somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিন গভীর রাতে (গল্প )

০৭ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে হাটছে শুন্যে।অপূর্ব একজন স্বর্গীয় মানুষের হাত ধরে।স্বর্গীয় মানুষটি জিজ্ঞাসা করছে

কোথায় ব্যাথা তোমার?

সে তলপেটে হাত দিয়ে দেখাল।মানুষটি তার হাত রাখল যন্ত্রনার জায়গায়।আহ কি শীতল হাত শীতল অনুভূতি।আর কোন ব্যাথা নেই।এই অবস্থায় সে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল।পরপর কয়েকদিন হল সে এক আজানা মানুষকে স্বপ্নে দেখছে।মিরাকলের মত ই স্বপ্নের আগন্তক তার ব্যাথায় স্থানে স্পর্শ দিয়ে যায় এর পরের দিন আর তার কোন ব্যাথা বোধ হয়না।

সে এখন শুয়ে আছে হসপিটালের বেডে অনেকটা অচেতনের মত।পেইনকিলার ও স্লিপিং পিলের বদৌলতে।সিভিয়ার আলসারের ব্যাথায় অসহ্য হয়ে আগের সপ্তাহে এই হসপিটালে ভর্তি হয়েছে। হসপিটাল ডাক্তার এদের রকম সকম দেখে সে ভীষন নার্ভাস হয়ে পড়েছে।প্রথমে মনে করেছিল যেটাকে হালকা আলসারের পেইন ডাক্তারদের হাজার রকমের টেষ্টে সে ভীষন ঘাবড়ে গিয়েছে।অবশ্য তার কলিগ এর কাছে শুনেছে হসপিটালে ভর্তি হলে প্রাইমারী সব ব্লাড টেষ্ট তারা করে নেয়।এতে নাকি নার্ভাস হওয়ার কিছু ই নাই।সে আছে এখন টরন্টো ইষ্ট জেনারেল হসপিটালে।

পরেরদিন তাকে দেখতে আসল গ্যাষ্ট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে বড় ডক্টর জেন প্রেসলী।
কথায় কথায় যা জানল তার কোলন ক্যানসার।তার আয়ু বেধে দেওয়া হয়েছে আর মাত্র একবছর।

সারা পৃথিবী বিস্বাদ হয়ে গেল তার মুহূর্তে।অতি ভয় মৃত্যূ কে মৃত্যূ যন্ত্রনা কে।তাকে বলা হল এই বছরখানিক এই হসপিটালের নিয়মানুযায়ী চলতে পারে বা দেশে ও ফিরে যেতে পারে।তবে এখানে থাকলে ভাল হবে।

মাঝে মাঝে আপনার অনেক পেইন হবে ইনফেকশনের স্থানে ।সারভাইবের জন্য এই হসপিটালে থাকলে আপনার জন্য ভাল বললেন সমবেদনার স্বরে ডাক্তারটি।

ব্যাথার কথা শুনে ভয়ে সে কেদে ফেলল।মানসিক দৈহিক ভাবে সে অতি নরম মনের এক মেয়ে।সে যেমন অন্যের সামান্য কষ্ট ও দেখতে পারেনা তেমনি নিজের সামান্য দুঃখ কষ্টে অতি কাতর হয়ে পড়ে।সামান্য মাথা ব্যাথা হলে অস্থির হয়ে পড়ে।ক্যান্সার এর ক্ষত ব্যাথা কেমন হবে কে জানে ভয়ে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল অঝোর ধারায়।

ডাক্তার তার পাশে বসে পড়ল।

মিস শান্ত হোন।আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।অনেক সময় এই ধরনের পেশেন্ট অনেক দিন বেচে ও যায়।সায়েন্স চিকিৎসা বিজ্ঞান দিন দিন উন্নত হচ্ছে।খুব শীঘ্রই হয়তবা এমন রেমেডী আসবে আমাদের হাতের কাছে ক্যান্সার কিউর করে ফেলা যাবে সেকেন্ডে।

কোন কথায় তার মনে শান্তনা আসছেনা।সে আকূল হয়ে কেঁদে চলেছে।তার ছোট মেয়েটির কি হবে?কে তাকে দেখবে?তার মা বাবা ভাই বোন একে একে সবার কথা মনে পড়তে লাগল।

মেয়েকে রেখে এসেছে গত কয়েকদিন হল পাশের এক ভাবীর বাসায়।একে একে সবাইকে ফোন করে খবর নিল।কাওকে তার বর্তমান দুঃসংবাদ টি জানাল না।সে মানুষকে খারাপ খবর কখন ও জানাতে পারেনা।তার দূঃখ কষ্ট যন্ত্রনা শেয়ারের একমাত্র সাথী তার মহাপ্রভূ আল্লাহ।সে আল্লাহ কি সবসময় তার পৃথিবীতে অবস্থান করছে?নাহলে এই বয়সে তার কেন এত বড় রোগ?

হে প্রভূ আমার অবর্তমানে আমার মেয়েকে দেখে রাখ।ঢুকরে উঠে কাঁদতে থাকে সে।অসহায়ের মত প্রার্থনায় সমর্পন করে নিজেকে মহাপ্রভূর কাছে।আর তার কিই বা করার আছে?

