পরদিন সকালে ফজর পড়েই তৈরি হওয়া শুরু করলাম। বরাবরের মতো এবারও দেরি হয়ে গেলো। এটা নেই তো ওটা নিতে ভুলি। মা শেষ মুহুর্তে টিকেট ধরিয়ে দিলো হাতে। হু, অগোছলো রোগ আর কাকে বলে! বাবা ট্রেন স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া শর্তেও একটুর জন্য ট্রেন মিস করলাম। আমার অবস্থা ততক্ষনেই অনেক খারাপ। যদি জানতাম সেটা মাত্রই শুরু, তাহলে বোধ হয় ক্যাম্পে যাওয়ার ইচ্ছে পুরোপুরিই উবে যেত।
যে ট্রেনে উঠলাম সেটা স্কুলের স্টেশনে পেঁৗছাতে দেরি করলো। আমি এক বন্ধুকে ফোন করে বলে দিলাম আমার কিঞ্চিত (অনেক) দেরি হতে পারে। মাকেও বললাম স্কুলে ফোন করতে। টেনশনে আমার জীবন অতীত হওয়ার জোগাড়। ট্রেন থেকে নেমেই দৌড়াতে শুরু করলাম। পাশ দিয়ে একটা বাস চলে যাচ্ছিলো। তখন ভীতু মীরার জন্য বেশ সাহসের কাজ করে ফেললাম। ব্যাস্ত রাস্তা পেরিয়ে চলন্ত বাসের দরজায় টোকা দিলাম। ড্রাইভার বিরক্তি সহকারে জিজ্ঞাসা করলো সমস্যাটা কি। আমি বোকার মতো বলি, "এটা কি স্ট্র্যাথফিলড গার্লসের ক্যাম্পের বাস?" উত্তর এলো, অবশ্যই, "না"। ব্যাস, আর নিজেকে লজ্জা দেওয়ার মানে হয় না। কেউ দেখেনি এই আশা নিয়ে আবার দৌড় দিলাম। ভারী ব্যাগ কাধে নিয়ে দৌড়ানো বড়ই কঠিন কর্ম।
স্কুলে পেঁৗছে দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বন্ধুরা যাওয়ার সাথে সাথেই জড়িয়ে ধরলো। কি না কি হয়ে গেছে ভাব চোখে মুখে। ঝামেলা কাটিয়ে বাসে উঠে ঘড়ি দেখলাম। পুরো আধঘন্টা দেরি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




