somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই নষ্ট শহর, এই নষ্ট শহরায়ণে স্থপতি, পুর'কৌশলিদের দায়

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যারিয়ারের শুরুতেই হোচট খাওয়ার মত ব্যাপার ... ক্লায়েন্ট নিজ থেকেই আমাকে প্রস্তাব করে "কিভাবে জায়গা চুরি করে স্পেস বাড়াতে হয়"; বিএনবিসি কিম্বা রাজউকের ইমারত নির্মান বিধিমালা"র বিধিসমূহের ফাকফোকর দিয়ে কিভাবে "স্ল্যাব ২ ইঞ্চি ক্যান্টিলিভার করে সরকারের বা পরের জমির উপর যাওয়া যায়", "প্লটের পেছনর দিক যেহেতু সচরাচর দেখার কেউ নাই, তাই সেখানে একটু বেশি বাড়িয়ে স্ল্যাব ফেললে ক্ষতি নেই", আবার "যেখানে পাঁচতলার বেশি নির্মান করা যাবে না সেখানে কিভাবে পিছন ফিরে সাড়ে পাঁচতলা বানানো যায়" সব নিয়ম ভাঙ্গার টেকনিকাল নিয়মগুলো আমাকেই মনে করিয়ে দেয় ।

ভেবে অবাক হই, এতসব একজন নন'টেকনিকালের জানার কথা নয় । জিজ্ঞেস করলে বলে, তার বন্ধু যিনি সম্প্রতি তার বাড়ির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি তাকে এসব জানিয়েছেন । তার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো বলবেন তিনি জেনেছেন তার কন্সাল্টেন্টের কাছ থেকে । সত্যি বলতে কি, এরকম নিয়মের ফাকফোকর দিয়ে ক্লায়েন্টদের এরকম ছ্যাচরামো' করাটা মোটামুটি একটা সাধারন নিয়মের মধ্যে পড়ে গেছে আর এই ছ্যাচরামো'টাকে প্রশ্রয় দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ংকর অস্বাস্থ্যকর শহরে পরিনত করছে স্বয়ং আর্কিটেক্ট , ডিপ্লোমা আর্কিটেক্ট, পুর'কৌশলি, ডিপ্লোমা পুর'কৌশলিরা । দেখনে"য়ালা সরকারী বিভাগ সমুহ আর ক্লায়েন্টদের আমি দায়ী"দোষিদের দ্বিতীয় সারিতে রাখবো ।

ষাট দশকের শুরুতে দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে স্থ্যপত্য সচেতনতা তৈরী হয় ... রবার্ট বুই, ডক্সিয়েডিস এর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন আর টিএসসি"র পর লুই আই কানের শেরেবাংলা নগর, মাজহারুল ইসলাম স্যারের কাজ তখন'কার শহুরে স্থাপত্য অনুশীলনে প্রচন্ডই প্রভাব ফেলেছিলো । পরবর্তি সত্তুরের দশকে সেটা আর'ও ব্যাপকতা লাভ করে ... এবং বেশ ভালো মতোই আগাচ্ছিলো সবকিছু । অবশ্য বলে রাখা ভালো, এ সময় পর্যন্ত "স্থাপত্য" পুরো ব্যাপারটাই "উচ্চবিত্তের বিলাসীতা" বলেই পরিচিত হতে থাকে । এবং অবশ্যই আমাদের সিনিয়র স্থপতি স্যার'রা ব্যর্থ হয়েছেন বিত্ত'প্রভাব থেকে বেড়িয়ে এসে আর্কিটেকচারকে মধ্যবিত্ত এবং অবশ্যই নিম্নবিত্তের ঘরে পৌছে দিতে । আর তাই এখন'ও আমাদের নতুন স্থপতিদের গালি খেতে হয় "আরকিট্যাক্‌চার মানে ফুটানি" শুনে ।

