somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিলন
আমার ব্লগবাড়িতে সুস্বাগতম !!! যখন যা ঘটে, যা ভাবি তা নিয়ে লিখি। লেখার বিষয়বস্তু একান্তই আমার। তাই ব্লগ কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন এই লেখা আপনার নিজের মস্তিস্কপ্রসূত নয়।

ফিলিস্তিনিদের ’নাকবা’র ৬৬ বছর !

২১ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত ও নির্যাতিত জাতি ফিলিস্তিনিদের জন্য গত ১৪ মে ছিল ’নাকবা’ দিবস।আরবি শব্দ নাকবা মানে মহাবিপর্যয়। হ্যাঁ, গত ১৪ মে ছিল বিশ্বের বুকে অবৈধভাবে ইহুদি রাস্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার দিন যা ছিল সত্যিকারভাবে ফিলিস্তিনিদের জন্য মহাবিপর্যয় ! আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একটা প্রবণতা হল ইসরায়েল রাস্ট্রটিকে যতটা না ঘৃণা করি তারচেয়ে বেশি ঘৃণা করি ইহুদিদেরকে, কিন্তু ইসরায়েল রাস্ট্রের সাথে ইহুদি নয় বরং ইহুদিবাদের সম্পর্ক জড়িত। ইহুদি আর ইহুদিবাদ দু;টোই এক নয়। ইহুদি ধর্মের দু’টি শাখা আছে। একটিকে বলা হয় জায়নিজম বা ইহুদিবাদ আর অন্যটিকে বলা হয় জুডায়জম যা আদি ইহুদি ধর্মের অনুসারী।ইহুদিবাদের ইউটোপিয়ান হল বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা। ।সত্যিকারভাবেই ইহুদিবাদ বলতে এক বিশেষ রক্ষনশীর ইহুদি সম্প্রদায়কে বলা হয় যারা বৃহত্তর ইসরায়ের সম্পর্কে অবগত যা আজকের মিশর, জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন নিয়ে গঠিত হবে এবং এর বাস্তবায়ন করাকে ঈশ্বরের পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করেন।অনেক ইহুদি রাব্বীগণ বিশেষ করে যারা জুডায়জমের অনুসারী তারা মনে করেন না এই তত্ব ইহুদি ধর্মের কোন অংশ বরং তারা ইসরায়েল রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী ও ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা করেণ। World without Zionism শিরোনামে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ২০০৫ ও ২০১০ সালে পরপর দু;টি সেমিনারের আয়োজন করেছিলেন যে সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন জুডায়জমের অনুসারী ইহুদি রাব্বীগণ ! ইহুদিবাদ তত্ত্বের তাত্ত্বিক ও দার্শনিক হলেন থিওডোর হার্জেল ।১৮৯৬ সালে তিনি The Jewish state নামে একটা বই লেখেন এবং তিনি ঘোষনা দেন যে, The cure for anti-semitism was the establishment of a Jewish state. As he saw it, the best place to establish this state was in Palestine.এই তত্ত্বের মূল লক্ষ্য ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠা, আধ্যাত্মিক বা নিছক ধর্মীয় উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে প্রথম পদক্ষেপ হল বিশ্বের ইহুদিসমূহকে একত্র করা যা শুরু হয়েছিল সেই বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে ১৯১৭ সালে।

বেলফোর ডিক্লারেশনের পর থেকে সারা বিশ্বের ইহুদিরা জড়ো হতে শুরু করে ফিলিস্তিনে! ১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার।১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়। সেই যে শুরু ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপনের কাজ তা এখন পর্যন্ত জোর গতিতে এগিয়ে চলেছে। এক মুহুর্তের জন্য থেমে নেই ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি। ইসরায়েলের প্রচুর জমি দরকার কারন ইসরায়েল বিশ্বের সমগ্র ইহুদীদের নিজ নাগরিক মনে করে। তারা মনে করে একদিন বিশ্বের সমগ্র ইহুদী সম্প্রদায় একত্রিত হবে আর প্রতিষ্ঠা করবে বৃহত্তর ইসরায়েল রাস্ট্র। এরকম ভাবনা বিশ্বের আর দ্বিতীয় কোন নজীর নেই । আপনি যদি ইহুদী হন তাহলে আজই ইসরায়েলের সাথে যোগাযোগ করুন । আপনার সমস্ত খরচ ইসরায়েল রাস্ট্রীয়ভাবে বহন করে ঐ ইহুদী রাস্ট্রটিতে আপনাকে নিয়ে যাবে এবং আপনি পাবেন ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা কোন এক বাড়ি আর থাকা, খাওয়া ও জীবিকা অর্জনের সব ব্যবস্থা তো আছেই ! ৬৬ বছর ধরে তারা নিজ বসতি ভিটা ছেড়ে শরণার্থী হয়ে আছে ও এখনও হচ্ছে ! আর ১৯৪৮ সালের আগে ইসরায়েল নামে কোনো রাস্ট্র পৃথিবীতে ছিল না ! উড়ে এসে জুড়ে বসার মত ব্যাপারটা । ধরুণ, আপনি নিজ বাড়িতে বসবাস করেণ। একদিন অচেনা অজানা একদল লোক এসে বলল, আজকেই আপনার বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে ! এখন থেকে এ বাড়ি আমাদের ! ফিলিস্তিনে এটা ঘটছে ! ফিলিস্তিনিদের ধরে ধরে নিয়ে যাওয়া একটা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার এমনকি ইসরায়েলী কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি নেতারাও রক্ষা পান না, স্পীকার, মন্ত্রী এমপিসহ যে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ইচ্ছে করলেই ইসরায়েল ধরে নিয়ে যায় আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না । এমনি একজন ফিলিস্তিনি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘুতি কয়েকযুগ থেকে ইসরায়েলী কারাগারে। ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের গুম, হত্যা, খুন যেন নিত্যসঙ্গী!

