somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে  আর কোথাও তাকে একলা ছাড়তে চান না । এমনকি পাশের বাসার  অবনিদের ওখানে যেতে হলেও সাথে ছোট ভাই বাবুকে নিয়ে যেতে হয়। এজন্য অবশ্য তার ছোট্ট একটা ভুল আর জিসানের বাড়াবাড়িই দায়ী। কিন্তু সবসময় সব পরিস্থিতিতে সব ঘটনা নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না কারোই। সেক্ষেত্রে তারই বা দোষ কি?

আজকাল এই বারান্দায় চন্দ্রা বিকালের নির্দিষ্ট  কিছু সময় কাটায়। সেই সময় রতন, জিসান,আশিক,চঞ্চল এসে উঁকি ঝুঁকি মারে।চন্দ্রা সেসব জানে ও বোঝে। সত্যি বলতে কি সে ব্যপারটা বেশ উপভোগও করে। একসময়ে খেলার সাথী সময়ের স্রোতে কখন যেন প্রেমিক হয়ে উঠল।ভাবতে বেশ অবাকই লাগে। তাকে নিয়ে পাড়ার ছেলেদের এই যে  প্রতিযোগিতায় এতে সে বেশ মজা পায়। ছেলেদের নাচিয়ে এক ধরনের তৃপ্তি আছে।তার সদয়  দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য  এই নবতরুণরা নিজেদের মধ্যে কি যে  প্রতিযোগিতা করে । কখনও কখনও সে একা একাই হেসে মরে। মা রেগে বলেন, ভুতে ধরলো নাকি? মেয়েদের এত হাসতে নেই।
কি কারণ কে জানে। আজ কেন জানি  তার কিছুই ভালো লাগছে না। ঠুনকো কারণে মায়ের সাথে দারুণ একচোট ঝগড়া হয়েছে কিছুক্ষণ আগে । কাহাতক সহ্য হয় এই  বন্দী জীবন।ইদানীং  পৃথিবীটা তার অসহ্য লাগে।মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যায়। কিন্তু চাইলেই সবকিছু করা সম্ভব না।

ঘরে ফিরে যাবে ভাবছিল হঠাৎ রাস্তার মোড়ের মাথায় রবির আবির্ভাব  দেখে সে একটু নড়েচড়ে ওঠে। 

রবি তার গণিত স্যার। কিন্তু গত দুই মাস আগে রবি পড়াতে পড়াতে হঠাৎ ই তাকে প্রেম নিবেদন করে বসে। চন্দ্রা বেশ অবাকই হয়।রবি দেখতে ভালো, শান্ত শিষ্ট মার্জিত ভদ্র টাইপের ছেলে। ভালো একটা কলেজে এম বি এ করছে। যদিও বেকার তবু প্রস্তাবটা তার কাছে মন্দ লাগেনি। তবে সে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রবিকে বাজিয়ে নিতে চেয়েছিল।সে তার শুভাকাঙ্ক্ষী বা প্রেমিক যাই বলা হোক না কেন তাদের মধ্যে নিজের দর কতটুকু তা  যাচাই করবার উদ্দেশ্যেই কিংবা ওদের  রিএ্যাকশন যাচাই করবার উদ্দেশ্যেই হোক রবির ব্যপারটা সে  জিসানের সাথে শেয়ার করে।
স্বাভাবিকভাবেই জিসানের দল সুযোগ পেয়ে রবিকে বেশ করে রগড়ে ছেড়ে দেয় আর এপাড়ায় আবার দেখলে বালিশ ছাড়া শুইয়ে দেবে বলে হুমকিও দেয়। 
বাদানুবাদের  পরিপ্রেক্ষিতে রবি বুঝতে পারে চন্দ্রাই জিসান গ্যাংকে সব বলে দিয়েছে। সে চরম অপমানিত বোধ করে। সে সাহসী হলেও চন্দ্রার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়। সে এই টিউশনিটা একপ্রকার  মিথ্যা অযুহাতে ছেড়ে দেয়। এরপর ঘটনা যা ঘটার তাই ঘটে।রবি আর আসে না এ পাড়ায়। এর মধ্যে চন্দ্রা খবর পায় রবির বেশ ভালো একটা চাকরি হয়ে গেছে।আফসোস হয়।ইশ ভুল হয়ে গেল একটা। এরপর রবির সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে সে বারবার ব্যর্থ হয়।
ক'দিন বাদে আজ আবার রবিকে দেখে সে দারুণ  উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। কেন যে এই উতলা ভাব সে নিজেও বুঝতে পারে না।রবির হাতে একগুচ্ছ ফুল।সাথে মিষ্টির প্যাকেট।এসব   দেখে চন্দ্রা মনে মনে অনেক কিছু ভেবে বসে। জিসানের ব্যবহারের ক্ষমা চেয়ে নেবে বলে ঠিক করেও নেয়।   

