(পর্ব -তিন )
নার্স এসে সুখবর দিল বাবাকে। যেকোন সময় রিলিজ করে দেওয়া হবে আলিফ কে। এখন সে সুস্থ। খুশি হয়ে বাবা পাশের মসজিদ এ নামাজ পড়তে গিয়েছেন। বাসায় ফোন করে স্ত্রীকে আসতে বললেন। স্ত্রী আসার পর ছেলের পাশে বসিয়ে তিনি মসজিদের উদ্দেশ্যে গেলেন।
আলিফ দৌড়াচ্ছে প্রচ্চন্ড গতিতে। তার পিছনে আসছে ছোরা হাতে এক মুখোশধারী।
বাবা বাবা মা বাচাও বলে সে ত্রাহি ত্রাহি চিত্কার করে দৌড়ে যাচ্ছে। সারা রাস্তায় কেও নেই। শুধু আলিফ আর তাকে ধাওয়া করে আসছে অজ্ঞাত আততায়ী। দুরুত্ব কমে আসছে দ্রুত। একসময় ধরে ফেলল আততায়ী তাকে। তাকে মাটিতে ফেলে বুকে চড়ে বসল। ভয়ে তার মুখ থেকে গো গো আওয়াজ এর মত বের হচ্ছিল শুধু। ওই অবস্থায় ঘুম ভেঙ্গে লাপ দিয়ে উঠে বসে বিছানায়।
ভয়ে আতঙ্কে তার গলা শুকিয়ে কাঠ। কয়টা বাজে এখন। কেমন নিঃশব্দ মনে হচ্ছে ক্লিনিক টা কে। সে মনে মনে খুজছে কাওকে। এখানে তাকে কে নিয়ে আসছে সে জানেনা। বস্তুত জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর মাত্র ই চেতনা ফিরে আসল তার। কিছুক্ষণ তার চেতনা কাজ করছিলনা সে এই মুহুর্তে কোথায়। ঠিক তখন ই তার সামনে লাপ দিয়ে পড়ল জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া হুবহু স্বপ্নের সেই অজ্ঞাত আততায়ী টি। সে চিত্কার দিয়ে উঠল ভয়ে। তার চিত্কার এ পাশের রুম থেকে নার্স আরেকজন ওয়ার্ড বয় এসে ঢুকল।
এই তুই কে রে ? ওয়ার্ড বয় টি হুঙ্কার দিয়ে উঠল। পাশের কাঠের টুল টি মুখোশধারীর দিকে ছুড়ে মারল। আকস্স্মিক আঘাতে হতভম্ব হয়ে আততায়ী উঠে জানালা দিয়ে লাপ দিয়ে বের হয়ে দ্রুত শুন্যে মিলিয়ে গেল।
আলিফ ভয়ে এখন কাপছে। নার্স টি এসে মায়ায় জড়িয়ে ধরল আলিফ কে বুকে।
রহমান ভাই শিগ্রী পুলিসে ফোন করেন। ওহ খোদা কি ভয়ংকর। চিন্তা করেন ভাই আমরা একটু দেরী করলে এই বাচ্চাটার কি হইত। বলেই নার্স টি আবার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন আলিফ কে। তখন ই মা আর বাবা কেবিন এ আসল। নার্স মেয়েটি ইশারায় আলিফের হাত চেপে কানে কানে বললেন মা বাবাকে গুন্ডার ব্যাপারে যেন না বলে।
মা বাবা এসে আবেগে জড়িয়ে ধরে আলিফ কে। আলিফ মায়ের বুকে পরে ফোফাতে লাগল। আবেগ প্রশমের পর বলল
মা কি এনেছ খাব। ভীষণ খিদে পেয়েছে।
মা স্নেহে জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে আবার।
আজকে শুধু লিকুইড দিবেন , জুস সুপ শক্ত খাওয়ার দিবেন না কেমন। নার্স আর ওয়ার্ড বয় টি বারবার আদর করে চলে গেল।
মা আজকে এত ভয় পেয়েছি বলে ফেলতে গিয়ে জিহ্বা কামড় দিয়ে বসল আলিফ। মা বাবা অবশ্য কিছু বুঝতে পারেনি।
বাবা জড়িয়ে ধরলেন একহাতে। না বাবা ভয়ের কিছু নাই এইত ঠিক হয়ে গেছে।
রাত বার টা বাজে। এখন ও সব ফর্ম ফিলাপ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি থাকাতে আলিফ বাবা মা সহ হাসপাতাল এ। বাবা এসে জানালার পর্দা সরিয়ে বাহিরে তাকাতে গিয়ে চমকে উঠেন। হাসপাতাল এর বারান্দায় অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে কেও একজন এদিক তাকাচ্ছে। তার মুখে মুখোশ কেন ?তিনি ভেবে কোন কুলকিনারা করতে পারলেন না। কেও কি মজা করে ইচ্ছে করে মুখোশ টি পরে আছে।
কিছুক্ষণ পরে নার্স আসতে তিনি বলে ফেললেন , আপনাদের বারান্দায় একজন দেখতে পাচ্ছি মুখোশ পরা বুঝতে পারছিনা কি ব্যাপার , কিছুটা চিন্তাযুক্ত গলায় বললেন।
নার্স টির প্রতিক্রিয়া হল মারাত্মক। সে এবার বেশ ভয় পেয়ে এসে জানালা শক্ত করে বন্ধ করে দিল। রুম থেকে ফোন করল নিকটস্থ থানায়। অনুরোধ করল পুলিস আসার জন্য।
ব্যাপার কি এবার বাবার আশংকা চরমে পৌছল।
দুশ্চিন্তা করবেন না। পুলিস এখন ই চলে আসবে। তারা আপনাদের ঘর পর্যন্ত দিয়ে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা দরজা জানালা বন্ধ করে এই রুম এ বসে থাকেন। কেও নক করলে ও দরজা খুলবেন না যতক্ষণ না আমার স্বর শুনবেন বলে নার্স দরজা ভেজিয়ে চলে গেল।
ব্যাপার কি মা কাপতে লাগলেন ভয়ে আতঙ্কে।
রাত বাজে তিনটা। আর ও তিন ঘন্টা পার হয়ে গেল পুলিস এর দেখা নাই। দুশ্চিন্তায় মা বাবা অস্থির। মেয়ে ঘরে একা।
ঠিক তখন জানালায় আওয়াজ শোনা গেল টোকার।
টুক টুক টুক টুক।
(পরবর্তীতে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




