'মিথোজীবী স্বপ্নের হঠাৎ রূপান্তর
আমাদের স্বপ্নগুলো সার্থকনামা মিথোজীবীই
ছিল। সহভোক্তা গজপিপলু নয়, ছিল
ব্যতিহারী লাইকেন। বাড়-বাড়ন্তিতে
ছিল পরজীবী স্বর্ণলতা।তরতরিয়ে দিচ্ছিল
উল্লম্ফন, ভরা কটালের বলেশ্বর যেমন।
সওয়ার ছিল বান-ছোঁয়া কলমি অথবা
জংলি আমনের চূড়ায়।
ওম ভরা অনুরাগ সজীবতা দেখে ঈর্ষা
করতো শ্রাবনের শ্বেত শিরিষও।
সোনার কাঠি-রূপার কাঠির
বজ্রগুণনে হয়েছিল ভালবাসার
জীবিকায়ন, হয়েছিল দ্বি-বীজপত্রী
সুধার উদগ্মন।
আমাদের স্বপ্নগুলো প্রোথিত ছিল
হৃদয়ের কেন্দ্রমণ্ডলে। শেকড়ের দৃঢ়তা
দিতে একে একে এগিয়ে এসেছিল
গুরুমণ্ডল, অশ্মমণ্ডল প্রমুখ।
বাৎসায়নের পুষ্টি প্রগাঢ়তায়
স্বপ্নগুলো চঞ্চল হয়েছিল
মায়া হরিনের মধ্য কর্ণে।
আমাদের স্বপ্নগুলো পেতে চেয়েছিল
বরষার বিজুলি চুম্বন, চেয়েছিল
অরোরার অনিরুদ্ধ আলিঙ্গন। গ্লাইডিং
ঘুম চেয়েছিল অ্যালবেট্রসের ডানায়।
মহুয়ার মাদকতায় চেয়েছিল মৈথুন মূর্ছণা,
চেয়েছিল এসপ্রেসো কফির ফেনিল
উৎসারণ।
আমাদের স্বপ্নগুলো ছিল তুমি আর
আমিতে ভরা, কেবলই তুমি-আমি,
কেবলই আমি-তুমি। এর চেয়ে বড়
মিথোজীবী আর কি ই বা হতে পারতো!
অথচ কি আশ্চর্য! সহসাই নিজেকে
ঘোষণা দিলে স্বভোজী শৈবাল বলে।
অচিন প্রবাহে এলিয়ে দিলে অভিযোজী
অম্বর। আর আমি নিশ্চিহ্ন হলাম
হঠাৎ-জাগা বালিয়াড়ির
অদেখা অতলে।'
২২ই সেপ্টেম্বর ২০১৭।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