ইহুদিবাদীসহ পশ্চিমা মিডিয়া ইসরায়েল রাস্ট্রের যৌক্তিকতা হিসাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সংঘটিত হলোকস্টকে তুলে ধরেণ । আমার প্রশ্ন হলো, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ছয় কোটিরও বেশী মানুষ নিহত হয়েছিল, এই ছয় কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় বিশ লক্ষ লোক ছিল সেনা বা সামরিক বাহিনীর সদস্য। আর বাদবাকী সবাই ছিল বেসামরিক নাগরিক। এরা ছিল সাধারণ নাগরিক এবং যুদ্ধে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এই পৌনে ছয় কোটি মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করা হয়েছে। তাই এরা সবাই সম্মান পাবার যোগ্য। কিন্তু কেন একটি বিশেষ শ্রেণীর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো যদি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কেন নিরপেক্ষ গ্রুপগুলোকে ঐ বিষয়ে গবেষণা করতে দেয়া হচ্ছে না? কেন ইউরোপের নাগরিকদেরকে নিজ সরকারের মতের বিরোধী বক্তব্য রাখার দায়ে শাস্তি ও কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়? যেমন রগার গারুদী, রবার্ট ফাওরিসনসহ আরো অনেক গবেষকগণকে হলোকাস্ট নিয়ে রিসার্চ বা অস্বীকার করার কারনে কারাদন্ড এবং জরিমানা প্রদান করতে হয়েছে !

আর মূল যে প্রশ্নটি কেউ করছে না তা হলো, হলোকাস্টের ঐ ঘটনা যদি ইউরোপে ঘটে থাকে তাহলে ফিলিস্তিনের জনগণকে কেন এজন্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে? ফিলিস্তিনের জনগণ কি অপরাধ করেছে? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তো তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, তবুও কেন ঐ ঘটনার অজুহাতে ৭০ লক্ষেরও বেশী ফিলিস্তিনীকে শরণার্থীতে পরিণত করা হলো এবং ৬০ বছর ধরে তারা শরণার্থীর জীবন যাপন করছে?

আজকের যারা ফিলিস্তিনি তারা সেই চার হাজার বছরের আগে থেকেই সেখানকার অধিবাসী।গবেষনা করে এ কথা প্রমান করেছেন খোদ তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক শোলমো স্যান্ড।তিনি দেখিয়েছেন আজকের হিব্রু জাতির বর্তমান বংশধর যদি থেকে থাকেন তা হল ফিলিস্তিনের বর্তমান মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়। আর আজকের ইসরায়েলের ইহুদীরা তো এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ কথা আগেই বলা হয়েছে।
তারপরেও এই সব হাস্যকর যুক্তি কোন বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে না ।যদি তা মেনে নেই তাহলে বর্তমানের আমেরিকার উচিৎ রেড ইন্ডিয়ানদের আমেরিকা ছেড়ে দিয়ে তাদের পূর্বভুমি ইউরোপে চলে আসা ।

অস্ট্রেলিয়ারও উচিৎ তাদের আদিবাসীদের কাছে তাদের ভূমি ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বিদায় নেওয়া।ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড এরা বর্তমানে দখলকৃত সব ভূমি ফিরিয়ে দিক মাওরিদের কাছে।

এরপরে আরো ইতিহাস আছে। ইহুদীদের জন্য যখন রাস্ট্র খোঁজা হয় শুরুতে তখন ফিলিস্তিনের কথা বিবেচনায় আনা হয় নি। প্রথমে ইহুদীরা ব্রিটিশদের কাছে দাবী করেছিল উগান্ডা বা আর্জেন্টিনায় তাদের জন্য আলাদা একটা বাস স্থানের জন্য কিন্তু তা কোন কারনে প্রত্যাখ্যাত হয়। তৎকালীন তুর্কি সুলতান আব্দুল হামিদের কাছে জায়নিস্টরা আবেদন করেছিল তুর্কি সুলতানের কাছ থেকে কিছু জমি কিনে ইহুদী রাস্ট্র পত্তন করার জন্য কিন্তু সুলতান জবাব দিয়েছিলেন, ’ইহুদীদের এক ইঞ্চ ভুমিও দেওয়া হবে না।’

প্রায় ৭০ লাখের মত ফিলিস্তিনি পার্শ্ববর্তী আরবদেশগুলিতে সেই ৬৬ বছর ধরে শরণার্থী জীবন যাপন করছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ! ইরান-সিরিয়া বাদে আরবরা যেমন ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য বিপর্যয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন, শুধু আচ্ছন্ন নয় আরব রাজা বাদশা্হরা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যস্ত কিভাবে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় তেমনি বিশ্ব বিবেক এখানে চুপ !

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪২
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×