somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আছমত আলী // একজন সুখি মানুষের প্রতিকৃতি ।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আছমত আলী পালোয়ান। বয়স ৯০। আমার দাদা- রেকায়াত আলীর ( ১০৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন) একজন জুনিয়র বন্ধু। পেশাগতভাবে তিনি ইউনিয়ন ভুমি অফিসে ছোটখাটো চাকুরী করতেন। সেই হিসেবে কোথায় কার কতটুকু জমি আছে তা আছমত আলীর মুখস্থ। পেশাগত জিবনে তিনি খুব দায়িত্ববান ছিলেন।
আছমত আলীকে আমি সর্বদা হাসি খুসি দেখেছি। খুব সাধা-মাটা ভাবে জীবন যাপন করেন। তার চাহিদা খুবই কম। ছবিতে তিনি ছোট পরিসরের একটা বিয়েতে বিনা পয়সায় রান্না করছেন( ছবিঃ ঈদুল আযহা ২০১৪)। তিনি খিচুড়ি খুব ভাল রাঁধেন। আজ থেকে ২৫ বছর পুরবে বিদ্যানন্দপুর ব্রিজ এর দক্ষিন পাশে (তখন ব্রিজ ছিলনা) নদীর পারে বইশাখ মাসের গরমে ব্রিস্টির জন্য দুয়া অনুস্থান আয়োজন করা হতো। এই অনুস্থানে শিন্নি খাওয়ানো হতো কলা পাতায় করে। আর এই পুরা অনুস্থান আয়োজন করতেন আছমত আলী। পালোয়ান হিসেবে আছমত আলী হারাইন এর দিনে শিয়াল মারবার নেত্রিত্ত দিতেন!!! এছাড়াও তিনি সখ করে জালের নৌকা নিয়ে নদীতে শখ করে মাছ ধরতে যান তার জুনিয়রদের নিয়ে। যেমনটা আমার দাদা রেকায়াত আলী এক সময় করতেন। আছমত আলী আমার দাদার শখের মাছ ধরার নৌকায় মাছ ধরতে যেতেন তার সহযোগী হিসেবে। এই মাছ কখনো বিক্রি করা হয় না, সবাই মিলে ভাগকরে নেয়া হয়।
আছমত আলী আর একটি বিশেষ কাজ করেন। তা হল মানুষ মারা গেলে লাশ গোসল করানো, কবর তৈরি করা ও দাফন করা। আবার মরহুমের নামে চল্লিশা অনুস্থানের আয়োজন আছমত আলীকে ছাড়া কল্পনা করা জায় না। তবে আছমত আলী জীবিত অবস্থায় নিজেই তার নামে খাবারের ও দুয়া অনুস্থানের আয়োজন করেছেন। প্রক্রিতপক্ষে এটাই ইসলামের নিয়ম।
বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে আছমত আলীর মত সাদা মনের মানুষ বিরল। আল্লাহর নিকট দুয়া করি আছমত আলী সুস্থ ভাবে কাজের মধ্যে বাকি জীবন বেচে থাকুক এবং পরকালে জান্নাত লাভ করুক। আমীন!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×