পরোপকার সর্বোৎকৃষ্ট মহৎ গুণ।সমাজে কিছু মানুষ জন্ম গ্রহণ করে যারা অন্যের কষ্টে ব্যথিত হয়।অন্যের বিপদ দেখে নিজ শ্রম সময় অর্থ ব্যয় করে অন্যের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।এমন মানুষদের মহানুভবতার কারণেই সমাজ ভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোর ভারসাম্য টিকে থাকে।বাংলাদেশ একটি সমাজ ভিত্তিক রাষ্ট্র। সমাজের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান এমন উদার মানুষেরাই করে থাকে।অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা এদের তুলনায় গৌণ থাকে।একে অপরের কাঁধে ভর করে আমাদের দেশ ও সমাজ এভাবেই চলছে।প্রবাসের বাংলা কমিউনিটিগুলোতে একই পরিস্থিতি বিদ্যমান।
আমরা জাতিগত মানুসিকতায় আত্মকেন্দ্রিক জাতি।নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের বৃহত্তর জাতিগত স্বার্থ বিকিয়ে দিতে আমাদের হৃদয় কাঁপেনা।ভোগের জন্য,স্বার্থের জন্য আত্মসত্তাকে অপমান করে অন্যের কাছে নতজানু হওয়ার প্রবৃত্তি আমাদের অস্থি মজ্জায়।ফলে অন্যের উন্নতি যেমন আমাদের সহ্য হয়না, তেমনি অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা আমাদের অসুস্থ করে তোলে।এই হীনমন্যতার কারণে নিজের উন্নতির জন্য যতটুকু সময় ব্যয় করা দরকার অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি অন্যকে হেয় করে আনন্দ লাভের নেশায়।
জাতিগত এই মানুসিকতার পরিবর্তন রাতারাতিই সম্ভব নয়।এ এক সুদীর্ঘ সাধনার যাত্রা।কাজের প্রশংসা আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা যোগায়, তবে এমন সমাজে যে মানুষগুলো আপামর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের অগ্রগতির ব্রত গ্রহণ করতে চান। তাদের প্রথমে চিন্তা করতে হবে তার ত্যাগের পুরষ্কার কোন বড় মঞ্চে উত্তরীয় পড়িয়ে নাও দেয়া হতে পারে, বরং লাঞ্ছনা,গঞ্জনা, অপবাদ তাদের কাছ থেকেই জুটতে পারে যাদেকে আপনি কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।তাই বলে আপনার থেমে যাওয়া ঠিক হবেনা।থেমে যাওয়া মানে, আপনার মহৎ হৃদয়কে অকৃতজ্ঞ আত্মকেন্দ্রিক মানুষের কুৎসিত হৃদয়ের কাছে পরাজয় ঘটানো।বরং আপনার আজকের ত্যাগ আগামীর একটি উদার মানুসিকতার জাতি গঠনের সোপান।যে স্বপ্ন আপনি লালন করে সুখ লাভ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


