somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইচ্ছামৃত্যু বিষয়ক

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভবিষ্যতকে নিখুঁতভাবে বোঝার বা ভবিষ্যৎবাণী করার মত যোগ্যতা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবানেরও নেই। ভবিষ্যৎ বাদ দিন বর্তমান বাস্তবতাকেই আমরা কতটা বুঝতে পারি? হয়তো আমরা কিছুটা বুঝতে পারি কিন্তু অধিকাংশটুকুই আমাদের কাছে অধরা। মানুষের ইচ্ছামৃত্যুর চিন্তা মূলত একটি ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা। কেউ যদি ভবিষ্যৎ জীবনকে যাপন করার উপযোগী মনে না করে তখন সে স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভাবে। এটাই আত্মহত্যাকারী বা আত্মহত্যার চেষ্টাকারীর প্রধান যুক্তি। ভবিষ্যৎ যাপন যোগ্য হবে কিনা এটাই এখানে প্রশ্ন। কিন্তু মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও প্রজ্ঞা যেহেতু ভবিষ্যৎবাণী করার জন্য যথেষ্ট নয় তাই একজন মানুষের তার জীবন নিয়ে যা ইচ্ছা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকতে পারে কিন্তু জীবন বা মৃত্যু বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা মানুষের নেই।

ভবিষ্যতকে ছাড়িয়ে, অনন্ত মহাকালের চিন্তাও মানুষের মধ্যে জাগাতে পারে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তির আশা। জীবন অর্থহীন, হোক সেটা ধনীর কিংবা কাঙালের, রূপসীর কিংবা কদাকারের। আমরা প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছি অনিবার্য অমহত্বপূর্ণ চিরপ্রস্থানের দিকে। সম্পদ, উত্তরাধিকার বা ভোগবিলাস সবই সময়ের নিদারুণ গ্রাসে হারিয়ে যাবে। এই অর্থহীন জীবন রাখার আর না রাখার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ মৃত্যু কিংবা জীবন সবই নিয়ে যাবে অর্থহীন শূন্যতার দিকে। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে "স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করে লাভটা কি?" তারচেয়ে কিছুদিন ভোগবিলাস করে, আনন্দ ফুর্তি করে কাটাই। কিন্তু এটাও একটা অধরা স্বপ্ন।

আপনি যতই ধনী হন কিংবা গরিব, বলশালী কিংবা ক্ষীণকায় পৃথিবীতে যত সময় আপনি স্বাচ্ছন্দে কাটাবেন তার চেয়ে বেশি সময় কাটাবেন দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও মনঃপীড়ায়। অর্থ, ভালোবাসা, সঙ্গ কিংবা ভ্রমণ; কোন কিছুই আপনার সুখের পাল্লাকে ভারি করতে পারবে না দিনশেষে। তবে আনন্দের বিষয় হলো আমরা বেমালুম ভুলে যাই যত দুঃখের কথা আর আজন্ম লালন করি ক্ষনিক সুখকে। এটা অবশ্য আমাদের মস্তিষ্কের কারসাজি।

অবশেষে বিষয়টা এমন দাঁড়াচ্ছে আত্মহত্যা না করেও আপনার বিশেষ কোনো লাভ হবে না। আবার আত্মহত্যা করেও আপনি এই অর্থহীন জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারবেন না। আত্মহত্যার মাধ্যমে আপনি নিরর্থকতার চিন্তা থেকে পালিয়ে গেলেন কিন্তু এর কোনো সমাধান করতে পারলেন না। আর যেটা সমাধান অযোগ্য তা সমাধান করার ইচ্ছা রাখার কি দরকার?

তবে যারা ভয়ানক রোগে ভুগছেন তাদের কথা আলাদা। যে রোগে ভবিষ্যতে সেরে ওঠার আশা থাকে না শুধু থাকে অন্তহীনভাবে কষ্টভোগ করে যাওয়া; তারা মৃত্যুর অধিকার চাইতে পারে। আইনসম্মতভাবে পেশাদারদের পরামর্শে জীবনের ইতি টানা প্রতিদিন অনন্ত কষ্টভোগের চেয়ে কম কষ্টকর।

এযুগের ইচ্ছামৃত্যু আকাঙ্ক্ষীদের অধিকাংশই সম্পর্কচ্ছেদের বেদনায় কিংবা সামাজিক অর্থনৈতিক চাপে আত্মহত্যা করতে চায়। এইসব কারণগুলো কি আদৌ অতটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যতটা তারা ওই সময়টায় দাঁড়িয়ে অনুভব করে? ঠিক কিছুদিন পরে তারা স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসে। এখন যদি খোলাখুলিভাবে ইচ্ছামৃত্যকে অধিকার হিসেবে দেখানো হয় তাহলে তাদের অপরিণত মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হবে এবং দেখা দেবে বিপর্যয়ের। তীব্র অসুস্থতাজনিত কারণ ছাড়া ইচ্ছামৃত্যুর অধিকার থাকা ভয়ংকার কারণ তাতে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক জীব ভাবা গর্বিত এই নিতান্ত প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে গর্বিত গাধামীতে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনানন্দের উইকিপিডিয়া.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৫৮

অক্টোবর-১৪, ১৯৫৪সাল৷

চুনিলাল নামের এক চা বিক্রেতা তাঁর দোকানের সামনে ট্রামের ধাক্কায় একজন পথচারীকে আহত দেখতে পান৷ প্রথমবার নিজেকে সামলাতে পারলেও দ্বিতীয় ধাক্কাটায় তিনি ট্রাম লাইনে পড়ে যান! তাঁর হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিরোধ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:২৯


প্রতিবাদের সময় নেই বাকি, তাই
অবিলম্বে গড়ে তোলো তীব্র প্রতিরোধ;
অন্যায়ে রুখে দাঁড়াও একত্রে সবাই-
নিতে হবে সব অন্যায়ের প্রতিশোধ।
অবহেলিত সকল, যত নিপীড়িত
সয়ে যাচ্ছো জালিমের শত অত্যাচার;
তোমার দাবি-দাওয়া সব উপেক্ষিত-
দাম নেই দুনিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকাশে বিমান উড়লে মাটিতে তার ছায়া পড়ে না কেন?

লিখেছেন সোহাগ আহমেদ মায়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৭



খুব মজার প্রশ্ন। আকাশে বিমান উড়ে যেতে দেখি। কিন্তু খুব কম মানুষের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ওঠে। তাই শুরুতেই এই তাত্পর্যপূর্ণ প্রশ্ন করার জন্য যায়েদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নক্সী কাঁথার মাঠ - জসীম উদ্‌দীন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ২:০৫


পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীনের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো। গ্রন্থটি মূলত রূপাই এবং সাজু নাম দুই যুবক-যুবতীর প্রেমের কাহিনী। মজার বিষয় হলো, গ্রন্থটির চরিত্র বা "রূপাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগারদের ফিরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৪০

সামু ব্লগে এখন দুর্দিন চলছে। এই ব্লগে আমি মুলত একজন পাঠক। শক্তিসালী লেখকদের পোস্ট পড়তে ও কমেন্ট করতেই মুলত আমি ব্লগে লগিন করি। কিন্ত ইদানিং ব্লগ মাতানো ব্লগারেরা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×