আলিফ পড়ে স্ট্যান্ডার্ড সেভেন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এ। তার স্কুল সকাল আটটা থেকে বিকাল তিনটা ।প্রতিদিন এর মত বাবা তাকে নামিয়ে দিয়ে গেছে। এই সময় টা তার খুব প্রিয়, বাবার সঙ্গে গল্প করতে করতে যায়.। বাবা ও তখন একটু হালকা মেজাজ এ থাকে ।তাদের মধ্যে ছোট খাটো খুনসুটি হয়.। সে বাবার পকেট থেকে টাকা বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে গোপনে । বাবা ভাব করছে কিছু ই খেয়াল করছেনা, শেষ মুহুর্তে খপ করে আলিফ এর হাত টা টেনে নিয়ে বলবে ।
আলিফ দেখ তো বাবা কোন চোর আমার পকেট থেকে টাকা চুরি করছে । আলিফ হাত বের করে হেসে ফেলে ।
বাবা একটা গেম কিনব টাকা দাওনা।
এখন না বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে বাবা কিনে দিব কেমন ?
প্রমিস ? হা বাবা প্রমিস .
প্রথমে আপু কে নামিয়ে দিল.। আপুর মনে হচ্ছে মেজাজ খারাপ, কোনো দিকে না তাকিয়ে গাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে ।
এই আয়েশা আয়েশা বাবা জোর গলায় ডাকলেন "তোর্ টাকা লাগবেনা? তুই না বললি সব বন্ধুরা মিলে রেস্তুরেন্ট এ খাবি।
বাবা তুমি জানো মা এসব পছন্দ করেনা, কালকে মা আমাকে অযথা ই অনেক বকা দিল. আমার বন্ধুরা জোর করলে আমি কি করব বাবা, বলল অভিমানের সুরে, এবং সে তার চোখের জল গোপন করতে পারলনা কালকে রাতে মায়ের বকার কথা মনে হওয়াতে ।
,
তুই একটা কাজ করনা মা কালকে তোর্ সব বন্ধুদের কে দাওয়াত কর, আমি তোর্ বন্ধুদের জন্য স্পেশাল আইটেম বানাবো । .
বাবা আমার স্কুল এর দেরী হয়ে যাচ্ছে পিছন থেকে আলিফ বলে উঠলো ।
ওকে তাহলে বাই মামনি, টেক কেয়ার ।
আলিফ কে স্কুল এ নামিয়ে দিয়ে বাবা চলে গেলেন অফিস এ ।
আলিফ এর সবচেয়ে প্রিয় সাইন্স টিচার মিস সাইমন.।সবসময় সাদা স্কার্ট না হয় সাদা গাঁউন পড়বে মনে হয় যেন সাদা পায়রা, এঞ্জেল এর মত ।
আজকে শেষ ক্লাস হয়নি, ড্রয়িং টিচার অসুস্থ, সবাই হই হই করে ক্লাস থেকে বের হয়ে আসল ।আলিফ এর অবশ্য বসে থাকতে হবে বাবার জন্য.।সে এই একঘন্টা কিভাবে কাটাবে চিন্তা করতে করতে তার ব্যাগ থেকে ছোট বল টা বের করে একা একা খেলতে শুরু করলো.l একটা লাঠি দিয়ে স্ট্যাম্প বানিয়ে বল দিয়ে বাড়ি দিয়ে স্ট্যাম্প আউট করার চেষ্টা করলো অদৃশ্য প্রতিপক্ষ কে.। হটাত একবার বল টা বেশি জোরে মারায় উড়ে গিয়ে মাঠের ঐভাগে গিয়ে পড়ল। ঐখানে খেলছিল আলিফ দের বাসা একটু দুরে ওদের বাসা, সুমন আর তার বখাটে বন্ধু রা বসে কার্ড খেলছিল।ছেলেগুলি দেখতে যেমন দশাসই , তেমনি বিতিকিচ্ছিরি এদের ব্যবহার.।আলিফ এদের কে দেখলে দৌড়ে পালিয়ে যায় সবসময় ।সুমন যেটা সেটা একেবারে বদ । পড়ালিখা করেনা, মেয়ে দেখলে শীষ দেয়, অথচ বয়স মাত্র ষোলো ।আলিফ কে দেখলে এরকম ভাবে বলে.দেখি তোর্ গালে একটা থাপ্পর দেই দৌড় দে, দৌড় দে বলে ফাজিল গুলি ওরে তাড়া করে সবসময়.।বলটা পড়বি তো পড় একেবারে ফাজিল সুমন এর মাথায় গিয়ে পড়ল l এই কেরে কে রে বলে বিভীষণ গতিতে আলিফ কে তাড়া করলো ।
এই দাড়া তুই কইতাছি দাড়া কিন্তু বলে একটা হুঙ্কার দিল বদ টা
আলিফ ভয়ে থেমে গেল .