বেশ কয়েকদিন পরে মেয়েকে দেখল।পাশের ভাবী নিয়ে এসেছে।মেয়ে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছে

ইউ নো লাভ মি।হোয়ার ইউ হ্যাড বিন?

হসপিটাল থেকে তাকে সূট ধরনের কেবিন দেওয়া হল তাতে বাচ্চার বেড দেওয়া হল।আপাতত বাচ্চা তার সাথে থাকবে কিছু দিন।মাকে পাশে পেয়ে সে বেশ উৎফুল্ল।খুশী হয়ে ছোটাছুটি করছে ।বিভিন্ন প্রশ্নে মাকে মাতিয়ে রাখছে।

আহ এত সুন্দর জীবন।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবে সে।এই জীবন ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হবে তার।

এর পরের মাস টা কাটল অনেক যন্ত্রনায়।যন্ত্রনায় যখন সে চোখে মুখে অন্ধকার দেখে তখন তাকে দেওয়া হয় চেতনানাশক ইনজেকশন এবং হাইডোজের পেইনকিলার।একইসঙ্গে চলছে কেমোথেরাপী।

এই যন্ত্রনার মধ্যে একরাতে দেখল অদ্ভুত স্বপ্ন।অদ্ভুত মনোরম এক জায়গা তাতে সাদা পোশাকের একজন মানুষের সাথে হাটছে হাটছে।ঘুম ভাঙ্গার পর বেশ প্রশান্তি অনুভব হয় শরীরে মনে।যেন কোন যন্ত্রনা অসুস্থতা কিছু ই নেই শরীরে মনে।

মাঝরাতে ডিউটি ডক্টর তাকে দেখতে এসে বিস্ময় বোধ করল।সে উঠে বসে পাশের কম্পিউটারে কাজ করছে।

হাই তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে গেট ফীল করছ?হাউ আর ইউ নাউ?

আই অ্যাম কমপ্লিট লী ওকে।মেয়েকে এনে দিল তার কাছে পাশের রুম থেকে।

বেশ অনেকদিন পরে সে নরমাল সব খাওয়ার খেল তৃপ্তি করে।খেয়ে বিশাল এক মগ কফি ও খেয়ে ফেলল।গত একমাস কোন হট ড্রিংকস মুখে দিতে পারেনি।খাওয়া শেষ করে আগেরমত স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সহ তৃপ্তির ঘুমে তলিয়ে পড়ল কোন ধরনের সিডেটিভ ছাড়া ব্যাথানাশক ওষধ ছাড়া।

আধোঘুমে আধো জাগরনে দেখল তার বিছানা থেকে এক বিশাল ব্রিজ ঝুলে আছে।ব্রিজের শেষ মাথায় দাড়িয়ে আছে আলোক শিখার মত অপরুপ একজন মানুষ।হাত ইশারায় তাকে ডাকছে।সে আস্তে আস্তে জানালার উপরে উঠে বসল।আস্তে আস্তে ব্রিজ দিয়ে হেটে চলতে লাগল সে।শেষ মাথায় যাওয়ার পর লোকটি তার হাত ধরে টেনে ব্রিজ থেকে উপরে তুলে বলল খুব মায়াবী স্বরে

এই যে তোমার ঘরে পৌছে গেছ।যাও ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।

পরের দিন সকাল নার্স আসল যথারীতি তার কেমোর জন্য।

নো নার্স আই ফীল কমপ্লিটলী ওকে।নো পেইন নো হেডেক।

পুনরায় তাকে ল্যাবে নেওয়া হল সব ডায়গনষ্টিক টেষ্টের জন্য।রিপোর্ট শেষে সবার চোখে মুখে বিষ্ময়।

মিস ইউ আর কমপ্লিটলী কিউরড।ইটস আনবিলিভেয়বল।উই চেকড এভরিথিংস।নো সিকনেস নো উনড।হোপফুলী ইউ উইল ডিসচার্জ টুমরো আফটার এ ফাইনাল চেক।

ডক্টর নার্স সবাই একে একে জড়িয়ে ধরে অনেকে গিফট পর্যন্ত দিয়ে গেল।ফাইনালী হেড অব গ্যাষ্ট্রোলজি এসে সরি বলল ভূল ডায়াগনোসিস হয়ে গিয়েছিল।দেখছি তোমার কোন ডিসিস ছিলনা।

হসপিটাল থেকে ডিসচার্জের পর আজ প্রায় তিনবছর হতে চলল।আজ সে অনেক সুখী ।মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে মনে পড়ে যায় সেই অদ্ভুত রাতটির কথা।খুব বেশী গবেষনায় ও সে যেতে চায়না।সে বেঁচে আছে সুখী একজন পরিতৃপ্ত মানুষের মত।বড় অবদান মনে করে এবং এই বিশেষ রাত টি অলৌকিক রাতের মত ডায়রীর পাতায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছে দিনতারিখ সহ হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা সহ।

সমাপ্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ৯:৪৭
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×