somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথোপকথন- অণুগল্প

২২ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




এক বিজ্ঞ হুজুরের সহিত আমার কথোপকথনঃ

(আ= আমি, হু= হুজুর)

আ- হুজুর অনেক গরম পড়িয়াছে, টেম্পারেচার প্রায় ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি। আমি রুমে ছোট-খাট পরিধেয় পরিধান করার নিয়ত করিয়াছি, ইহাতে কি কোন সুন্নতের বা ফরজের বরখেলাপ হইবে?

হু- দেখুন আপনি যেমন পায়খানায় বা বাথরুমে যাহা ইচ্ছা তাহাই পরিধান করিতে পারেন তেমনি আপনার ব্যক্তিগত কক্ষেও যাহা খুশী তাহাই পরিধান করিতে পারেন, ইহাতে সুন্নত বা ফরজের তেমন কোন ব্যত্যয় ঘটিবেনা।

আ- হুজুর একেবারেই যদি কিছু না পড়ি তাহা হইলে আপনার জানা কোন সহিহত আছে কি?

হু- ইহাতেও সমস্যা নাই। কিন্তু খেয়াল রাখিতে হইবে যাহাতে উইন্ডোতে কমপক্ষে নেট কার্টেইন থাকে।

আ- কিন্তু হুজুর নেট কার্টেইনের মধ্য দিয়াতো অনেক কিছুই আবছা আবছা দৃশ্যমান হয়।

হু- আবছা আবছা দৃশ্যমান হওয়া মানে পুরাপুরিনা। আমরা রাস্তা ঘাটেতো কত কিছুই দেখি যাহা পুরাপুরিনা, তাহাতেতো সুন্নতের কোন বরখেলাপ হয় না, আপনারও হইবেনা। আপনি আনন্দের সহিত রুমে যাহা ইচ্ছা তাহা পরিধান করে থাকেন, প্রয়োজনে দিগম্বর থাকেন, কোন সমস্যা নাই।

আ- হুজুর দিনের আয়তন খুবই দীর্ঘ। এক জায়গায় যেয়ে দেখি সবাই রোজা। আমাকে জিজ্ঞেস করিল আমি রোজা কিনা? আমি বলিলাম 'না'। আমার জন্য তাহারা রান্নাই করল না। পরে আরেক ভদ্রলোক আমার জন্য রান্না করিল। এর পর হইতে আমি যেখানেই যাই বলি 'আমি রোজা। লোকজন আমাকে রকমারি ইফতারি দেয়, সেহেরিতে রান্না করিয়া দেয়। আমি দিনের বেলা স্ন্যাকস বারে যাইয়া স্ন্যাকস খাই, স্যান্ডউইচ খাই। ইহাতে কি সুন্নত বা ফরজের কোন বরখেলাপ হইবে?

হু- দেখেন রমজান মাসে যুদ্ধের ময়দানে রাসুলুল্লাহ সবার জন্য রোজা বাধ্যতামূলক সে কথা বলে নাই। শীতের দেশে দিন ১৭/১৮ ঘন্টার মত। এই বিশাল দিনে না খেয়ে থাকা যুদ্ধের চেয়েও কম না, সেক্ষেত্রে আমি আপনি রোজা না রাখতে পারলেও রোজার নিয়ত করিয়া খাইলেও রোজার সমান ছোয়াব পাওয়া যাইবে। এ হেন অবস্থায় রোজা না রাখিবার কারণে আপনি ছোঁয়াবের নায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হইবেন বলিয়া আমার মনে হয়না।

আ- হুজুর সল্প বস্র পরিধান বা একেবারেই বস্র না পড়া সম্পর্কে আবার কিছু বলুন?

হু- দেখেন আপনার মাথায় আল্লহ্‌ তাআলা কি দিয়াছেন বুঝিতে পারিতেছিনা। শোনেন আপনাকে কিছু প্রাক্টিক্যাল উদাহরণ দেই। যুদ্ধে যে শুধু মোসলমানরা জিতছে তাহাতো নহে। অনেক যুদ্ধে মোসলমানরা পরাজিতও হইয়াছে। হযরত আবু সালাহ বিন হামাতাস মুহুদের যুদ্ধে পরাজিত হইয়া যখন পালাইতেছিল তখন শত্রুপক্ষ তাঁহাকে তাড়া কইরা ধরতে পারে নাই শুধুমাত্র পায়জামার নিন্মাংশ টানিয়া ধরিতে পারিয়াছিল। তিনি উলঙ্গ অবস্থায় রাসুল্লুলাহ্‌র এক প্রিয় সাহাবীর বাসায় আশ্রয় নেন। ঐ সাহাবীর বড় কন্যা তাফসিরা বিন বাহাস তাহাকে ঐ অবস্থায় দেখিয়া দৌড়াইয়া নিরাপদে নিজেকে লুক্কায়িত করেন। ঐ গৃহে তিনি ৩/৪ দিন বিশ্রাম নিয়া যখন ফিরিয়া যাইবেন তখন গৃহকর্তা আবু সালাহ্‌কে বললেন 'হুজুর আপনিতো এখন আর একা যাইতে পারিবেন না, আমার বড় কন্যা আপনাকে পছন্দ করিয়াছে। তাহাকে আপনার সংগে নিয়া যাইতে হইবে। হয়রত আবু সালাহ ঐ সাহাবীর কন্যাকে অতি আনন্দের সহিত তাহার ৭ তম স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়া গ্রহন করিয়া মক্কা নিয়া যান। কাজেই দেখেন প্রয়োজনে উলঙ্গ হওয়াতে কোন লজ্জা নাই, আবার বিপদে পইড়াও মানুষ উলঙ্গ হয়। এখন আপনিই ঠিক করেন আপনি কি প্রয়োজনে না বিপদে পইড়া উলঙ্গ হইতে চান।

অতঃপর হুজুরের পরামর্শ মত আমি রুমে আসিয়া যাহা করিলাম তাহাতে এই গরমে আমার মুখ দিয়া 'আহা শান্তি আর শান্তি শব্দ ছাড়া আর কিছুই বাহির হইলো না।

২১/০৬/২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×