আশির দশকে কিভাবে জানি দেশের একশ্রেনীর মানুষের হাতে বেশ কাঁচা টাকা আসা শুরু হয় । একটু "ফূটানি" করতে তাদের'ও ইচ্ছে হয় । শিক্ষার সীমাবদ্ধতা , কাচা পয়সার উষ্ণতা, সদ্য প্রতিষ্ঠিত সামাজিক অবস্থানের উৎকট প্রকাশ, সব কিছু মিলিয়ে ষোলকলা পূর্ণ এই শ্রেনীর মানুষের যখন "আরকিট্যাক্‌চারের ফূটানি করার খায়েস" হল তখন থেকেই পরিস্থিতি দুষিত হওয়া শুরু করলো । আর্কিটেক্ট , সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কন্সাল্টেন্ট নিয়োগে ভালোখারাপ বিচার"জ্ঞান তাদের না থাকারই কথা, তাদের ফূটানি হলেই হল । আর এই সুযোগে নিয়োগ পেতে থাকে বিত্তাবস্থানে তাদের'ই কাছাকাছি থাকা কতগুলো ধান্ধাবাজ কন্সাল্টেন্ট ফার্ম ... কি আর্কিটেক্ট কি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের শিক্ষাগত দৌড়াত্ব ডিপ্লোমার ঘরে ... তাদের প্রডাকশনের সাথে পাল্লা দিয়ে অপরাপর আর্কিটেক্ট, পুর'কৌশলি'রাও পরবর্তিতে নিজেদের দুষিত করা শুরু করে । প্রতিযোগিতায় চক্রবৃদ্ধিহারে শহর জুরে, দেশ জুরে চলতে থাকে কনক্রীট"দুষন । তালে তাল দিয়ে স্রেফ ব্যাবসায় নেমে পড়া ডেভেলপার, রিয়েলস্টেট ব্যাবসায়িরাও কুরুক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পরে এসময়'ই।

যাই হোক, এই কুরুক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলার কিছু নেই, স্রেফ তলানী'তে এসে ঠেকেছে বেচে থাকার জন্য আবশ্যক যাবতীয় আর্কিটেক্‌চারাল নিয়ামকগুলো ... পরিবর্তন আনবে যে নতুন'রা ... "নিয়ম" আর সনাতনি ক্লায়েন্টের চাহিদায় "বলি" হয়ে তারাও দিন'কে দিন জড়িয়ে পড়ছে সেই সনাতনি ছ্যাচরামী'তে ।

মুক্তি কোথায় ? কবে ? কে জানে ?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫
৯১টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেঁয়াজ নিয়ে বিপ্লব টিপ্লব, সরকার বদল টদল হবে নাকি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১৬



পেঁয়াজ এমন একটা খাদ্য, যেটার অভাবে মানুষ মরে না, পুষ্টিহীনতায়ও ভোগে না, পেঁয়াজু আলচারের সৃষ্টি করে; তা'হলে, পেঁয়াজ নিয়ে সরকার ও মানুষ এতো চিন্তিত কেন? জাতি প্রয়োজনীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমকামিতার স্বরূপ অন্বেষন - সূচনা

লিখেছেন নীল আকাশ, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০২



যত দিন যাচ্ছে পৃথিবী যেন ততই পাল্টে যাচ্ছে। ছোটবেলায় শিখে আসা অনেক শিক্ষাই এখন যেন মূল্যহীন হয়ে পরেছে। ছোটবেলায় বন্ধুরা হাত ধরাধরি করে এখানে সেখানে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতাম। আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি লেখা পাঠিয়েছেন তো? আজ কিন্তু শেষ দিন!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২১

কাউন্ট ডাউন চলছে - - -
আর মাত্র ১৫ দিন!
আমাদের ব্লগারদের দারুন রোমাঞ্চকর আয়োজন “ব্লগ ডে” উদযাপন করতে যাচ্ছি।

দারুন একটা স্মরনিকার কথা আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন সকলেই।
তাতে লেখা জমা দেবার আজ কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

...কুয়াশা মাড়িয়ে আমার অনেক রৌদ্র আছে, স্বর্ণালী প্রান্তরে... কবিতা সংকলন ও সেরা-৩০, নভেম্বর ১৬-৩০, ২০১৯!!

লিখেছেন বিজন রয়, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০১


সেরা-৩০ঃ
০১. স্বপ্নবাজ সৌরভ - অসমাপ্ত ছবি
০২. নীল আকাশ - কবিতাঃ সুন্দরী আমি, হার্টথ্রব মডেল হতে চাই! - ৩
০৩. সোনালী ডানার চিল -বিবেক, তুমি কি সহমরনের এ্যাটোমিক পিরানহা!
০৪. লাইলী আরজুমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধিনাক ধিনাক তাক ধিন আজকে দাদার জন্মদিন :)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬



হইহই রইরই সুর কলরব, সুখের বাজনা বাজে
হাওয়া নিয়ে এলো খবর, আজ আমাদের মাঝে
এই পরিবারে এক সদস্য নাম জানো কী বিজন?
ব্লগ বাড়িটা কেনো তবে, আজকে আছে নির্জন?



জন্মদিনের বার্তা দিতে, এলেম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×