প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, সুফিয়া কামাল, নূরজাহান বেগম, বেগম ফজিলাতুন নেছা, মহাশ্বেতা দেবী, সরোজিনী নাইডু, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, মমতা ব্যানার্জীকে বাদ দিয়ে এমন তিনটি নাম নিলাম যার একটি আবার উপন্যাসের চরিত্র-
বেগম রোকেয়া

বাঙালী নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবেই তিনি স্বীকৃত। বেগম রোকেয়া নারীর স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। হাজারো বাঁধা বিপত্তি ঠেলে তিনি নারীদের শিক্ষা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। সমাজের অন্ধকার পথকে পেছনে ফেলে নারীর এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে তিনি লিখেছেন গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ। নারী-পুরুষের ভেদাভেদ দূর করে একই সঙ্গে সমাজ গড়ার প্রেরণা হিসেবে যুগে যুগে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন এ মহীয়সী নারী। সুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ, মতিচূর ও প্রবন্ধগুলো পড়ে নারীরা তাদের বন্দী থাকার কারণগুলো বুঝতে পারতো। তারা শিকল ভাঙ্গার গান শিখেছিল এসব বই থেকে। এছাড়াও শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকান্ডে নারীদের এগিয়ে নিতে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের অনেকের মধ্যেই জাগরণ তৈরি হয়।
তসলিমা নাসরিন

তাঁর নারীবাদী লেখাগুলো নারীদের মধ্যে আলোড়ন তুলে। একই সাথে তিনি পুরুষতন্ত্র ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে দেশে বিদেশে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী উগ্র মতবাদ প্রচার করায় একদিকে নারী ও প্রগতিশীল মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন অন্যদিকে ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়েন ও তাদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকেন। তিনি ১৯৯৪ সালে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রথমে কলকাতায় এবং পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে থাকেন। তাঁর আত্মজীবনী খুবই খোলামেলা ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় তাও আলোড়ন তুলে। তবে বিভিন্ন মহলের চাপে তার অন্তত ৫ খণ্ড আত্মজীবনী নিষিদ্ধ হয় বাংলাদেশে। দেশে-বিদেশে বিপুল সংখ্যক নারী তসলিমার অনুরাগী হয়ে উঠে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়।
দীপাবলী

সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন উপন্যাসটি দুটি আলাদা খন্ডে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে একমলাটে আনা হয়। উপন্যাসের কাহিনী শিলিগুড়ির একটি মেয়েকে নিয়ে। তার নাম দীপাবলী। বাংলা সাহিত্যে দীপাবলীর চেয়ে শক্তিশালী কোন নারী চরিত্র নেই। শিলিগুড়ির চাবাগান আর বানডাকা নদীর ধারের কুসংস্কার আর নারী-বন্দীত্বের সময়ে বছর দশেকের এক কিশোরী দুরন্ত ও আপোষহীন দীপাবলীর জীবন সংগ্রাম দিয়েই শুরু হয়েছে। ওর মেধার স্ফূরণ নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে তুলে। মনের জোর একটি মেয়েকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে আসলো। কতটা প্রতিকূলে থাকা জীবনকে হার না মেনে কতটা সাফল্যমণ্ডিত করা যায় তারই উদাহরণ- দীপাবলী। বইটি পড়ে হাজার হাজার মেয়ে দীপাবলীর মতো সংগ্রাম করে সফল হতে চেয়েছে। বাংলাভাষায় এমন শক্তিশালী নারী কেন্দ্রিক উপন্যাস আর নেই। শরৎচন্দ্রের দত্তা উপন্যাসের বিজয়া, তারাশঙ্করের কবি উপন্যাসের ঠাকুরঝি/ঝুমুর, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথার কুসুম, হুমায়ুন আহমেদের রূপা, নিমাই ভট্টাচার্যের মেম সাহেব, নুরজাহান বোসের আত্মজীবনী আগুনমুখার মেয়ে, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালুর জমিলা, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখির স্ত্রী, বিমল মিত্রের সাহেব বিবি গোলামের জবা, ঝুম্পা লাহিড়ীর লো ল্যান্ড এর গৌড়ী বা বেলা, মৈত্রেয় দেবীর আত্মজৈবনিক উপন্যাস ন হন্যতে ইত্যাদি পড়ে কোথাও নারীদের এতোটা দীপাবলী হতে চাওয়ার মতো ব্যাকুলতা দেখা যায় নি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




