আমি চূড়ান্ত রূপেই হতভম্ব যে দশ বিহারীর হত্যাকে বাঙ্গালি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছে। এতে সরকার, বিরোধীদল, মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। হঠাৎ করেই নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের মাঝে হাজির হয় অবাঞ্ছিত ১০ খুন। আমরা মনে করি ওরা বিহারি মানুষ নয়। আসলেও ওদের জীবন যাপন অমানবিক। ওরাই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত মানুষ। ওরা ৪৭-এ ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিল ধর্মীয় নির্যাতন থেকে বাঁচার আশায়। সে আশায় গুড়ে বালি। ওরা বুঝতে পেরিছিল বাঙ্গালিরা তাদের মনে নিবে না, সেজন্য ৭১- এর পরে ফিরে যেতে চেয়েছিল পাকিস্তানে। সেটাও পারেনি, কারণ পাকিস্তান তাদের নিবে কেন? এদেশে ওরা থেকে যেতে বাধ্য হয়েছে খুন হওয়ার জন্য, নির্যাতিত হওয়ার জন্য। ওদের জন্য কবিতা-
এই আষাঢ়ে আকাশের চোখ গলে ঝরছে রক্ত
পথঘাট থকথকে পুড়ে যাওয়া শরীরের পুঁজ ভরা ঘা
সাত খুনের রেশের ভিতর দশ খুন মানুষের বেঁচে থাকা শক্ত
বর্ষার ফুলগুলো দাবদাহে ঝলসানো, রক্ত চক্ষু করছে খা-খা।
ক্ষমতাসীন নেতারা খেয়ে দেয়ে ভাল থাকে, রোজগার অতিকায়
সাধারণ বিহারী পুলিশের গুতা খা, ক্যাডারদের গুলি খায়
নেতারা বললে, আজকাল রাত হয় দিন আর দিন হয় রাত
এটি এমন দেশ যেখানে বিহারীদের জুটেনা মানুষ হওয়ার বরাত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