কিন্তু রবি তাদের বাড়ির দিকে না এসে গলির মোড়ে ঘুরে যায়। এমনকি চন্দ্রার ব্যলকনির দিকেও একবার তাকায় না। নানা ভাবনায় চন্দ্রার শরীরটা হঠাৎই ভার ভার লাগে। গলির মোড়ে সুমিদের বাসা। রবি হয়তো সুমিদের ওখানে গেছে। রবি সুমির ছোট ভাইকে একসময় পড়াতো। সম্পর্কের সূত্রে রবির  আত্নীয় তারা । চন্দ্রা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে  দেয়।তার কেন জানি ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে। 

কতক্ষণ কে জানে।

ডোরবেল বাজবার কিছু সময়ের মধ্যে রবির গলা শোনা গেল। চন্দ্রার কেমন যেন অভিমান হলো।এতক্ষণে তার আসবার সময় হলো।রবি তাদের বাসায় আগে এলে কি এমন ক্ষতি হতো? সে পর্দার আড়াল থেকে রবিকে দেখতে লাগলো। নতুন পোশাকে রবিকে দারুণ দুরস্ত লাগছে। এ ক'দিন সে আরও হ্যান্ডসাম হয়ে গেছে। 
দরজা খুলতেই রবি দারুণ আত্মবিশ্বাসে ঘরে পা রাখলো।স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জানতে চাইলো
- কেমন আছেন আন্টি?
রেহেনা বেগম বেশ অবাকই হলেন।এ ক'দিনে অনেক পরিবর্তন। মেয়ের এই টিচারটাকে সে বেশ ভালো জানে।চন্দ্রা খামোকা বেচারাকে বিব্রত করেছে। মেয়েটা দিন দিন বাঁদরের বাঁদর হচ্ছে ।
তিনি রবিকে বসতে বললেন তারপর স্বাভাবিক ভদ্রতায় জিজ্ঞেস করলেন
- তুমি? এত দিন পর।কি হয়েছিল হঠাৎ? সুমি   বলেছিলো পারিবারিক  অসুবিধার জন্য তুমি কিছু দিন  আসতে পারবে না। তারপর তো কোন খোঁজই নেই।এদিকে  আমি তো মেয়ে নিয়ে মহাবিপদে..

- মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন হঠাৎ । মনটাও বিক্ষিপ্ত ছিল। এদিকে আমারও জয়নিং লেটার চলে এসেছিল।দারুণ ব্যস্ততা গেছে এ ক'দিন।  সরি সময়মতো আমি যোগাযোগ করতে পারিনি।

-তোমার বেতনটাও তো নিলে না। সামনের সপ্তাহে এসে না হয়.....

- না না ঠিক আছে। আমি আসলে সেজন্য আসিনি। আমি এসেছি দাওয়াত দিতে। 

- দাওয়াত?কিসের দাওয়াত?
একটু দ্বিধা নিয়ে রবি বলল
-  আসলে আমার বিয়ের ..মা অসুস্থ তো।আর চাকরিটাও হয়ে গেল। তাই বাবা  আর দেরি করলেন না।

- ও তা কবে? 

-২৫ জুন ।

-অনুষ্ঠান কোথায়? 

- বধুয়া কমিউনিটি সেন্টারে। এই নিন কার্ড।কার্ডেই সব দেওয়া আছে।

-রুবানা আক্তার সুমি! এই মেয়ের বাড়ি কোথায়? আরে...

- চিনবেন, এই তো এ পাড়ায় থাকে। সুমি ওই যে.. চন্দ্রারই তো বান্ধবী । । সবাই আসবেন কিন্তু বাবু, চন্দ্রা ওরাও যেন আসে। আমি খুশি হব। 

রবি চলে যাওয়ার আগেই চন্দ্রা ওয়াশরুম ঢুকলো।তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।  এরকম তো কখনও হয়নি।অবচেতনভাবে রবিকে কি সে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে নাকি সুমির সাথে রবির বিয়ের খবরটা তার গাত্রদাহের কারণ?

©রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক 


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ২

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২১

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দেশ। বর্তমানে এ উপমহাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন সাংবাদিক উইলিয়াম ইক্লরোজ 'দি ক্রিটি ক্যাল মাস' বইয়ে মন্তব্য করেছেন, 'এ উপমহাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×