somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

আমার কৈবর্ত পূর্বপুরুষ

০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার অনুমান ও চেহারা বিশ্লেষণ করে বুঝি আমার পূর্ব পুরুষ আর্য ছিল না, আরব থেকে আসা মুসলিমও ছিল না। তারা আদি ভারতীয়ই ছিল। দ্রাবিড়। আরো পরে সম্ভবত শূদ্র হিন্দু চাষাবাস করা কৈবর্ত ছিল। তারা নিদারুণ দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়েই সময় অতিক্রান্ত করতো। তাদের ফলানো শস্যর অধিকাংশই; কখনো দুই তৃতীয়াংশই দিতে হতো ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়দের হাতে তুলে। তাদের হাত যেন সৃষ্টি করা হয়েছিল প্রণাম জানানোর জন্য, চোখ তৈরি করা হয়েছিল নির্মিলিত রাখার জন্য, পা তৈরি করা হয়েছিল তাদের আহবানে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য, কান তৈরি করা হয়েছিল তাদের কথা শোনার জন্য এবং ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য আর মুখ তৈরি করা হয়েছিল তাদের গুণকীর্তন করার জন্য। তাদের সব চাহিদা পুরণ করাই ছিল আমার পূর্বপুরুষদের একমাত্র কাজ। তার পরে যেটুকু অবশিষ্ট থাকতো তা দিয়েই কোনমতে পরিবার নিয়ে খুপড়িতে থেকে খেয়ে না-খেয়ে বাঁচতো। তারা অতিশয় হীন আর অধীকারহীন ছিল। ধর্মীয় বিধান মতে তারা জানতো ব্রহ্মার পা থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়দের সেবা করার জন্যই। আমার যে পূর্বপুরুষ প্রথম সাহসী হয়ে উঠেছিল এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চাতুবর্ণপ্রথা ভেঙ্গে দিবে, তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। মুসলিম হয়েছিল বলে নয়, শূদ্র থাকার চেয়ে ভারত বর্ষের অন্য যে কোন ধর্ম গ্রহণ করলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতাম। আজ বাংলাদেশের বহু মানুষই উচ্চপদে চাকরি করে, বড় ব্যবসা করে, যারা সেই শূদ্র থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছে। এমনকি ভারতে বা পাকিস্তানেও প্রায় বাংলাদেশের মুসলিমদের চেয়ে বেশি মুসলিম রয়েছেন যাদের অধিকাংশই সেই কৈবর্ত থেকেই মুসলিম হয়েছে। যদি তাদের পূর্বপুরুষ ধর্মান্তরিত না হতো, তাহলে আজ তাদের কেউই ওই পদগুলোতে যেতে পারতো না। তারা সেই শূদ্রই থেকে যেতো আর ভাবতো তাদের সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়দের সেবা করার জন্য, ব্রহ্মার পা থেকে। সেই ব্রাহ্মণরাই সব বড় পদগুলো, ব্যবসাগুলো দখল করে রাখতো। এদেশে তেমন ক্ষত্রিয় নেই, বাকী চাকরিগুলো, ব্যবসাগুলো করতো বৈশ্যরা। ধর্মত্যাগ শূদ্রদের সামনে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, একটি ধর্মের অন্তত ধর্মীয় দৃষ্টিতে সমান মর্যাদার মানুষ হওয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কিছু উচ্চবর্ণের বুদ্ধিজীবীকেও দেখছি, তারা টাকা খেয়ে বিজেপির পক্ষে ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঢালাও লিখছে। উদ্দেশ্য বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা। তারা আরেকটি দাঙ্গা লাগিয়ে সুবিধা নিতে চাচ্ছে আগামী নির্বাচনে। ভারতে মুসলিমরা না আসলে, ভারতের ভিন্নভিন্ন দেবতায় বিশ্বাসী হিন্দুদের মধ্যে আজকের একধর্মে আসাটা হয়তো হতোই না। কারো দেবতা হতো দুর্গা, কারো কালী, কারো কৃষ্ণ, কারো রাম,--- তারা, সূর্য-- আর তা নিয়ে সংঘাত হয়তো চলতেই থাকতো। তাই বলি হিন্দুরা যেমন বহিরাগত আর্যদের ধর্ম গ্রহণ করেছে, আবার বৌদ্ধ হয়েছে, আবার ফিরে গেছে নিজ ধর্মে। তাদেরই একটি অংশ বহিরাগত মুসলমানদের ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং চাতুবর্ণপ্রথা ভেঙ্গে দিয়ে সম মর্যাদার মানুষ হয়েছে। উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়াটা কম অর্জন নয়। দলিতও থাকতে পারে, আমার পূর্বপুরুষ তাহলে আজও উচ্চ বর্ণের বর্বর হিন্দুদের হাতে ঘোড়ায় চড়া যুবকের মতো বিনা কারণেই প্রাণ দিতে হতো।
হিন্দু মুসলিম ভারতবর্ষে এই দুই ধর্মের মধ্যে এতো বিদ্বেষ থাকাটা বাঞ্ছনীয় নয়।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×