somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আতাতুর্ক সফর!

১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের আনকারা সফরটি ছিল মূলত তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ এম্বাসির দেয়া গ্রাজুয়েশন সংবর্ধনায় অংশ নেয়া আর নতুন করে মাস্টার্সের জন্য পাওয়া স্কলারশীপের ডকুমেন্টসগুলো সাইন করিয়ে নিয়ে আসা।


আতাতুর্কের মাজারের সামনে আমরা

প্রথমদিন গিয়েই মেহমান হলাম এস্কেশাহীরের সাবেক Jannatun Nayeem আপুর বাসায়। সেখান থেকে আপুর সাথে একসাথে এম্বাসির প্রোগামে অংশ নিয়ে উঠলাম তার্কিশ সেন্সর বোর্ডে কর্মরত Ahmet Akalın এর বাসায়। এম্বাসির প্রোগ্রামে অনেক দিন পর তুরস্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে দেখা হয়ে বেশ ভাল লাগল। বউকে ভাবীদের আসরে বসিয়ে দিয়ে আমিতো জমিয়ে আড্ডা দিয়েছি।

আমাদের শহর থেকে আনকারার দূরত্ব ২৩৫ কিলোমিটার। তবে স্পীড ট্রেনে এই যাত্রায় সময় লাগে ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট। তার্কিশ মিডিয়ার ভাষ্য মতে আনকারাতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ একটু বেশী। তাই সেখানে বেড়ানোর খুব একটা ইচ্ছে আমাদের ছিল না। তবে, যেদিন কাজ সাইন করাতে বের হয়েছিলাম সেদিন বেড়িয়েছিলাম কিছুটা। আর তার আগের রাতে। আহমেদ সাহেব নিজের গাড়িতে করে লম্বা পথ ঘুরিয়েছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আহমেদ সাহেবের মেহমানদারী ছিল এমনই যে, আমার বিয়েতে আসতে পারে নাই তাই তুরস্কের কালচার অনুয়াযী মারিয়াকে একটি সোনার পয়সা উপহার দিয়েছে।

প্রথমদিন রাতে গিয়েছিলাম প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বাসভবনে। পাশেই বিশাল মিল্লেত মসজিদ আর সু বিশাল লাইব্রেরী। যদিও ভাইরাসের কারনে লাইব্রেরী এখন আর রাতে খোলা থাকে না। মসজিদ ঘুরে আর দূর থেকে এরদোয়ান সাহেবের বাড়ি খানা দেখেই ফিরে এসেছি। শুনেছি এই প্রাসাদের কর্মচারীর সংখ্যা ৪ হাজারের অধিক। সোনায় আবরিত এক একটি পানির কলের দাম প্রায় ২ লাখ টাকার মত। এই মহলের জন্য চলমান থাকা সমালোচনা এখনও বিদ্যমান।


সেই বাড়ী

পরেরদিন গিয়েছিলাম তুরস্কের জনক আতাতুর্কের কবরে। এর আগে যদিও পুরাতন একটি কারাগার, যা এখন মিউজিয়াম দেখতে গিয়েছিলাম। তুরস্কের বিখ্যাত সব মানুষদের রাখা হয়েছিল এখানে। ২০০৪ সালে তুরস্কের আইনে ফাঁসি তুলে দেওয়ার আগ অব্দি মোট ২৭ জন এবং এর মধ্যে আতাতুর্ক একাই তার বিরোধী ৬ জনকে এখানে ফাঁসি দিয়েছিল। পাশে একজন বলছিলেন, মানুষ শুরুতে এখানে আসলে এরপর আর আতাতুর্কের কবর দেখতে যেতে চায় না।

আতাতুরর্কের মাজারে আমি এর আগেও বেশ অনেক বার গিয়েছিলাম। আমার বউকেও একটা ঐতিহাসিক মানুষ সম্পর্কে কিছু জানাতেই এখানে আবার যাওয়া। তবে এখানে তাকে সব থেকে বেশি অবাক করেছে, প্রহরী সেনারা। যারা প্রায় ৬ ঘন্টা একাধারে কোন ধরনের নড়াচড়া ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেন। মারিয়া শুরুতে এদের পুতুল ভেবে, পরে মানুষ পরে আবার পুতুল পরে আবার মানুষ হওয়ার বিষয়টিটে সিদ্ধান্ত ঠিক রেখেছে। আতাতুর্কের ব্যবহার করা নৌকা, আর করোনার কারনে বন্ধ থাকা মিউজিয়ামের পাশে থেকে হেটে ফিরে এসেছি। তবে এখানে শপে আতাতুর্কের সাইন সংগবলিত কলম থেকে শুরু করে বহু কিছুই পাওয়া যায় যার মোটামুটি মূল্য প্রায় বাংলাদেশে একজন গার্মেন্টস কর্মীর একমাসের বেতনের কাছাকাছি।


তার্কিশরা একে আনিতকাবির বলে
মারিয়া, আনকারার বালগাটের একটা দোকানের সুপের খুব প্রেমে পরে গিয়েছে। যদিও সুপ তার সব সময়ই ভাল লাগে। তবে সে ভেড়ার গোশত থেকে বরাবরই নসিকা ছিটিয়ে মজাদার কেল্লে পাসা ছুপ থেকে মাহরুম হয়েছে। আবারও ফিরে এলাম সেই সুপের রেস্টুরেন্টে। আহমেদ সাহেব সহ যে যার পছন্দ মত খেয়ে দেয়ে মোটা তাজা হয়ে সন্ধায় ফিরে এসেছি আমাদের প্রিয় শহরে।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:১৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াত শিবির রাজাকারদের ফাসির প্রতিশোধ নিতে সামু ব্লগকে ব্লগার ও পাঠক শূন্য করার ষড়যন্ত্র করতে পারে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১১:৪৯


সামু ব্লগের সাথে রাজাকার এর সম্পর্ক বেজি আর সাপের মধ্যে। সামু ব্লগে রাজাকার জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ। তাদের ছাগু নামকরণ করা হয় এই ব্লগ থেকেই। শুধু তাই নয় জারজ বেজন্মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাওরের রাস্তার সেই আলপনা ক্ষতিকর

লিখেছেন সেলিনা জাহান প্রিয়া, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১১:৫৯

বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন উপলক্ষে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম আলপনা আঁকা হয়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের ‘অলওয়েদার’ রাস্তায়। মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আলপনার রং পানিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির গল্প, গল্পের ছবি

লিখেছেন আরেফিন৩৩৬, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৩:১৫



সজিনা বিক্রি করছে ছোট্ট বিক্রেতা। এতো ছোট বিক্রেতা ও আমাদের ক্যামেরা দেখে যখন আশেপাশের মানুষ জমা হয়েছিল তখন বাচ্চাটি খুবই লজ্জায় পড়ে যায়। পরে আমরা তাকে আর বিরক্ত না করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালির আরব হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা!

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:১০



কিছুদিন আগে এক হুজুরকে বলতে শুনলাম ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নাকি তারা আমূল বদলে ফেলবেন। প্রধানমন্ত্রী হতে হলে সূরা ফাতেহার তরজমা করতে জানতে হবে,থানার ওসি হতে হলে জানতে হবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাসের কি প্রমাণ আছে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩১



এক অবিশ্বাসী বলল, বিশ্বাসের প্রমাণ নাই, বিজ্ঞানের প্রমাণ আছে।কিন্তু অবিশ্বাসের প্রমাণ আছে কি? যদি অবিশ্বাসের প্রমাণ না থাকে তাহলে বিজ্ঞানের প্রমাণ থেকে অবিশ্বাসীর লাভ কি? এক স্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×