প্রথম পর্ব........
"""""""""মাযহাব নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্নোত্তর """"""""""""""
মাযহাব কী এবং কেন?
আজকাল অনেক ভাইকে দেখা যায়
মাযহাব শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন।
আবার অনেকে জেনে শুনে মাযহাব
নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। তাদের জন্য এই পোষ্ট নয়। কারণ ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো সম্ভব,
কিন্তু জাগ্রত ব্যক্তিকে সম্ভব নয়। যারা সত্যিকার অর্থেই মাযহাব। নিয়ে জানতে চান তাদের জন্য
এই ছোট্ট প্রচেষ্টা।
মাযহাব নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মাযহাব কি এবং কেন?
মাযহাব কি রাসূল,সাহাবী এবং তাবেঈ
কারো মানার দলীল আছে?
কুরআন ও হাদীস দেখে আমল করলে অসুবিধা কোথায়? মুহাদ্দিসগন কি মাযহাব
মেনেছেন?
আমরা কেন চারটি মাযহাব থেকে বেছে বেছে মাসআলা আমল করতে পারব না? কেন একটি মাযহাবই মানতে হবে?
মাযহাব কি?
মাযহাব মানে মতামত, বিশ্বাস, ধর্ম, আদর্শ, পন্থা, মতবাদ, উৎস। মিসবাহুল লুগাত
(থানবী লাইব্রেরী-২৬২ পৃষ্ঠা)
মুজতাহিদ হল কুরআন সুন্নাহ, সাহাবাদের ফাতওয়া, কুরআন
সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের
ঐক্যমত্বে এবং যুক্তির নিরিখে কুরআন সুন্নাহ
থেকে মাসআলা বেরকারী গবেষক দলের নাম। যারা নিষ্ঠার সাথে বিভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ
করে কুরআন সুন্নাহর বাহ্যিক বিপরীতমুখী মাসআলার মাঝে সামাঞ্জস্যতা এনেছেন।
কুরআন সুন্নাহর একাধিক অর্থবোধক
শব্দের নির্ধারিত পালনীয় অর্থকে নির্ধারিত
করে দিয়েছেন। নতুন উদ্ভূত মাসআলার
শরয়ী মূলনীতির আলোকে সমাধান
বের করেছেন।
সেই সাথে নতুন নতুন মাসআলার কোন
মূলনীতির আলোকে হুকুম আরোপিত হবে যার বিধান সরাসরি কুরআন সুন্নাহে বর্ণিত নেই, সেই
মূলনীতিও নির্ধারিত করেছেন। মূলত সেই
গবেষক দলের নাম হল মুজতাহিদ।
আর তাদের উদ্ভাবিত মূলনীতির আলোকে বের হওয়া মাসআলার নাম মাযহাব।
মাযহাব মূলত এসেছে এই হাদীসটির মাধ্যমে…..
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু
হুরায়রা রা. হুজুরের সা. হাদীস
বর্ণনা করেছেন, যখন কোন হাকীম (বিচারক ও মুফতী) কোন বিষয়ে ইজতিহাদ করে এবং তা সঠিক হয়, তবে সে দ্বিগুন সওয়াব পাবে।
আর ইজতিহাদে যদি ভুল করে, তবুও
সে একগুন সওয়াব পাবে।
– বুখারী 2/109, মুসলিম 2/72,
তিরমিজী 193
#এবং_কেন?
মাযহাব পালনের কথা এই জন্য বলা হয়
যে, যেহেতু কুরআন সুন্নাহ এর বিস্তারিত জ্ঞান
সম্পর্কে বর্তমানে আলেম খুবই নগণ্য।
যারাও আছে তারাও অনেক কিছু বিষয়ে বিজ্ঞ নন যেসব বিষয়ে বিজ্ঞ হওয়া অতীব জরুরী।
যেমনঃ
# কুরআনে কারীমের কোন আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে গেছে?
# কোন আয়াতের হুকুম বহাল আছে?
# কোন আয়াত কোন প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে?
# কোন আয়াত(কুর’আন-হাদীস উভয়ই) কাদের উদ্দেশ্য করে নাজিলর হয়েছে?
# কোন আয়াতাংশের প্রকৃত অর্থ কি?
# আরবী ব্যাকরণের কোন নীতিতে পড়েছে এই বাক্যটি?
# এই আয়াত বা হাদীসে কী কী অলংকারশাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে? সেই সাথে হাদীস শাস্ত্রে নিম্নোক্ত বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী।
# হুজুর স. কর্তৃক ত্রিশ পারা কোরআনের
ব্যাখ্যায় রেখে যাওয়া দশ লক্ষ হাদীসের কয়টি হাদীস তিনি জানে?
# কোন হাদীসেরর হুকুম রহিত
হয়ে গেছে হাদীসটি সহীহ হলেও এবং কেন?
# কোন হাদীসের হুকুম বহাল আছে?
# কোনটি সহীহ হাদীস কোনটি দুর্বল হাদীস?
# কোন হাদীস কি কারণে দুর্বল?
# কোনো হাদীস দুর্বল হলে সেটা কোন রাবীর
কারণে দুর্বল হয়েছে?
# হাদীসের চেইনে এই দুর্বল রাবীর আসার
আগে হাদীসটি কি অবস্থায় ছিল?
# কোন হাদীস কী কারণে শক্তিশালী?
হাদীসের বর্ণনাকারীদের জীবনী একদম
নখদর্পনে থাকা আলেম বর্তমান যুগে একটাও নাই। অথচ হাদীসের বর্ণনাকারী শক্তিশালী না হলে তার দ্বারা শরয়ী হুকুম প্রমাণিত হয়না।
শুধু তাই নয়, সিয়াহ-সিত্তার কিতাবের লেখকের মতন হাদীস গবেষকও উনাদের পর আর কেউ জন্মাননি।
এই সকল বিষয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি পাওয়া যাওয়া দুস্কর। একেতু অধিকাংশ মানুষই আলেম না। আর
মুষ্টিমেয় যারা আসলেই আলেম তারাও উল্লেখিত সকল বিষয় সম্পর্কে প্রাজ্ঞ নয়। তাই যেখানে আলেমদেরই পক্ষে এত কিছু পুংখানুপুংখভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে আমাদের
মতন মূর্খ মানুষদের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ
থেকে সঠিক মাসআলা বের করা অসম্ভব।
বাকি...........চলবে.........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




