয়ে দেয়া শত শত অন্যায়,অ-বিচার আরো কতো জনম হজমের জড়িবুটি গিলে একে একে হজম করতে থাকবো আমরা । একটি বারও কি অন্যায় কে অন্যায় আখ্যায়িত করে কন্ঠের স্বর নিচু থেকে উচুতে তুলবো না ?
আমাদের স্বর উচু করতেই হবে সমাজপতিদের চাপিয়ে দেয়া অন্যায়,অ-ন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতি,জুলুমের বিরুদ্ধে । দীর্ঘদিনের চাপিয়ে দেয়া অন্যায়ের হাতকড়া, পায়ের শিকল ভাঙ্গতেই হবে আমাদের । আঘাতে আঘাতে চুরমার করতে হবে অন্যায়ের সকল দেয়াল ।
কেননা অন্যায় দেয়ালের ওপাড়ে ন্যায়ের সূর্য তার দীপ্তি ছড়াতে ব্যাকুল । যে ন্যায়ের আলোয় আলোকিত হবে গোটা দেশ,সমাজ,গোটা জাতি । এ অন্যায়ের শিকল আমাদের ভাঙ্গতেই হবে ভাঙ্গতেই হবে ।
এসব প্রশ্ন তুললাম এই জন্য যে, আমরা বেঁচে আছি , আমরা ভাবছি, আমরা সাহস হারাই নি । ঘা-ঘোর নির্বিশেষের “আমরা” কে দ্রুত,আরো দ্রুত জাগিয়ে তোলার আজান ফুঁকতে হবে । লাউড স্পীকারে নয় । অন্ধকার আর স্তব্ধতার সীমা আছে । তারা চুপ করে আসে ,ভাঙচুর কে,ভাঙ্গন কে প্রশ্রয় দেয় । আধারে দৈত্যর সঙ্গী হয় । কিন্তু প্রভাতের আলো কিংবা মশাল যখন জ্বলে ওঠে তখন ওরা আর দৈত্যরা ভয় পায় । আমারা ঐ ভয় প্রতিদিন রাস্তায়,সমাবেশে,গৃহকোণে জাগিয়ে রাখি আসুন ।



সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার 'নতুন গ্রাম আন্দোলন'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



বাংলাদেশের উন্নতি হতে হলে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। গত ৫৬ বছরে আমাদের দেশের গ্রামবাসীদের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে। সেখানকার মানুষ অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নিম্ন সেলারির জব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×