somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিরান
অন্ধকারের কাছ থেকে আলোকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি। জানিনা এ চেষ্টা কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। স্রষ্টার এই অপরূপ পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

সমসাময়িক এলাকাভিত্তিক রাজনীতি ও টুকরো কিছু কথা।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এদেশে যারা রাজনীতি করে তারা নিজেদের কি মনে করে! এলাকার পাতি নেতা হতে শুরু করে শহরের তালিকাভুক্ত নেতা এবং তাদের কিছু কর্মীরা শহরটাকে যেন কিনে নিছে! যেখানেই যায় কেউ না কেউ নিজেকে সরকার দলীয় নেতা বলে জাহির করে! সাধারণ খেটে-খাওয়া কর্মজীবী মানুষগুলো আজ এদের হাতে জিম্মি, অতীষ্ট। আশেপাশের সাধারণ মানুষ গুলোকে থোড়াইকেয়ার করে তারা। দেশের পুলিশ প্রশাসনও আজ এদের কথায় উঠবস করে। কিছু পুচকে পোলাপাইন তোমার আশেপাশে রাখো, সিনিয়র কিছু লিডার এর সাথে তেল মেরে সম্পর্ক করো, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করো, তাহলেই তুমি নেতা! যা ইচ্ছে করতে পারো তুমি! রাজনীতির এক অন্য অর্থ তৈরি করছে আজ এসব নেতারা। যেখানে যাবে সেখানেই অন্যায় ক্ষমতার দাপট না দেখালেই যেনো নয়... ঐ যে সরকার দলীয় নেতা বলে কথা! দেশে যে সরকারই আসুক না কেন, প্রত্যেক সরকারেই এসব নেতা থাকে। ক্ষতিকারক জীবানুর মতো তারা এ সমাজ, দেশেকে কলুষিত করে যাচ্ছে । ঠেন্ডার, চাঁদাবাজি, লুটপাঠ, মারামারি-হানাহানি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, এসব এখন রাজনীতির সিম্বল হিসেবে কাজ করে! আসলেই... এসবই কি রাজনীতি?! তারা কি জানে রাজনীতি কাকে বলে? মনে তো হয় না। গতকাল সন্ধ্যায় একটা কাজে আমি যখন জি, ই, সি গেছিলাম, তো ফিরার জন্য যখন রিকশার জন্য অপেক্ষা করছি তখন এক বন্ধুর সাথে দেখা, সে আবার চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা, নাম প্রকাশ করছি না। আর এসব লেখাও তার দেখার সম্ভাবনা নেই, কারন এসব ব্লগ আবার এসব নগর ভিত্তিক নেতারা দেখে না, পড়ার তো প্রশ্নই আসেনা। তো অনেক দিন পর দেখা হলে যা হয় আর কি; - বন্ধু বললো, দোস্ত কি অবস্থা কেমন আছিস? ইত্যাদি ফর্মালিটি। - ভালো দোস্ত, মোটামুটি আছি আমি। তোর কি অবস্থা রাজনীতি কেমন চলতেছে? দেশের ব্যবসা বানিজ্যের অবস্থা তো তেমন ভালো না। - আর বলিস না, ধান্ধা পান্ধার অবস্থা তেমন ভালো না, টেন্ডার তেন্ডার এর অবস্থাও তেমন ভালো না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে গেছে। শালার রাজনীতি আমারে তেমন কিছুই দিলো না! ... চিন্তা করেন, ব্যাটা রাজনীতি করে কিসের জন্য! রাজনীতি তাকে কিছুই দিলো না! যাই হোক দোস্ত আমাকে আমার অনিচ্ছ্বাসত্তেও নিয়ে গেল এক ফাস্টফুডের দোকানে, নাস্তা করাবে বলে। নাস্তা করছি আর টুকটাক আলাপচারিতা সাড়ছি। মূল ব্যাপারটা হলো তখন যখন আমি আগ বাড়িয়ে নাস্তার বিল দিতে গেলাম। দোস্ত বললো বিল কেন দিতেছস! আমি ভাবলাম সে বিল দিতে চাইতেছে তাই আমাকে বারণ করতেছে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বিল না দিয়েই সে আমাকে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে গেল! দোকানদারও দেখি কিছু বললো না! বললাম দোস্ত বিল দেয়া হলো না তো? সে বলে, তুই দেখি আমার মান-সন্মান এ আঘাত করবি! আরে ব্যাটা এরা আমার কাছ থেকে বিল নিবে কোনদিন, আরে ব্যাটা আমার একটা প্রেস্টিজ আছে না! আমি কি তুই জানোস না!! আমি আর কিছু বললাম না, কারন ওরা এখন সম্পূর্ণ বিবেকশূন্য। কোনো নীতি কথায় এদের কাজ হবে না। যাই হোক, বাসায় ফিরার জন্য রিকশা ঠিক করতেছি, সাথে দোস্তও আছে আমি রিকশায় উঠলে সে বিদায় নিবে। এক রিকশাওয়ালাকে জিগ্যেস করলাম ভাই অমুক জায়গায় যাবেন? রিকশা ড্রাইবার বললো যাব চল্লিশ টাকা লাগবে। আমি কিছু বলার আগেই দোস্ত রিকশা ড্রাইবারকে হঠাৎ ঠাশ করে এক থাপ্পর দিয়ে বসলো, বললো ঐ ব্যাটা এখান থেকে এখানে চল্লিশ টাকা ভাড়া?! আমি তো হতভম্ব... বললাম, দোস্ত সে ভাড়া বেশি চাইতেই পারে, আমি তো দরাদরি করিনি এখনো, তুই হঠাৎ বেচারাকে এত জোরে মারতে গেলি কেন? তুই ক্ষমা চা ওনার কাছে, বয়স্ক একটা মানুষকে এভাবে মারতে গেলি কেন? দোস্ত বললো, পাগলের মত কথা বলিস না তো, এসব রিকশাওয়ালা গুলোকে কখনোই পশ্রয় দিবি না, মাথায় উঠে বসে। হুঁহ.. আমি কারে কি বলি! আসলেই এরা কি কখনো মানুষ হবে না? কোনো কোনো বিবেকবোধই এদের ভিতর কাজ করেনা। দেশটাকে আজ তারা দূর্গন্ধময় ডাস্টবিনে রূপান্তরিত করছে। এদের বাঁধা দেয়ার মত ক্ষমতাও আজ নেই সাধারণ মানুষগুলোর। সাধারণ মানুষের ক্ষমতা নেই এদের বিরুদ্ধে টু শব্দটি করার। সরকার এদের, প্রশাসনও এদের কথায় উঠবস করে, দেশটাকে এরা এদের একচ্ছত্র রাজত্ব বানিয়ে রাখছে! এরা যা চাইবে তাই হবে। সাধারণের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই এখানে। কারন এরা যে সরকার দলীয় নেতা! দেশে যে সরকারই আসুক না কেন, প্রত্যেক সরকারেই এসব নেতা বিদ্যমান। পরিবর্তন শুধু, ছাগুলীগ, হাম্বালীগ ইত্যাদি থেকে ছাগুদল, হাম্বাদল ইত্যাদি...। আমরা কি এর বৃত্তের ভিতর থেকে বের হতে পারবো না??!!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×