
শ্যামলী আপুর সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে তারপর থেকে একটু একটু কথা হতো। আপুটা বেশ শান্ত স্বভাবের। আমাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতই স্নেহ করত। তখন ছিল রমজান মাস। আমি সেহেরীর সময় উঠতে পারতাম না আসলে একটু বেশি করে রাত জাগতাম তাই সেহেরীর সময়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ত, আর ঘুমও ভাঙতো না। তখন শ্যামলী আপুর সাথে নতুন পরিচয় আপু আমাকে অনেক সাহায্য করত। পড়াশুনার দিকটাও খেয়াল রাখতো। একদিন আপুকে বলে ফেললাম আপু আমাকে সেহেরীতে ডেকে দিবেন? আপু বললো, 'ঠিক আছে'। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন ডেকে দিল তারপর থেকে আমি একাই উঠতে পারতাম।
হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম আজ শ্যামলী আপুর জন্মদিন। কিন্তু এমন একটা সময়ে জেনেছি যে কিছুই কেনার সময় ছিল না। রাত ১ টার পর উইশ করলাম। আপু তো অনেক খুশি হলো। এদিকে ঈদ চলে আসলো তাই ভাবলাম আপু কে একটা গিফট দিবো। কিন্তু কি গিফট দিবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি আসলো আমার নামের সাথে কিছু গিফট মিলে যায়। তাই আপুকে সাজানোর জন্য কিছু গিফট করবো। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় আপুর বাসার সামনে গিয়ে গিফট দিয়ে আসলাম। তারপর ঐদিন রাতে এবং ঈদের দিন বিকেলে কথা হয়েছিল তারপর থেকে আপুকে আর খুঁজেও পাইনি। আসলে খুঁজে পাইনি বললে ভুল হবে আমিও ফোন দিতাম না আর উনিও দিতো না। এভাবে প্রায় বেশ কিছু মাস কেটে গেলো। হঠাৎ একদিন রাস্তায় দেখা পেলাম আমাকে ডাকলো কিন্তু আমি চিনতে পারিনি আসলে আমি উনার ফেসটাও দেখিনি। আর যদিও বা ফেসবুকে দেখেছি আর ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় ঝাপসা আলোতে দেখেছি তাও মনে নেই। আপু ডেকে বললো আমিই তোমার সেই শ্যামলী আপু। বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো তারপর যে যার কাজে চলে গেলাম। মাসটা জানুয়ারি ছিল। ওটাই আমাদের শেষ দেখা ছিল।
আজ হঠাৎ এক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানতে পারলাম, শ্যামলী আপুর বিয়ে। চোখের কোনে একটু জল এসে ভিড় করে আছে। জানিনা কেন জানি সব পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। কেন জানি শ্যামলী আপু কে একটিবার দেখতে ইচ্ছে করছে। জানিনা আর কখনো দেখা পাবো কিনা কে জানে। হয়তো পেতেও পারি আবার নাও পেতে পারি। বিয়ের পরবর্তী জীবন যেন সুখের হয় এই প্রার্থনা করবো। ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো। মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত, সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



