somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদোনুভব

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ ইফতারটা খাওয়ার সময় খারাপ লাগছিলো। রমজান আরও একবছরের জন্য শেষ হয়ে গেলো, ভাবতেই কেমন যেন লাগছিলো। এতদিনের অনেক কষ্টে 'ভালো' হয়ে থাকাটা ধরে রাখতে পারবো কিনা চিন্তা হচ্ছিলো, সেই সাথে ঈদের আমেজ একটু একটু করে জমছিলো।

আপুনি আমার আর মার হাতে মেহদি দিয়ে দিয়েছে। ছোটবেলায় মা সবসময় হাতের তালুতে ফুল বা সুর্য এঁকে দিতো। গোলাকার, সবুজ, নরম ও ভেজা জিনিষটা নিয়ে মহা উৎসাহে বসে থাকতাম। তবে এক-আধঘন্টা পরেই অস্থির লাগতো। আবারও ভীষন উৎসাহে হাত ধুয়ে ফেলে দেখা যেত কোন রং হয় নি

এবার সব কাজ শেষ করে মেহদি দিতে দিতে বেশ রাত হয়ে গেলো, তাই মেহদি হাতে রেখেই শুতে গেলাম। বিরাট ভুল। ঈদের সকালে খুব অসস্থির সাথে ঘুম থেকে উঠলাম।
ভেবেছিলাম সুন্দর দিনটা সুন্দরভাবে শুরু করব - তাহাজ্জুদ দিয়ে। এই প্লানটা এক বন্ধুকে বলার পর একটা 'আই রেসপেক্ট ইউ' পেলাম। কিন্তু মেহেদি-কেলেংকারীর জন্য ভাবনা বাস্তবায়ীত হলো না । বিছানা গুছিয়ে লম্বা গোসলে ঢুকলাম। প্রায় একঘন্টা পরে বের হওয়ার পর মাথা ঘুরাচ্ছিলো। বুঝলাম এতও সকালে গায়ে এতো পানি ঢালার ফলাফল সুখকর হবে না। ফজরের নামাজ পরে তৈরী হলাম। ঈদের নামাজ জামাতে পরার জন্য সর্বচ্চ চেষ্টা চলছিলো।

চারুকলা থেকে বের হওয়া খালাত ভাই ও ভাবী থাকায় অনেক সুবিধা । ওদের চিত্রশিল্প দিয়ে করা আবায়া দিয়েছিলো মা। আবায়াটার ভেতরে সাদা, ওপরে আসমানি নীলের পাতলা পরত, আর সবুজাভ নীলের হ্যান্ড-পেইন্ট। এর সাথে পরেছি আপুনির দেওয়া সবুজাভ-নীল হিজাব। সবাই তৈরী হওয়ার পর খাবার টেবিলে জড়ো হলাম। খেজুর ও কিছু নাশতা খেয়ে ভাইয়া সবাইকে গাড়িতে ঢুকিয়ে ঈদের নামাজের জন্য রওনা দিলো।

বাইসেন্টেনিয়াল পার্কে ঢোকার সময় গাড়ির বিরাট লাইন চোখে পড়লো। প্রায় প্রতিটা গাড়িতে দাড়িওয়ালা ও হিজাবী তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, কিশোর-কিশোরী, পিচ্চি-পাচ্চি দেখা যাচ্ছিলো। প্রায় প্রতি বছর একই ঘটনা ঘটে, তবুও প্রতিবারই মুগ্ধকর ভাবে ভালো লাগে। গাড়ি থেকে নেমে নামাজের জায়গায় যাওয়ার সময় অনেকগুলো ঈদ মুবারক ও সালাম পেলাম। অচেনা মানুষগুলো হঠাৎ করে যেন অনেক কাছের হয়ে গেলো। আর মাঠে ঢুকেতো কথাই নেই, কান্না চলে আসার মত অবস্থা!

নামাজ শেষে কিছুক্ষন ঘুরলাম পাঁচজন মিলে। একেবারে দুপুর দু'টা পর্যন্ত বিভিন্ন বাসায় যাওয়া হলো, মজার মজার খাবার খাওয়া হলো ও টায়ার্ড হওয়া হলো। ভাইয়ার ইউনিতে জরুরী কাজ ছিলো, তাই ও চলে গেলো নামাজ পড়ে। আর আমরা বাকি চারজন বাসায় এসেই বিছানায় কাত।
বিকালে উঠে মাকে রাঁধতে সাহায্য করলো আপুনি। আমি পিচ্চিদের জনউ অনেকগুলো ললিব্যাগ বানালাম। তারপরে আসরের নামাজ পরে সাজলাম।
এবার ঈদে পরেছি সবুজ শর্ট কামিজ - অনেকটা লাইম সবুজ। সাধারনত আমি খয়েরি, কালো বা নীল ধরনের কিছু পরি... কিন্তু এবার একেবারে সবুজ! সাথে মিলিয়ে কানের দুল, গলার চেইন ও চুড়ি ছিলো।

সবাই আসতে শুরু করলো মাগরিবের একটু আগে। কলকাতার একটা আন্টি এসেছে প্রথমে। ওনার একটা চার-পাচ মাসের পিচ্চি ছেলে ছিলো - নয়ন। এতো কিউট দেখে আদর করতে চেয়েছি, পিচ্চি দিলো কেঁদে । আস্তে আস্তে বাসা ভরে গেলো, পরে গুনে দেখা গেলো 69 জন! এর মধ্যে আনেকগুলাই পিচ্চি - যাদের অতি কিউট কান্ড কারখানা বর্ণনা করা আমার শব্দ ভান্ডারের বাহিরে।

যাহা হউক, ভারী ভালো একটা দিন গেলো, ভীষণ আনন্দের। ঈদের লেট শুভেচ্ছা রইলো সব ব্লগানিতে-ব্যাস্ত-ব্লগারদের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৪৩
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×