
একটি মৃত সজারুর গল্প
কবি হওয়ার ইচ্ছেরা এত দ্রুত মরে যায়?
আমারতো তাই হচ্ছে।
ইচ্ছেরা মরে যায়...
রূপালী চাঁদ ডুবে যায় ভোরের আকাশে...
ফিঁকে হয়ে আসে রাতের আঁধার।
পানশালার যখন দরজা বন্ধ হয় এপথে আমি প্রায়শই ঘরে ফিরি,
একদিন রাস্তা পেরুতেই রাস্তার মাঝে চোখে পরে
ছোট্ট সজারু কুণ্ডলী পাকানো জড়সড়;
আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে আমি বুঝিনা!
আমি রাস্তার মাঝেই একটু দূরুত্বে দাঁড়িয়ে থাকি,
আমার পাশ দিয়ে সিটি বাজিয়ে দ্রুতবেগে একটি গাড়ি চলে যায়;
কিছু খিস্তি খাউর কানে আসে।
আমি সজারুটির কাছ ঘেঁষে আবার দাঁড়াই,
নিজের অলক্ষেই বলি
'আমাকে ভয় পেওনা, গোরস্তানে সবাই সবার বন্ধু!'
রাস্তায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ,
একজন মৃত কবিকে দেখে সজারুটি হাসছে;
আমি কম্পিত হাতে 'কিহোলে' চাবিগুজে দেই,
একগোছা চাবি, একটি 'কিহোল' আর কুণ্ডলী পাকানো সজারু;
একজন খুনী ঠক ঠক শব্দে সিঁড়ি ভাঙে!
পরের দিন প্রত্যুষে 'হ্যাংওভার সিনড্রোম' নিয়ে যে যুবক চলে যায় দূরের শহরে
সে যখন ফিরে আসে তখন তার চোখেমুখে ভেসে উঠে
একজন কবির প্রয়াণের সফল বিজ্ঞাপন;
আয়নার প্রতিবিম্বে সে যখন নিজেকে দেখে
আমি তার পাশে দাঁড়াই, আমি ও সে,
প্রতিবিম্বে খুনীর শনাক্তিকরন চিনহ অনিশ্চিত!
কুণ্ডলী পাকানো সজারু বাথটাবে সাঁতার কাটে,
আয়নার প্রতিবিম্বে কবির রক্তাক্ত হাত;
আমি বেডরুমে এসে পর্দা টেনে দেই
বড্ড ঘুম পাচ্ছে আমার,
ঘুম... ঘুম...
দেয়ালে ছোপ ছোঁপ রক্তের দাগ
বাথটাবে সাঁতার কাটছে...
সাঁতার কাটছে...
একটি...
মৃ..ত...
স..জা..রু...।
৩রা অক্টোবর ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



