শেয়ারবাজার নিয়ে ভয়ের কারণ নেই
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এক দিনেই সাধারণ সূচক কমেছে প্রায় ১৮৬ পয়েন্ট। এটি চলতি বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ পতন। এর আগে ২৫ জুলাই ডিএসইর সাধারণ সূচক এক দিনে ২০৫ এবং ১০ অক্টোবর ১৮৮ পয়েন্ট কমেছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জে (সিএসই) গতকাল এক দিনে সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৫০৩ পয়েন্ট। সিএসইতে ১৯৯৬ সালের পর এটিই বড় ধরনের দরপতন।
গত রবিবার রেকর্ড লেনদেনের পর সোম ও মঙ্গলবার ডিএসইতে টানা দুই দিন শেয়ারের দরপতন ঘটল। দুই দিনে ঢাকার বাজারে সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৩৩২ পয়েন্ট। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৫ শতাংশই দাম হারিয়েছে।
এই দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ভীতি ছড়ালেও বিশ্লেষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিনিয়োগকারীদের হতাশ বা ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দরবৃদ্ধি ও পতন বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। এতে আতঙ্কিত বা ভীত হওয়ার কিছু নেই। আমরা চাই একটি টেকসই ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার, যাতে স্বাভাবিক নিয়মেই শেয়ারের দামের উত্থান-পতন ঘটবে, বাজারের সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে। এ জন্য এসইসি নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশসহ নানাভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমরা চাই বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।'
ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক দিন ধরেই বাজার অতিমূল্যায়িত হয়ে উঠেছিল। গত দুই দিনে দরপতনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন বলা চলে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, 'শেয়ারবাজারকে আমরা একটা নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।'
চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। পতনের সময় শেয়ার বিক্রি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
গতকাল সকাল ১১টায় লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের ব্যবধানেই ডিএসইতে দরপতন শুরু হয়। একই সময়ে সিএসইতেও দরপতন
ঘটতে থাকে। এ সময় হঠাৎ করে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। গত কিছুদিনের টানা দরবৃদ্ধির ফলে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পতনের এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনও বাজারের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে নানা পদক্ষেপ নিতে থাকে। টানা দরবৃদ্ধিতে বিচলিত এসইসির কর্মকর্তারা করণীয় নির্ধারণে বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেন।
সোমবারও করণীয় ঠিক করতে দেশের দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এসইসি। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, বিও হিসাবের বিপরীতে চেক জমা দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন না। চেকের টাকা নগদ হলেই কেবল বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। আগে থেকেই শেয়ারবাজারে এমন বিধান বা নিয়ম কার্যকর থাকলেও সেটির যথাযথ বাস্তবায়নে কঠোর ছিল না এসইসি। সোমবারের বৈঠকে এসইসি এ ব্যাপারে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়। ওই দিনই এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাও জারি করে এসইসি।
এর ফলে গতকাল লেনদেন শুরুর পর অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনতে চেয়েও পারেননি। আগের দিন যাঁরা অ্যাকাউন্ট পে চেকের বিপরীতে শেয়ার কিনেছিলেন, গতকাল তাঁদের অনেকের চেক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় ব্রোকারেজ হাউসগুলো। এতে ওই সব বিনিয়োগকারীর হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে আগের দিনের কেনা শেয়ারের দাম সমন্বয় করতে হয়। ফলে বাজারে শেয়ারের বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে টানা কয়েক দিনের দরবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এসব কারণে দিনের একপর্যায়ে বাজারে শেয়ারের ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেড়ে যায়।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বাজারের এই পতনটা প্রত্যাশিতই ছিল। এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমেছে। বাজার কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা ফিরে পেয়েছে। দুই দিনের পতনের ফলে বাজারে ফের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজারের এ পতনের জন্য সালাউদ্দিন আহমেদ দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) হার বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে তারল্য প্রবাহ কিছুটা কমেছে। সেই সঙ্গে চেকের টাকা নগদ না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার কেনার ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
গতকালের দরপতনের কারণ জানতে চাইলে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন সান্নামাত কালের কণ্ঠকে বলেন, টানা দরবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যেকোনো সময় এসইসি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। কিছুদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছিল। পাশাপাশি মুনাফা তুলে নেওয়ার তাগিদও ছিল অনেকের। এ অবস্থায় সোমবার এসইসি চেকের টাকা নগদ না হলে শেয়ার কেনার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরো বেশি ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
আকতার হোসেন আরো বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বছর শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানোর প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও শেয়ার বিক্রির তাগাদা ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তদারকিও যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে গতকাল বাজারে দরপতন ঘটেছে। এই দরপতন কিছুটা হলেও কাঙ্ক্ষিত ছিল। এতে ভয়ের কিছু নেই।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ব্রোকারেজ হাউসের তুলনায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল। সেই সঙ্গে বিক্রির চাপ ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলোরও।
শেয়ারের দামের পাশাপাশি দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ঢাকার বাজারে গতকাল ২৪২ কম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২০৯টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে মাত্র ২৫টির। আর অপরিবর্তিত ছিল আটটির দাম। অন্যদিকে সিএসইতে দিন শেষে ১৯৮ কম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৬৯টির দামই কমেছে। বেড়েছে মাত্র ২৩টির।
দিন শেষে ডিএসইতে প্রায় দুই হাজার ৫১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা কম। সিএসইতে দিন শেষে ২৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৭৯ কোটি টাকা কম।
Click This Link
শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পর্শে_ _ _ _ _
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
মরীচকাি ও নক্ষত্র
মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।
বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।
যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।