বেশ কিছুটা দিন আগে
এক কালো কোট-টাই পড়া লোককে আমি দেখেছি
এক মুচির জুতার রঙ কালি করার বাক্সে পা তুলে দাঁড়াতে,
তিনি একজন মোক্তার;
ভীষণ তাড়া তার, স্বনামধন্য একজন অতিশয় বৃদ্ধ মোক্তারের অধস্তন।
বৃদ্ধ মুচি তার বাড়ানো পা-খানা কুঁচকানো ন্যাকড়া দিয়ে মুছতে মুছে বলল
'স্যার খুব দামী জোতা, কইথথেকে কিনলেন?'
বয়সে তরুণ মোক্তার সিগ্রেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ভাসিয়ে বললেন
'বাবা নিয়ে এসেছেন, কানাডা থেকে, তিনি মাঝে মাঝে ব্যবসার কাজে বাইরে যান কিন!'
বৃদ্ধ মুচীর বাঁকা নুইয়ে পড়া দেহ জুতার পালিশ নিশ্চিত করতে করতে আরও বাঁকা হয়ে যায়;
জুতার পালিশের উটকো গন্ধ তার কাছে প্রতিদিনের খাবারের মতই স্বাভাবিক মনে হয়।
বেশ অনেকটা দিন আগে আমি ইংল্যান্ডের দক্ষিণের এক শহরে
অনেক মান্যবর সুধীজনদের মাঝে ছিলাম,
তাদের মধ্যে একজন সংবিধানে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ,
আমাদের মাঝে একজন যিনি জ্বালানী তেল আইন নিয়ে পড়াশোনায়
বিশেষভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন
তিনি তেলের ব্যাবহারের প্রকার ধরণ বুঝাতে গিয়ে গলা ধরে আসা আবেগে বললেন
'স্যার আপনি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে জড়িত সেই কিংবদন্তী যার ব্রিফকেসে একসময় পুরো বাংলাদেশই থাকত।'
এক সময়ে যখন অন্ধকার নেমে আসে
ঘরে ফিরে আসে মুচি, মোক্তার, সংবিধান ও তেল বিশেষজ্ঞসহ সকলেই,
স্নান শেষে মুচী তার বৃদ্ধা বউয়ের সাথে ঝুপড়ীর কোনায় পাতা বাঁশের বেঞ্চিতে বসে পান চিবোয়;
আর যে মোক্তার কিংবা সংবিধান অথবা তেল আইন বিশেষজ্ঞ
সে পানশালার আধো অন্ধকারে কপট মাধূরীতে হেলে দুলে পড়া নৃত্যরতা বাঈজীর কোমরে গুঁজে দেয় কারি কারি কাগজের নোট।
অতঃপর আরেকটি ভোরের সূর্যে জেগে ওঠে পৃথিবীর সব ভালমানুষেরা
টেবিল চাপড়ানো শব্দে আমরা জয়গান গেয়ে উঠি মানবাতার।
২৯শে অগাষ্ট ২০১৬
যুক্তরাজ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

