
সবসময় পরবর্তী ধর্মগুলো যে পূর্ববর্তীকে বিতাড়িত করতে পেরেছে তা নয়। ইব্রাহিমীয় ধর্মের মধ্যে ইহুদী ধর্ম সবচেয়ে পুরাতন। এই ধর্মের প্রবর্তক মুছা নবী। এর বয়স ৩৫০০ বছর। জনসংখ্যা দেড় কোটিরও কম হলেও জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা এগিয়ে থাকায় বিশ্বজুড়েই তাদের প্রভাব অনেক। একেশ্বরবাদী বা সেমিটিক ধর্ম তিনটির বাকী দুটি ইসলাম ও খৃস্টান। খৃস্টান ধর্ম আগে আসলেও পৃথিবীতে এখনো তারা মোট মানুষের এক তৃতীয়াংশের বেশি। ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম মানুষের ধর্ম। অথচ খৃস্টান ধর্ম বিলুপ্তই হয়ে যেতে যদি না রাজা কনস্টান্টাইন এটিকে পুনর্জীবিত না করতেন। তিনি ধার্মিক হিসাবে নয়, শুধু দাসদের দমনের জন্য তাদের ধর্মে বুঁদ করে রাখার কৌশল হিসাবেই খৃস্ট ধর্মকে দাসদের গ্রহণ করতে বাধ্য করেন।

আজ খৃস্টানরাও দ্বিধাবিভক্ত ক্যাথলিক আর প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদে। ইসলামেও প্রধান দুই ভাগ- সুন্নি আর শিয়া। তবে তাদের কাছাকাছি আরো মতাদর্শী আছে- আহমাদিয়া, দ্রুজ, সুফি, বাহাই, ইয়াজিদি। অবশ্য আহমাদিয়াদের অনেকে অমুসলিম ঘোষণা করেছেন। ইয়াজিদি অবশ্য আলাদা ধর্মই, ইসলামের সাথে কিছু বিষয়ে মিল আছে মাত্র- তাদের বলা হয় শয়তান উপাসক! বাহাইও আলাদা ধর্মই। দ্রুজও একেশ্বরবাদী আলাদা ধর্মই। সুফিরা মুসলিম। হিন্দুদের মধ্যেও বহুভাগ রয়েছে। প্রধান শাক্ত, শৈব, বৈঞ্চব। বৌদ্ধদের মধ্যেও প্রধান দুই ভাগ- মহাযান ও বজ্রজান। ভাগগুলোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। খৃস্ট ধর্ম এসে ইউরোপ থেকে প্যাগান মানে মূর্তিপূজারীদের বিতাড়িত করে। ইউরোপে প্রধান ধর্ম শুধুই এখন খৃস্টান। কনস্টান্টাইনের আগে প্যাগানরাই খৃস্ট ধর্মকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল। যদিও প্যাগানদের আবির্ভাব আরো আগে এমনকি ইহুদী ধর্মেরও আগে। প্যাগানরা দেবতাদের পূজা করতো। ভারত বর্ষে আর্যরা আসার আগে থেকেই স্থানীয় দেব-দেবীর পূজা প্রচলিত ছিল। আর্যরা তাদের দেবতাদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয় যদিও দুএকটি স্থানীয় দেবীকে তারা গ্রহণ করে নেন। ভারতে বহু স্থানীয় ধর্ম প্রচলিত ছিল। এখনো এক এলাকার মানুষের এক দেবতা প্রধান। শ্রীকৃষ্ণকে প্রধান করে কেউ কেউ চেষ্টা করছেন এক দেবতায় ফিরতে তবে এটা সহজ নয়। দুর্গা কেবলই বাংলার দেবী তবে শ্রকৃষ্ণের প্রভাব বাংলাতেও বাড়ছে। একমাত্র দেবতা হয়ে উঠা সহজ নয়। এক ধর্ম কে বিতাড়িত করে আরেক ধর্মের দখলটা মূলত ক্ষমতার সাথে জড়িত। ভারত বর্ষে মুসলিমরা শাসন না করলে ইসলামের এতো প্রসার হতো না, আর্যরা ক্ষমতা দখল করতে না পারলে আর্য দেবীদের ভারতে কেউ পূজা করতো না। এর মধ্যেও কিছু ধর্ম হাজারো নিপীড়নের মধ্যেও টিকে থাকে। ইহুদীরা সুদীর্ঘকাল নিপীড়িত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের হাতে ইয়াজিদি ধর্মের লোকেরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। রুহিঙ্গা মুসলিমরাও বৌদ্ধ শাসকদের হাতে নিপীড়িত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখনো বিশ্বজুড়ে টিকে আছে ৪৩০০টি ধর্ম।
বিলুপ্ত ধর্মের সংখ্যা অগুণিত৷ যারা বৃক্ষ পূজা করতো, যারা পাথর পূজা করতো ইত্যাদি সবারই ধর্ম ছিল৷ কোটি রকমের বিশ্বাস নতুন ধর্মের আগ্রাসনে বিলুপ্ত হয়েছে৷ পারস্যের অন্যতম প্রধান ধর্ম ছিল মনি ধর্ম ও জরাথষ্ট্র ধর্ম৷ ইসলাম আগমনে মনি ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যায়৷ অথচ প্রবক্তা মনি নিজেকে শেষ নবী ঘোষণা দিয়েছিল৷ জরাথষ্ট্র ধর্মের মানুষ এখন আছে লাখ খানেক৷ ইন্দিরা গান্ধীর স্বামী ফিরোজ ছিলেন এই ধর্মের৷ ভারতের প্রথম পরমাণু বিজ্ঞানী জাহাঙ্গীর ভাভা ও জামশেদ-রতন টাটাও জরুথ্রাষ্ট। এদেরই পার্শিয়ান অগ্নি উপাসক বলে৷ আরব ও পারস্যের অসংখ্য ধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে ইসলাম আগমনের পর৷
ভারতেও অসংখ্য ধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে৷ আজিবিক ধর্ম এর অন্যতম৷ হাজার রকমের ধর্মের মানুষ এখন হিন্দু৷ অথচ ভারতে এক সময় বেদবিরোধী বহু ধর্ম বা মতাদর্শী ছিল৷ এরমধ্যে চার্বাকদের কথা আমরা জেনেছি, চার্বাক বিরোধীদের কাছ থেকে৷ অধিকাংশ ধর্মেরই কোন লিটারেচার নেই, ফলে তাদের কোন তথ্যও নেই৷
চীনের কনফুসীয় মতাদর্শই ছিল একটা ধর্ম৷ চীনের স্থানীয় ধর্ম ছিল অগুণিত আজ চীনে ধর্ম বিশ্বাসই হারিয়ে যাচ্ছে৷ জাপানে বেশি ছিল সান্টু ধর্মের প্রভাব। আজও তারা সান্টু ধর্মের বহু রীতি পালন করে কিন্তু তারা সান্টু ধর্মের নন৷
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