আলিফ কে বুকে ধাক্কা দিয়ে বলতে থাকে এই তুই আমার দিকে বল ছুড়ছিশ কেন বল বলে সমানে ধাক্কা মারতে থাকে.।
অমিত ইচ্ছে করে ছুড়িনি বল কোনো রকমে সে মিন মিন করে বলল ।
তারপর ও যখন পাজিটা চড় থাপ্পর মারতে থাকলো আলিফ কে সে আর সহ্য করতে পারলনা সে ও গরু শিং বাকিয়ে গুতা দেওয়ার ভঙ্গিতে তার মাথা দিয়ে সুমন এর পেটে আঘাত করলো.। তার অস্র শুধু নখ আর তার মাথা, সে সমানে তা চালাতে লাগলো l দুজন দুজনের মাথার চুল টেনে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করছে.। এ যেন প্রতিযোগিতা চলছে কে কার মাথার কত বেশি চুল ছিড়তে পারে.।
ওরে বাপরে সুমন গুঙিয়ে উঠে , পিছি রাক্ষস, খামচিয়ে আমার সব মাংশ তুলে নিচ্ছে , নিজেকে ছাড়ানোর জন্য জোরে এক থাপ্পর বসালো আলিফ এর গালে ।
সে ঘুরে পড়ে গেল, তার একটা দাত ছিটকে বের হয়ে আসল এবং তার সাথে রক্ত পড়া শুরু করলো ।রক্ত দেখে সে ভয়ে কানতে শুরু করলো, ফাজিল গুলো রক্ত দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল.।
কিছুক্ষণ এভাবে মাঠে পড়ে থাকার পর সে সচেতন হলো, একটু পরে বাবা আসবে তাকে নিতে। বাবা তাকে এরকম অবস্থায় দেখলে অনেক কষ্ট পাবে ।তাড়াতাড়ি খুড়িয়ে খুড়িয়ে কষ্ট করে বাথরুম এ আসলো ।
আয়নায় নিজে কে দেখে সে জোরে কেদে ফেলল ।কিছুক্ষণ দরজা বন্ধ করে মেজে তে বসে বসে কাদলো মা মা বলে.। তারপর আস্তে আস্তে উঠে ভালো করে চোখ মুখ পরিষ্কার করলো, বার বার কুলি করে মুখের রক্ত পরিস্কার করলো, ডান দিকের ঠোট একটু ফুলে নিচের দিকে ঝুলে আছে । বাবাকে কি বলা যায় সেটা ভাবছে মনে মনে.।
এদিক আলিফ এর বাবা প্রায় পনর মিনিট হলো এসেছে । আলিফ কে খুঁজে যাচ্ছে, পুরা স্কুল বন্ধ কাওকে দেখা যাচ্ছেনা । দুশ্চিন্তায় ওনার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।তার ডাকাডাকি র শব্দে স্কুল এর পিছন এর ঘর থেকে বের হয়ে আসলো দপ্তরী। স্কুল এর পিছনে ছোট ঘরটা তে সে থাকে.।
স্যার আপনি কারে খুজেন দপ্তরী জিজ্ঞাসা করে
আমার ছেলে আলিফ, কোথায় সে?
স্যার সবাই তো স্কুল ছুটির পর যে যার বাসায় চলে গেছে.। আমি তো আধা ঘন্টা আগে সব দরজা জানালা বন্ধ করে তালা লাগাই দিছি.।
কি বল পাগল এর মত আমার ছেলে স্কুল এর ভিতরে আছে, সে আমাকে না বলে কোথাও যাবেনা ।
ও মাই গড তুমি তাড়াতাড়ি দরজা খোল,
হে আল্লাহ ছেলেটাকে সুস্থ রেখো তিনি অস্থির হয়ে বলতে থাকেন।
একটার পর একটা দরজা খুলে তারা দেখতে থাকে, কোথাও আলিফ খুঁজে পায়না।
হহে আল্লাহ আমার ছেলে কে সুস্থ ভাবে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও তিনি ডুকরে উঠলো ভয়ে ।
স্যার কোথাও নাই তো.।
না না বলে তিনি কাদতে শুরু করেন ।
দাড়ান স্যার বাথরুম দেখিনাই ।
শেষ বাথরুম এর দরজা ঠেলা দিতে দেখা গেল সে মেঝে তে পড়ে আছে অজ্ঞান হয়ে.।
(পরবর্তীতে)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৪ ভোর ৪:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



