সম্প্রতি, সুন্দরবনে পাঁচশ' টন পটাশ সার (লাল সার) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজের তলা ফেটে ডুবে গেছে। কার্গো থেকে সার মিশ্রিত পানি জোয়ারে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে ছড়ি পড়েছে। আর, নদের যে অংশে সার বোঝাই জাহাজডুবি হয়েছে সে অংশ ডলফিনের বিচরণ ক্ষেত্র। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নদের পানিতে সার মিশে ডলফিনসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বনজসম্পদের ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন কোন কোন বিশেষজ্ঞ।
এর আগে, ৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজের তলা ফেটে পানি ঢুকে পড়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবতে ডুবতে রক্ষা পায়। তার আগে, গত বছর ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনে ফার্নেস তেলবাহী জাহাজ ডুবে বিস্তৃর্ণ এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ে। সেটি ছিল সুন্দরবনের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জাহাজডুবির ঘটনা। সেই ঘটনায় সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়। দেশ-বিদেশের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশও করেছিলেন। শ্যালা নদীতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটার পর এক মাস যেতে না যেতেই শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়। সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ), বাস্তবায়ন চুক্তি (আইএ), যৌথ উদ্যোগ চুক্তির সম্পূরক (এসজেভিএ) স্বাক্ষর করেছে সরকার। দেশ বিদেশের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে খ্যাত সুন্দরবনের ১০ মাইলের কম ব্যবধানে ওই কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে ১৫% বিনিয়োগে ভারতীয় মালিকানা ৫০%!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


