পদ্মা আমাদের বাড়ি-ঘর বহুবারই ভেঙ্গেছে। সর্বশেষ যে জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছিলাম আবার তা জেগে আছে ৬ বছর ধরে। আরো ছয় বছর আগেও চরটি ছিল। আমাদের যে গ্রামটি ভাগ্যকুল বিভিন্ন কারণে এখন বিখ্যাত তার জন্মও পদ্মার পরিত্যক্ত গতিপথের কারণে। চাঁদরায়-কেদার রায়ের রাজধানী শ্রীপুরই যে পদ্মা বিলীন করেছে তার কাছে আমরাতো তুচ্ছই। তবুও সেই সর্বনাশা পদ্মাকে ভালবাসি। তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখি আর বর্ষায় শীতে, গ্রীষ্মে, বর্ষায় বদলাতে থাকা রূপ দেখি। চরের বনপুদিনা/মটমটিয়া ফুল দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। সূর্যকন্যার সাক্ষাৎ পেলে মন সতেজ হয়ে উঠে। ঠিক যেন বহু সূর্যই ফুটে আছে।আর ক্ষুদে ক্ষুদে মাখন-পেয়ালা ফুলগুলো দেখে মনে হবে ভর্তি আছে নরম মাখনে। বিষকাটালির দুরকমের ফুলই চোখে পড়বে। লাল ও সাদা। সাদা ফুল ফুটলে মনে হয় খই ফুটে আছে। মায়াবী বনফুল হল নামুতি। গুল্পঝোপগুলোতে অজস্র নামুতি ফুটে থাকে। এফুলগুলোও কিছুটা মাখনপেয়ালা বা সূর্যকন্যার মতোই। মুথাঘাস ফুল অতটা আকর্ষণীয় না হলেও তা দেখেও ভাল লাগে। ভাল লাগে ভাদলার ফুলও। এসব ঘাসফুল/বনফুল ছাড়াও চরে রোপন করা দিগন্তজোড়া হলুদ শরিষা ফুল মুগ্ধ করবেই। অবশ্য এখন দুএকটিই মাত্র দেখা গেল। অধিকাংশই ফলে পরিণত হয়েছে। শরিষার মতোই দেখতে মুলা ফুল- রঙ শুধু ধবধবে সাদা। ধনেপাতা ফুলগুলো প্রতিযোগিতা করে আকাশের অজস্র তারকার সাথে। ক্ষেতের দিকে তাকালেই মনে হবে- তারারমেলা। নদীর কাছাকাছি রয়েছে গাঙ কলমি। যেনো ফুল ফুটিয়ে ফুটিয়ে দৌঁড়াচ্ছে। দেখা মিলে কচুরি ফুলও। এবার চরে সবচেয়ে বেশি ফুটেছে কালোজিরা ফুল। এ ফুলগুলো বৈচিত্র্যপূর্ণ। ফোটার আগে কচি কলাপাতা সবুজ, ফুটলে ধবধবে সাদা। আর ফলগুলোতে চারটি করে শিং থাকে। মনে হবে সবুজ রঙের লক্ষ লক্ষ পোকা বসে আছে। প্রতি বছরই বহুবার চরে যাই। ২০০৪ সালে আক্রান্ত হওয়ার আগে এই চরে হুমায়ুন আজাদ স্যারও আমাদের সাথে ঘুড়ে বেড়াতে পছন্দ করতেন। গতকালও আমরা- মানে একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন জুয়েল ভাই, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার লেখক আলমগীর শাহরিয়ার, উপস্থাপক ও হাইকোর্টের এডভোকেট সুব্রত কুমার দাস খোকন, ভাগ্যকুল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম টিপুকে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটালাম চরের বহুমাত্রিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। আপনারাও চর দেখতে আসতে পারেন। সাথে ফ্রি পাবেন ভাগ্যকুলের বিখ্যাত ঘোল! ঘোল খাওয়ার জন্যও ভাগ্যকুলে প্রচুর মানুষ আসেন প্রতিদিন। ঢাকা থেকে শ্রীনগর হয়ে দোহারগামী বাসে বালাশুর নেমে আসতে হবে ভাগ্যকুলে। আবার মাওয়া নেমেও আসা যায় ভাগ্যকুলে।

















সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


