ইরাকে আইএসআইএল এর বর্বরতা ! এই পথ ও আদর্শ যদি শান্তির হয় তাহলে জাহান্নামের পথ কোনটি ?
কোনটি আসল ইসলাম ? আল কায়েদা, বোকো হারাম, সেপাহে সাহাবা, তালেবান, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, আইএসআইল এর ইসলাম নাকি শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের ইসলাম আসল ইসলাম ? গত কয়েকদিনে ইরাকের একটি প্রদেশসহ কয়েকটি প্রদেশের কিছু অংশ আইএসআইল এর সদস্যরা দখল করে নেওয়ার পর নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে ! স্যারেনন্ডারকৃত ইরাকি সৈন্যদের মরুভূমিতে হাত পা বেঁধে গণহারে হত্যা করেছে আইএসআইল ! মসুলের কেন্দ্রীয় মসজিদের সুন্নী ইমাম আইএসআইএল এর কথা না শুনায় সেই ইমামকে কে টুকরো টুকরো করেছে জঙ্গীরা ! শুধু তাই নয় মসুলের ১২ জন সুন্নী আলেমকেও হত্যা করেছে । মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭০০ নিরপরাধ সুন্নী ছাত্রকে হত্যা করেছে আইএসআইল ! যৌন জিহাদ ও ধর্ষণ তো আছেই -কারণ জঙ্গীদের দৃষ্টিতে যুদ্ধবন্দিনী নারীদের ধর্ষণ বৈধ ! এসব হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে ! এমনকি গণহত্যা সংঘটিত করার পর আতংক ছড়ানোর জন্য আইএসআইল তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এসব ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পাবলিশ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ! অন্যদিকে বোকো হারাম, আল কায়েদা, তালেবান, সেপাহে সাহাবাদের কর্মকান্ড কারো অজানা নয়! বোকো হারাম কর্তৃক ২৭৬ জন স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের খবর সবাই জানেন যাদেরকে দাসী হিসাবে বিক্রি করার কথা তারা বলেছিল ! হয়তো হতভাগিনী ছাত্রীদের অনেকেই দাসী হিসাবে বিক্রি হয়ে গেছেন ইতোমধ্যেই ! মসজিদ, গির্জায়, বিয়ে বাড়ি, বাজারে, মাঠে, হাটে, ঘাটে, স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতেও হামলা করে মানুষ হত্যা করা যেন এদের নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার !
বোকো হারামের শিশু অপহরণ নিয়ে কয়েকদিন আগে তসলিমা নাসরিনের একটা লেখা পড়লাম। সেখানে তিনি বিস্তারিতভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে বোকো হারাম, আল কায়েদার ইসলামই আসল ইসলাম ! তসলিমা নাসরিনের এই কথায় আমি মোটেই বিষ্মিত হইনি বরং তিনি প্রগতিশীল ও প্রথাবিরোধী লেখিকা বলেই এটা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য বলেই জানি কিন্তু তিনি কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যেগুলো সত্যিই চিন্তার খোরাক ও বিষ্ময়ের জন্ম দেয় ! তিনি বলেছেন, বোকো হারাম ও আল কায়েদার ইসলাম যদি আসল ইসলাম না হয়ে থাকে তাহলে মুসলমানদের আলেম সমাজের এনিয়ে বক্তব্য কি ? কেন তারা জঙ্গীদের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না ? জঙ্গীদের ইসলাম যে আসল ইসলাম নয় এনিয়ে আলেম সমাজের প্রচার প্রচারণা কই ? ইউরোপ, আমেরিকায় ইসলামের সামান্যতম অবমাননার কারণে যেখানে পুরো মুসলমান সমাজ ক্ষোভে ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সেখানে জঙ্গীদের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড যদি ইসলাম সম্মত না হয়ে থাকে তাহলে আলেম ও সমগ্র মুসলিম সমাজ চুপ কেন ? জঙ্গীদের এসব কর্মকান্ড দ্বারা ইসলামের অবমাননা হচ্ছে না ? ইসলামকে কি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না ?
অবশ্য ইসলামের শিয়া মাজহাবের অনুসারী ইরান, ইরাকের আলেমগণ এসব জঙ্গীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বার বার ফতোয়া দিয়েছেন, বক্তব্য, বিবৃতি দিয়েছেন, কিন্তু জঙ্গীরা যেহেতু সুন্নী ও জঙ্গীদের অন্যতম টার্গেট হল শিয়া মুসলিমগণ সেহেতু শিয়া আলেমদের ফতোয়া স্বভাবতই জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যাবে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নী আলেমদের ভাবনা কি ? বক্তব্য, বিবৃতি কি জানতে মুঞ্চায় ! মুসলমানদের বৃহৎ সংগঠন ওআইসির বক্তব্য কি ? বাংলাদেশের মুসলমানরা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নী সেহেতু বাংলাদেশের সুন্নী আলেমদের এনিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে মনে করি।কারণ আফগানিস্থান, পাকিস্থান, সিরিয়া, ইরাক হয়ে ঐ জেহাদি জোস বাংলাদেশে যে প্রবেশ করবে না এর কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন না ! ২০০৫ সালেই তার জ্বলন্ত প্রমান !
অনলাইন জগতে পদচারণার সুযোগে জানতে পেরেছি আমাদের বাংলাদেশেও এসব জঙ্গীদের প্রচুর সমর্থকগোষ্ঠী আছে ! যারা বলেন বাংলাদেশে কোনো জঙ্গী নেই তারা হয় জঙ্গী -নয় জঙ্গীদের প্রচ্ছন্ন/প্রকাশ্য সমর্থক ! আইএসআইল, আল কায়েদা, বোকো হারামের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পক্ষে ইসলামিক জিহাদের সাফাই গেয়ে অনেকেই বিভিন্ন পোস্ট কমেন্ট করেছেন ! এজন্য একই সাথে আতংকিত ও শিহরিত হই যে, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্থান, পাকিস্থানের জেহাদি জোসের ঢেউ যে কোনো সময় বাংলাদেশেও এসে ২০০৫ এর চেয়েও ভয়াবহভাবে আঁচড়ে পড়ে কি না !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



