তবে সমস্যা শুরুহবে ঐ পাঁচ মিনিটের পর। এর পরে সে বর্ণনা শুরু করে কিভাবে গতরাতে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ব্যাস্ত হয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ে। প্রথম প্রথম ওর জন্য খারাপ লাগতো। সাহায্য করার চেষ্টা করতাম। ওর মনে হতো পুরো পৃথিবীটা ওর বিরুদ্ধে আছে আর নিজেকে হত্যা করাই একমাত্র পথ। মনে আছে, আগে ঘন্টার পর ঘন্টা তার সাথে বসে অন্যত্র বোঝাতে চেষ্টা করতাম। হু, কাজ হতো না। পরের দিন আবার একই কথোপকথন!
মাঝে মাঝে মনে হতো মেয়েটা ঠিকই বলে। আশেপাশের সব কিছু আসলেই আমাকে ফাসাতে চাচ্ছে। তখন ওকে সান্তনা দিতাম - ওর মতই যে আরেক অভাগী আছে! ও আরও উৎসাহ পেয়ে নতুন করে মাথা ব্যাথা শুরু করতো।
কিন্তু গত তিন বছর তার সাথে কাটানোর পর বুঝতে পারছি বেশির ভাগ কথাই অন্যের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টায় ছিলো। একই কথা তিন বছর ধরে কেও বলে? হাতের রগের মধ্যে নতুন কিছু দাগ থাকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই। এর বেশি কিছু না।
মেয়েটার বয়স পনের। পনেরতেই এতো দুঃখ যদি থাকে, বোঝা যায় সে সব বানানো দুঃখ। ছোট্ট ঘটনাকে বড় করে দেখার অসুখ। মনের অসুখ। এই অসুখ যখন একজনের মাঝে সবসময় দেখা যায়, তখন ব্যাপারটা বড়ই বিরক্তিকর হয়ে পড়ে।
ছবি: কপিরাইট মীরা বিগাম, মার্চ 07।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



