somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলিফ পড়ে স্ট্যান্ডার্ড সেভেন এ (কিশোর ক্ল্যাসিক )

১৩ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব -চার

আলিফদের বর্তমান বাসা টি অনেক পুরান। বাবা বলে ব্রিটিশ আমলে বানান এই বাড়ি। অবশ্য বাড়িটি একদিকে বেশ সুরক্ষিত এবং দুর্ভেদ্য। ঘুম ভেঙ্গে কিছুক্ষণ সে বুঝতে পারলনা কোন রুম এ আছে। জানালা র পর্দা সরে যাওয়ায় বাহিরের নিকষ কাল অন্ধকার চোখে পড়ল। এতে চমকে উঠল ভয়ে আলিফ। তাকিয়ে দেখে বাবা তার পাশে শুয়ে।

ও আজকে তাহলে আপু আর আম্মু একরুম এ ঘুমিয়েছে।হটাত বাহিরে কোন পাওয়ার বার্স্ট এর আওয়াজ পেয়ে চিত্কার দিয়ে উঠল সে ভয়ে। বাবা উঠে জড়িয়ে ধরল তাকে।

বাবা ভয় পেয়েছ ? আমি আছি ভয় নেই।

আলিফ এর তবু কাপুনি থামছেনা।

স্বপ্ন দেখেছ বাবা ? ভয় পায়না বলে ছেলেকে বারবার সান্তনা দিতে থাকেন তিনি। অবশ্য যে অবস্থায় পার করেছিল কাল রাত ভয় এখন ও থাকার ই কথা।

গভীর রাতে রহস্যময় টোকার আওয়াজ শুনে প্রথমে দরজা খুলতে চলে যাচ্ছিলেন আলিফ এর বাবা। আলিফ ফুফিয়ে উঠল ভয়ে। জোর করে বাবাকে নিরস্ত করল যাতে তিনি দরজা না খোলেন।

কেন আলিফ কি ব্যাপার ? বাবা উদ্বেগ চেপে রাখতে পারলেননা।

সে আর নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারলনা। এই পর্যন্ত যা যা হয়েছে রঞ্জন গুন্ডাগুলির সঙ্গে এবং এখানে কেউ তাকে মারতে এসেছিল সব বাবাকে গড়গড় সব বলে যেতে লাগল।

ওহ মাই গড এসব কি শুনছি আলিফের মা শুনছ ? আমার এতটুকু ছেলেকে করা মারতে চাচ্ছে ? ভয়ে আতঙ্কে তিনি দিশেহারা বোধ করছেন। তাতে তিনি ধৈয্য হারা হয়ে চিত্কার শুরু করেছেন।

ঠিক তখন দরজায় আবার শোনা গেল টুকটুক আওয়াজ। জানালার আচড়ের মত আওয়াজ। তিনজনে একসঙ্গে কেপে উঠলেন।

ছেলে এবং স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে ভরসা দিলেন।

ভয় নেই কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিস চলে আসবে। তার সেল থেকে থানায় ট্রাই করছেন। কিন্তু এখানে গ্রামীন এর নেটওয়ার্ক নেই।

অগত্যা আল্লাহ এর ভরসা করে রইলেন। দরজার ছিটকিনি শক্ত করে লাগিয়ে ভারী চেয়ার ঠেলে বসিয়ে দিলেন দরজায়। ঘর পরিষ্কার এর মফ পেয়ে হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকলেন দরজার দিকে তাক করে।

আর ও দুইমিনিট এইভাবে টোকার পর কিছুক্ষণ নিঃশব্দ হয়ে রইল।

হটাত তাদের সচকিত করে জানালার বাহির থেকে কেউ একজন ধাক্কা দিতে লাগল জানালায়

খোল জানালা খোল শিগ্রী কর্কশ স্বরে কেও একজন শাসিয়ে যাচ্ছে বাহির থেকে।

বাবা বলে আলিফ ভয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে রাখে।

জানালার বাহিরে বেশ হুটোপুটি ধ্বস্তাধ্বস্তির আওয়াজ শোনা গেল। কিছুক্ষণে দরজায় জোরে জোরে বাড়ি।

দরজা খুলুন আমরা পুলিস।

তবু ও বাবা দ্বিধাগ্রস্থ এরা সত্যি পুলিস তো ?

তখন ই নার্সের ভয়েস শোনা গেল।

স্যার আপনারা ঠিক আছেন তো শিগ্রী দরজা খুলুন।

আল্লাহ র নাম নিয়ে দরজা খুলে দিলেন আলিফের বাবা।

পুলিস ভিতরে ঢুকে সব দেখে শুনে বসলেন।

আলিফের বাবা উত্তেজনায় রীতিমত কানছেন।

আমার এতটুকু ছেলে কার কি করছে ? ওর এই বিপদ। প্লিস দেখুন ভাল করে। উত্তেজনায় হাপাতে হাপাতে কথাগুলি বললেন তিনি।

পুলিস এর হেড যিনি হাত ধরিয়ে বসিয়ে দিলেন কাছের সোফায়।

শান্ত হন। আমরা এসে গেছি। আপনার ছেলে এখন বিপদমুক্ত। দুইজন সেন্ট্রি কে দেখিয়ে বললেন এরা আপনাদের সার্বক্ষনিক পাহারায় থাকবে যতক্ষণ না ক্রিমিনাল আমরা ধরতে পারছি। একজন আপনাদের ঘরে থাকবে আরেকজন বাহিরের গেট এ পাহারায় থাকবে। এরা সবসময় আর্মড।কাজে একেবারে ভয়মুক্ত হয়ে যান। এখন পুরো ঘটনা বলুন কি হয়েছে ? ও হাসপাতাল এ বা কেন ? কিছু আমি শুনেছি এই নার্স এর কাছে। বাকি আপনি বলেন তারপর আমি আসছি তোমার কাছে বলে আলিফের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে হাসলেন।

বাহাদুর ছেলেরা ভয় পায়না কেমন ? আলিফের দিকে তাকিয়ে অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি।

এতক্ষণে আলিফ হালকা হয়ে একটু হাসতে পারল। পুলিস আন্কেল কে তার অনেক পছন্দ হয়েছে।

সব কিছু শুনে তিনি একটা ডায়রি লিখে নিলেন।

আর ও একঘন্টা পরে পুলিস এর গাড়িতে করে আলিফ রা রওয়ানা করল বাসার উদ্দেশ্যে।

নার্সটি দৌড়ে এসে জঙ্গল থেকে এক লোককে টেনে তুলল।

তোকে নিয়ে কোন কাজ ঠিক মত হয়না। বাচ্চাটার ব্যাগ এ হয়তবা ম্যাপ টা আছে তুই গাধার মত মুখোশ পরে না ঢুকে ঘরে ঢুকে ওর ব্যাগ চেক করলে তো শিউর হতে পারতি।

শিউর হতে পারতি ভেংচে বলে উঠল আরেকজন। তুই দেখিস নি কেন ? অনেকক্ষণ ছিলি তো ছেলেটার সাথে। উল্টা চিত্কার করে আমারে বিপদে ফেললি।

এখন এই নকশা পাওয়া তো আর ও কঠিন হয়ে গেল পুলিসের চোখ ফাকি দিয়ে। বলে উঠে সঙ্গী লোকটি।

আমি কালকে ওদের বাসায় যাব দেখতে নার্স টি বলে। আমাকে ওরা সন্দেহ করবেনা। দেখি তখন খোজার চেষ্টা করব।

দুজনের মুখে শয়তানী হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠল।

অপেক্ষা করে আছে পরের দিনের।

(পরবর্তীতে )
১০টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×